‘লাজ’ ভাঙাতে সিঙ্গাপুরি স্টাইল | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.08.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘লাজ’ ভাঙাতে সিঙ্গাপুরি স্টাইল

বিয়েতে অনাগ্রহ, আর এই কারণে জনসংখ্যা বাড়ছে না সিঙ্গাপুরে৷ তাই তরুণ-তরুণীদের ‘লাজ’ ভাঙাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷

default

সিঙ্গাপুরের লাজুক প্রজন্ম !

ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর, লোকসংখ্যাও কম৷ এখন তা আরো কমের দিকে৷ কারণ নাকি লজ্জা৷ ‘লাজুক' তরুণ-তরুণীরা বিয়ের পিঁড়িতে বসে চাচ্ছেন না৷ আর তার অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে বাড়ছে না জনসংখ্যা৷ এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে৷ তাই তরুণ-তরুণীদের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ যেন বাড়ে সেই জন্যই প্রচারাভিযান চালানোর এই উদ্যোগ৷

সিঙ্গাপুরের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি দরপত্রের নোটিশ ঝুলিয়েছে তাদের ওয়েবসাইটে৷ তাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আহ্বান রাখা হয়েছে, একটি প্রচারাভিযান চালানো হবে৷ কারা চালাবেন, তারা দরপ্রস্তাব জমা দিন৷ বিষয়টি হলো, কী কী করলে বিয়ে আর সন্তান পয়দা করতে সবাই আগ্রহী হবে, তান সুলুকসন্ধান করতে হবে৷ দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে এর বেশি কিছু বলা হয়নি৷ যেটুকু উহ্য রেখেছে সরকার, তা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে সেদেশের পত্রিকা স্ট্রেইট টাইমস৷ তারা বলেছে, একটি টিভি বিজ্ঞাপন তৈরি হবে৷ বাংলাদেশ, ভারত, চীনের মতো দেশে যখন প্রচার হয়, সন্তান একটি হলে আর দুটি নয়৷ তখন সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞাপন হবে - বিয়ে করুন আর বাচ্চা-কাচ্চায় ভরিয়ে দিন দেশ৷ এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য তারাই, যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে৷

Singapur Pamoramabild

ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর

পরিসংখ্যান বলছে, সিঙ্গাপুরে বিয়ের সংখ্যা ২০০৯ সালে আগের বছরের চেয়ে এক শতাংশ কমেছে৷ নারী প্রতি শিশুর সংখ্যাও প্রায় এক শতাংশ কমে এখন মাত্র এক দশমিক ২৩৷ সরকারের এই চেষ্টায় যে যুব নর-নারীরা পরস্পরের প্রতি ঝুঁকে পড়বে, তেমন লক্ষণ অবশ্য এখনি দেখা যাচ্ছে না৷ বার্তা সংস্থা এএফপি প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছিল সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া কো হুন কিয়াত-এর৷ কিয়াতের চোখে পুরো ব্যাপারটি হাস্যকর৷ সরকারের প্রচারে বিয়েতে আগ্রহী হবেন কি না - জানতে চাইলে তাঁর উত্তর ছিল - ‘‘কার্তিকের কুকুর হওয়ার মতো অবস্থা আমার এখনো হয়নি৷'' অর্থাৎ, সরকারের পরিকল্পনায় অনেকটা জল ঢেলে দিলেন ২৫ বছর বয়সি এই যুবা৷

তবে সরকার কিন্তু বেশ ভাবিত, তা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং-এর কার্যক্রমে স্পষ্ট৷ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে চীনের চান্দ্র বৎসর, এটাকে বলা হচ্ছে ‘বাঘ বর্ষ'৷ এই বছরে সন্তান জন্ম নিলে পশু স্বভাবের হবে - এমন একটা কুসংস্কার আছে৷ তাই অনেক দম্পতিই সন্তান নিচ্ছেন না৷ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, কুসংস্কারের এই বলয় ছিন্ন করুন৷ জন্ম দিন আরো সন্তান৷

সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা ৫০ লাখের মতো, এর মধ্যে ১০ লাখই অভিবাসী৷ অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুর সরকার নাকি নাগরিকদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপ করে৷ বিয়ে আর সন্তান বাড়ানোর উদ্যোগও তারই নজির বলে মনে করছেন অনেকে৷ আসলে তরুণ-তরুণীরা এত লাজুক হয়ে পড়েছে, সরকার আর কী করবে? জনসংখ্যা বাড়ানো বলে কথা৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন