লবি নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.03.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

লবি নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনা

সাধারণ মানুষ লবিং নিয়ে কী ভাবছে ? লবিং’এর প্রয়োজনীয়তা আদতে রয়েছে কী ? ডিটমারের সঙ্গে যারা বার্লিনে গিয়েছিলেন তারা অনেকেই জানালেন তাদের মত৷

default

সংসদের বাইরে আলোচনার শুরু এভাবেই

লবিং'এ এ আগ্রহী একজন বললেন, ‘‘এই বিষয়টিতে আমার আগ্রহ রয়েছে দেখেই আমি আরো জানতে চাই, কাছ থেকে দেখতে চাই৷ পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে তা আমি সত্যিই জানতে চাই৷''

আরেকজন বললেন, ‘‘আমি লবি সম্পর্কে যা ভেবেছিলাম, সে তুলনায় বাস্তব চিত্র বেশ ভালই বলতে হবে৷ আমি সবসময়ই ভাবতাম বড় বড় কারখানা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলে রয়েছে অশুভ কোন হাত, যারা সবসময়ই অর্থ আর ক্ষমতা দেখাতে চায়৷ বার্লিনে আমাদের এই যাত্রা অনেক কিছুই বেশ খোলসা করেছে৷ কে বামপন্থী রাজনীতিবিদ, কী তার স্বার্থ - সব কিছু সম্পর্কেই একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে৷''

Holzer

এই ভদ্রলোক একজন ব্যবসায়ী এবং একজন লবিস্ট

আরেকজনের মত, ‘‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি৷ যে কারণে এই লবিং এবং লবিজম আমার কাছে নতুন কিছু না৷ কিন্তু, খুব সাধারণ মানুষের কাছে এই লবিং'এর জগৎ সহজে বোধগম্য হবে না৷''

কোলনের লবি কন্ট্রোল সংস্থা নিয়মিতভাবেই আগ্রহীদের নিয়ে বার্লিনে যায় – খুব কাছ থেকে লবিং সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য৷ মিরিয়াম স্ট্রাইট তাঁর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বোঝাচ্ছেন লবিং বিষয়টি কীভাবে কাজ করে৷ তারা দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন এক লবিং সংস্থার সামনে, যারা আরডাব্লুই অর্থাৎ জার্মানির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে৷

Belgien EU Demonstration gegen Lobbyismus in Brüssel

ইউরোপীয় ইউনিয়নে লবিজমের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ

রাজনীতিক এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য তারা এই কাজের নাম দিয়েছে ‘গ্রিন ওয়াশিং'৷ মিরিয়াম জানালেন, জ্বালানী উৎপাদনকারী প্রতিটি সংস্থাই নিজেদের পরিবেশ বান্ধব বলে দাবি করে৷ জার্মানিতে যে সব কোম্পানি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমন করে আরডাব্লুই হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম৷ এর ধারে কাছে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই৷ বিগত বছরগুলোতে জ্বালানী উৎপাদনের জন্য তারা কাজ শুরু করেছে গ্যালাপাগস দ্বীপে৷ বলা হচ্ছে আরডাব্লুই সেখান থেকে খুব অল্প পরিমাণ মুনাফা করবে এবং সেখানে পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানিও উৎপাদন করা হবে৷ যে কেউই বলতে পারে, ঐ সংস্থা আরডাব্লুই'র হয়ে যে জয়গান করছে, তার সঙ্গে আরডাব্লুই'র মূল কাজ কর্মে পার্থক্য অনেক৷

Symbolbild Lobbyismus in Brüssel

সখ্য, দক্ষতা এবং আর্থিক ক্ষমতার এভাবেই শুরু

১৮ বছরের স্কুল ছাত্র আর্মিন ব্যার্নসে কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিল না এসব৷ আর্মিন সবুজ পৃথিবী দেখতে চায়৷ ডিসেম্বর মাসে কোপেনহাগেনে পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ওপর নজর ছিল তার৷ নিজেদের পরিবেশ বান্ধব দাবি করে বলে কোম্পানিগুলো ভাবমূর্তি রক্ষার যে চেষ্টা করে চলেছে – সে কিছুতেই তা মেনে নিতে পারছে না৷ সে জানাল, ‘‘আইন কীভাবে প্রণয়ন করা হয়, কীভাবে তা পালন করা হয় – আমাদের স্কুলে সে বিষয় পড়ানো হয়৷ আমাদের বার্লিনে নিয়ে আসা হয়েছে জার্মান সংসদে কীভাবে একটি আইনকে প্রথমে বিল হিসেবে উত্থাপন করা হয়, সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়, তা দেখাতে৷ এখানে এই লবিজমের মধ্যে আমরা দেখছি কীভাবে বিভিন্ন দল বিলটিকে ব্যাখ্যা করছে, তার বিরোধিতা করছে৷ আমি খুবই অবাক হচ্ছি দেখে যে, রাজনীতিকরা কীভাবে, খুব সহজেই এসব লবিগ্রুপ থেকে অর্থ গ্রহণ করছে৷ শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কোন কিছু না করেই !''

প্রতিবেদক : মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদক: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়