লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক | বিশ্ব | DW | 11.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

লাদাখ নিয়ে ভারত-চীন বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক

লাদাখ প্রসঙ্গে বৈঠক করলেন ভারত ও চীনের বিদেশমন্ত্রী। তবে সমাধানসূত্র নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

প্রায় দু'ঘণ্টা বৈঠকের পর কিছুটা হলেও মতৈক্যে এলো ভারত এবং চীন। বৃহস্পতিবার মস্কোয় মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন ভারত এবং চীনের বিদেশমন্ত্রী। সূত্র জানাচ্ছে, সেই বৈঠকে পাঁচটি পয়েন্ট স্থির করা হয়েছে। ওই পাঁচ পয়েন্টের মাধ্যমেই সীমান্তে ভারত ও চীনের সংঘাত কমানোর চেষ্টা হবে বলে দুই দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর আগেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বৈঠক হয়েছিল। সেখানেও ডি এসকালেশন বা সৈন্য পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটেছে। এ দিনের বৈঠকেও যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা পুরনো ালোচনার সূত্র ধরেই।

মস্কোয় এর আগে বৈঠক করেছেন ভারত এবং চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দু'জনের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে দুই পক্ষই নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে দুই দেশই স্বীকার করে, ভারত এবং চীন বিশ্বের দু'টি শক্তিশালী রাষ্ট্র। নিজেদের মধ্যে সংঘাতের বদলে সুসম্পর্ক রক্ষা করাই তাদের কর্তব্য। বস্তুত, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে দুই পক্ষেরই লাভ বলে স্বীকার করেছেন দুই প্রতিনিধি। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কিছু কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক আছে। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত তার সমাধান হতে পারে না। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানসূত্র খুঁজতে হবে।

সূত্র জানাচ্ছে, বৈঠকে ভারত চীনকে বলে, ১৯৯৩ এবং '৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল এখন লাদাখ সীমান্তে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। চীন যে ভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করেছে, তা চুক্তির পরিপন্থী। ফলে দ্রুত চীনকে সেনা এবং যুদ্ধাস্ত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বস্তুত, বৃহস্পতিবারই সেনা সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছিল, সীমান্তের ধারে চীন ১৫০ যুদ্ধবিমান এবং সারফেস টু এয়ার মিসাইল এনে রেখেছে। 

চীনও বৈঠকে ভারতকে পাল্টা আক্রমণ করে। তাদের দাবি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারত ফরওয়ার্ড পোস্ট বানিয়ে রেখেছে। ফলে ভারতকে অবিলম্বে সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে। চীনের সেনাকে সতর্কবার্তা দিতে ভারত শূন্যে গুলি ছুড়েছে। এ কাজও বন্ধ করতে হবে। ভারত আবার তার জবাবে বলেছে, বর্শা এবং কাঁটাতার লাগানো অস্ত্র নিয়ে চীনের সেনা ভারতীয় সেনাকে মারার চেষ্টা করেছে। প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই জানিয়েছে, যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায় তারা। এবং সীমান্তে এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে, তা কোনও দেশের পক্ষেই কাম্য নয়। ফলে দ্রুত যাতে সেনা পিছিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে। স্থানীয় স্তরের সীমান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য ফের সেনা স্তরের বৈঠক হবে বলেও দুই পক্ষ জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বৃহস্পতিবারের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এর ফলে লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কমবে, এখনই তা মনে করার কারণ নেই। মনে রাখা দরকার, মস্কোয় যখন দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সে সময়েই ভারতে রাফালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব আক্রান্ত হলে ভারত উচিত জবাব দেবে। চীন ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে বলেও প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজনাথ। 

বস্তুত, গালওয়ানের ঘটনার পরেও ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল এবং চীনের বিশেষ প্রতিনিধি তথা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছিল। তখনও সীমান্ত থেকে সৈন্য এবং কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে দুই দেশ ঐক্যমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গালওয়ান অঞ্চলে এক কিলোমিটার পিছিয়ে ছিল চীন। প্যাংগংয়ে ফিংগার পয়েন্ট চার এবং পাঁচের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে কিছু কাঠামো সরিয়েছিল। কিন্তু এলাকা থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়নি। সেপ্টেম্বরে যে স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে, প্যাংগংয়ের উত্তর প্রান্তে ফিঙ্গার পয়েন্ট পাঁচের পিছনে বিপুল পরিমাণ কাঠামো তৈরি করেছে চীন। 

ভারতও ফিঙ্গার পয়েন্ট চারে স্ট্র্যাটেজিক উচ্চতা দখল করেছে। প্যাংগংয়ের দক্ষিণ প্রান্তেও ভারত দু'টি পাহাড় দখল করেছে। যেখান থেকে চীনের সেনার মুভমেন্ট দেখা যায়। যা নিয়ে নতুন করে প্যাংগংয়ের দক্ষিণে দুই তরফের সেনার সংঘাত শুরু হয়েছে। 

উচ্চতাই শেষ কথা

বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, লাদাখের মতো সীমান্তে উচ্চতা খুব জরুরি বিষয়। পাহাড়ের দখল যে পক্ষের থাকবে, স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে তারা এগিয়ে থাকবে। ভারত-চীন সীমান্তে প্যাংগংয়ের ফিঙ্গার পয়েন্ট অঞ্চলে চীনের এ ধরনের কিছু স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান আছে। সে কারণেই ফিঙ্গার পয়েন্ট নিয়ে ভারতীয় সেনার সঙ্গে পিপলস লিবারেশন আর্মির দীর্ঘদিনের বিতর্ক। প্যাংগংয়ের দক্ষিণ অঞ্চলে এবং ফিঙ্গার পয়েন্ট চারে ভারত সম্প্রতি কয়েকটি পাহাড়ে ফরওয়ার্ড পোস্ট তৈরি করেছে। চীন বার বার সেখান থেকে ভারতীয় সেনাকে সরে যেতে বলছে। কূটনৈতিক বৈঠকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা হলেও শেষ পর্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক এলাকা ছেড়ে দুই পক্ষের সৈন্য পিছিয়ে যাবে কি না, সেটা একটি বড় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক অতীতে তা ঘটেনি। ফলে এ বারেও খুব সহজে তা হবে, এমনটা মনে করছেন না অনেকেই।

বিজ্ঞাপন