লন্ডন শহরে রংয়ের ছোঁয়া দিচ্ছেন ইংকা | অন্বেষণ | DW | 16.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

লন্ডন শহরে রংয়ের ছোঁয়া দিচ্ছেন ইংকা

পাবলিক স্পেসে শিল্পকর্ম সৃষ্টি করলে সেটি আর শিল্পীর নিজের থাকে না৷ সাধারণ মানুষের জিম্মায় চলে যায়৷ নিজের প্রেরণা তুলে ধরতে লন্ডন শহরে এমন অনেক সৃষ্টি করে চলেছেন ব্রিটিশ-নাইজেরীয় এক শিল্পী৷

ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ডিজাইনার ইংকা ইলোরি লন্ডনের অভিযাত পাড়া মেফেয়ারে নিজের সৃষ্টিকর্ম দেখাচ্ছেন৷ ইনস্টলেশনের নাম ‘গাছপালার উপর আমাদের আস্থা আছে'৷ এমন উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইংকা বলেন, ‘‘আমি একটা ‘সেফ স্পেস' তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যেখানে গাছপালাভরা সবুজ পরিবেশে গভীর চিন্তা ও ধ্যানের সুযোগ রয়েছে৷ একা থাকা যায়, কারও সঙ্গে কথা বলা যায়, ভাবনাচিন্তা করা যায়, বই পড়া যায়৷ সবুজ পরিবেশে ইচ্ছামতো সব কিছুই করা যায়৷''  

৩৪ বছর বয়সি লন্ডনের এই বাসিন্দা রংয়ের বাহার পছন্দ করেন এবং শহরের সব প্রান্তে রংয়ের ছোঁয়া দিতে চান৷ শহরের দক্ষিণ পশ্চিমে এক রেল ব্রিজের নীচে অবহেলিত ও মলিন পরিবেশকে ‘হ্যাপি স্ট্রিট' ইনস্টলেশন দিয়ে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন তিনি৷

এমন ইতিবাচক বার্তার মাধ্যমে শহুরে পরিবেশের বিষণ্ণতা দূর করতে চান ইংকা৷ তাঁর মতে, ‘স্টুডিওতে কোনো ইনস্টলেশন তৈরি করলে সেটা আমার হয়৷ আমি সেই সৃষ্টির মালিক৷ কিন্তু প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হলে সেটা আর আমার থাকে না৷ সেটা সাধারণ মানুষের হয়ে যায়৷ তারা নিজেরাই সেটি বিশ্লেষণ করে সংজ্ঞা দিতে পারেন৷ তখন সেই সৃষ্টিকর্ম সমাজের অংশ হয়ে পড়ে৷ মানুষ সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের পরিবেশ সম্পর্কে তাদের গর্ব হয়৷''

তিনি এরই মধ্যে আর্ট গ্যালারি ও বিভিন্ন ইভেন্টের জন্য অনেক কাজ করেছেন৷ যেমন ২০১৯ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্লেগ্রাউন্ড সৃষ্টি করেছিলেন৷ ইংকার মাথায় আইডিয়ার অভাব নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি পাবলিক স্পেসের জন্য আরো সৃষ্টি করতে চাই৷ আমার হৃদয় সেখানেই রয়েছে৷ সেই কাজ করতে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে৷ কারণ আমি ডিজাইন করে রেখে দিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতে ভালোবাসি৷''

নাইজেরিয়ার অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান বছর দশেক আগে ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন৷ বাতিল চেয়ার দিয়ে তিনি নতুন এক সৃষ্টি করে নজর কাড়েন৷ তাঁর সৃষ্টিকর্মে নিজের শৈশব এবং আফ্রিকার পশ্চিম অঞ্চলের লোককথা ও কাপড়ের নক্সার প্রতিফলন চোখে পড়ে৷ নিজের পরিচয় ব্যাখ্যা করে ইংকা ইলোরি বলেন, ‘‘কাহিনি শোনাতে গেলে আমার নিজের কথাই বলতে হয়৷ শিশু হিসেবে সব সময়ে মনে হতো ব্রিটিশ ও নাইজেরীয় হিসেবে দুটি জীবন ও সংস্কৃতির মধ্যে আমি রয়েছি৷ আমি দুটি সংস্কৃতিই ভালোবাসি, কিন্তু কীভাবে সেগুলির প্রতি সম্মান জানাবো? আসবাবপত্রের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে আমি তা করতে পারি৷ কম বয়সে আমি নাকি নিজের মতো করে গল্প বলতাম৷''

করোনা মহামারির শুরুতে প্রথম লকডাউনের সময়ে কাকতালীয়ভাবে সংসারে প্রয়োজনীয় বস্তুর এক কালেকশন সৃষ্টি হয়েছিল৷ ইংকা বলেন, ‘‘রং নিয়ে আমার পাগলামি অবশ্যই বাবা-মার কাছ থেকে পেয়েছি৷ সব সময়ে ভাবতাম, আমার মা কোথা থেকে রংয়ের প্রেরণা পান! অবশ্যই তাঁর মায়ের কাছ থেকে, কারণ এমনটা বংশানুক্রমে চলে আসছে৷ রং আসলে আমাকে ইতিবাচক ও ভালো অনুভূতি দেয়৷''

দিন হোক বা রাত – ইংকা ইলোরি বড় শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে ইতিবাচক অনুভূতি দেন৷ অনেকেই তাতে সাড়া দেন৷

ডিনা ওসিনস্কি/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়