‘লকডাউন লাইট’ কি জার্মানির করোনা সংকট কমাতে পারবে? | বিশ্ব | DW | 02.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

‘লকডাউন লাইট’ কি জার্মানির করোনা সংকট কমাতে পারবে?

সোমবার থেকে ‘লকডাউন লাইট’ চালু করে জার্মানি করোনা সংক্রমণের হার কমানোর প্রচেষ্টা শুরু করলো৷ ইউরোপের অনেক দেশে আরও কড়া বিধিনিয়ম চালু করা হয়েছে৷

গত কয়েক মাসে বিশেষ চাপ অনুভব না করলেও জার্মানিতে করোনা মহামারি এবার জাঁকিয়ে বসছে৷ বেড়ে চলা সংক্রমণের হার মোকাবিলা করতে সোমবার থেকে সে দেশে এক মাসের জন্য আরও কড়া বিধিনিয়ম চালু করা হচ্ছে৷ চার সপ্তাহের জন্য এই ‘লকডাউন লাইট’ মানুষের মেলামেশা যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে সংক্রমণের গতির পথে বাধা সৃষ্টি করবে, এমনটাই আশা করছে কর্তৃপক্ষ৷ মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে এখন এমন ‘ত্যাগ’ স্বীকার করলে ডিসেম্বর মাসে বড়দিন উৎসব কিছুটা হলেও পালন করা সম্ভব হবে৷ উল্লেখ্য, রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের সূত্র অনুযায়ী রবিবার জার্মানিতে নতুন করে ১৪ হাজার ১৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন৷ অর্থাৎ গত কয়েক দিনের তুলনায় সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে৷

বার-রেস্তোরাঁ, সিনেমা-থিয়েটার ইত্যাদি বন্ধ হবার আগে সপ্তাহান্তে জার্মানির মানুষ যতটা সম্ভব সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিয়ে নিয়েছেন৷ বিশেষ করে মিউনিখ ও বার্লিন শহরে বাড়তি উৎসাহ চোখে পড়েছে৷ সোমবার থেকে মিউজিয়াম ও সাংস্কৃতিক মনোরঞ্জনের সব অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকছে৷ শরীরচর্চা বা শরীরের যত্ন নিতে জিম, সুইমিং পুল, বিউটি ও মাসাজ পার্লার, উলকি আঁকার দোকানও খুলতে পারবে না৷ তবে চুল কাটার সেলুন খোলা থাকবে৷ এমনকি স্টেডিয়ামে গিয়ে বুন্ডেসলিগার ফুটবল ম্যাচ দেখারও উপায় থাকবে না৷ মোটকথা প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ দুটি পরিবারের দশ জনের বেশি মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

এত বাধা সত্ত্বেও জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালু রাখতে স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন খোলা থাকছে৷ বেশিরভাগ দোকানবাজারও খোলা থাকছে, যদিও বদ্ধ জায়গায় ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ অর্থাৎ মাথা গুনে দোকানে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে৷ যাদের পক্ষে ঘরে বসে ‘হোম অফিস' করা সম্ভব, তাদের দপ্তরে না যাবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে৷

বাকি বিশ্বের তুলনায় ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি সম্প্রতি অনেক অবনতি হয়েছে৷ মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে আক্রান্তদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের হিসেব অনুযায়ী রবিবার আক্রান্তদের সংখ্যা এক কোটির মাত্রা অতিক্রম করেছে৷ অথচ সেখানে ৫০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে প্রায় নয় মাস সময় লেগেছিল৷ বিশ্বের দশ শতাংশ জনসংখ্যার ভাগীদার হয়েও ইউরোপে এখনো পর্যন্ত ২২ শতাংশ করোনা সংক্রমণ ঘটেছে৷ গত মাসে ল্যাটিন অ্যামেরিকা ও এশিয়াও এক কোটির মাত্রা পেরিয়ে গিয়েছিল৷ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখেরও বেশি৷

পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে জার্মানি ছাড়াও ফ্রান্স, ব্রিটেন, পর্তুগালের মতো দেশ নানা মাত্রায় লকডাউন চালু করেছে৷ স্পেন ও ইটালিতেও আরও কড়া বিধিনিয়ম কার্যকর করা হয়েছে৷ এমন পদক্ষেপের মেয়াদ শেষ পর্যন্ত কত বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷ কিছু দেশের সরকার কমপক্ষে আগামী বছরের বসন্তকাল পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখছে না৷ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলি নাগরিকদের সমস্যা কমাতে ব্যর্থ হলে ব্যাপক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে কিছু মহল৷

এসবি/কেএম (ডিপিএ, রয়টার্স)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন