লকডাউন : ক্ষুধা বনাম স্বাস্থ্য | বিশ্ব | DW | 15.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

লকডাউন : ক্ষুধা বনাম স্বাস্থ্য

বৃহস্পতিবার থেকে আবারো দুই সপ্তাহের লকডাউনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় পরামর্শক কমিটি৷ কিন্তু হয়েছে উল্টো৷ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে লকাউন শিথিল করা হয়েছে৷

‘গরিব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করলে লকডাউন সম্ভব নয়’

‘গরিব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করলে লকডাউন সম্ভব নয়’

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে প্রায় সবকিছুই চালু হয়েছে৷ এ সিদ্ধান্তে রয়েছে অর্থনীতির প্রভাব৷ বিশেষ করে গরিব মানুষের বেঁচে থাকার অর্থনীতি৷ মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. এম বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘পরামর্শক কমিটি তো ঘরে বসে সুপারিশ করে৷ তারা তো বাস্তব অবস্থা বোঝেন না৷ তাদের উচিত লকডাউনের সাথে মানুষের খাবার কীভাবে নিশ্চিত হবে সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেয়া৷’’ তার মতে, ‘‘মানুষের খাবার নিশ্চিতকরতে না পারলে কোনোভাবেই লকডাউন কার্যকর হবে না৷ যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে৷’’

১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত লকডাউনে ঢাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি না মানা ৯ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে৷ জরিমানা আদায় করা হয়েছে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা৷ মানবাধিবার কর্মী নূর খান আদালত এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকদিন ওই আটক ব্যক্তিদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘যারা আটক হয়েছেন তাদের অধিকাংশই গরিব মানুষ৷ তাদের যারা ছাড়াতে আসেন. তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেটের দায়ে কাজের খোঁজে তারা বাইরে বের হয়েছেন৷ এছাড়া তাদের উপায় ছিল না৷ অনেকের কাছে ছাড়িয়ে নেয়ার মতো টাকাও ছিল না৷’’

অডিও শুনুন 01:36

মানুষের খাবার নিশ্চিত করতে না পারলে কোনোভাবেই লকডাউন কার্যকর হবেনা: ডা. এম বি এম আব্দুল্লাহ

নূর খানের মতে, ‘‘গরিব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করলে লকডাউন সম্ভব নয়৷’’ আর ডা. এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘গরিব মানুষ মনে করে তারা করোনায় নয়, না খেয়ে মারা যাবে৷’’

এই করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যারা দিন আনেন দিন খান, ছোট ব্যবসা করেন, যারা হোটেল ও পরিবহন কর্মী৷ দেশে তিন কোটি গরিব মানুষের সাথে আরো দুই কোটি ৭০ লাখ নতুন দরিদ্র যোগ হয়েছে৷ করোনায় চাকরি ও কাজ হরিয়েছেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ৷ এবার লকডাউনে পোশাক কারাখানাসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা খোলা ছিল৷ ফলে এখানে অভিঘাত কম৷

বাংলাদেশে এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ আগের দুটো ঢেউ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে৷ লকডাউন দেয়ার পরও সংক্রমণ কমেনি , কমেনি মুত্যু৷ ডা. এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এরকমই হবে৷ এর বেশি কিছু করা মনে হয় সম্ভব নয়৷’’

জাতীয় পরার্শক কমিটির প্রধান ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা আরো ১৪ দিন লকডাউনের সুপারিশ করেছি৷ কিন্তু সেটা তো হচেছ না৷ ফলে সংক্রমণ আরো বাড়বে বলেই ধারণা করছি৷’’

অডিও শুনুন 01:16

মাঝেমধ্যে যেটুকু লকডাউন হচ্ছে এর বেশি সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়: ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাতে সত্যিাকার অর্থে কঠোর লকডাউন কতটা সম্ভব? সেটা করতে হলে সরকারকে ঘরে ঘরে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা৷ সেটা সরকার পারছে না বলেই কিছুটা লকডাউন আবার কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে৷

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড.খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশে মাঝেমধ্যে যেটুকু লকডাউন হচ্ছে এর বেশি সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়৷ কারণ, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অভিঘাতও সরকার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে৷ আবার করোনাও দূর করতে চাইছে৷ এই দুইটি ব্যালেন্স করে সরকার আসলে কাজ করছে৷’’

তার মতে, এর বাইরে গিয়ে কঠোর লকডাউন করতে গেলে সরকারকে ব্যাপকভাবে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার কাঠামো নিয়ে কাজ করতে হবে৷ সেটা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়৷ সরকারের সেধরনের অবকাঠামোও নেই৷

আর ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘জীবন জীবিকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে লকডাউন করা খুব কঠিন৷ গরিব মানুষের চাল-ডালের ব্যবস্থা করতে হবে৷’’

এই করোনায় গরিব মানুষের জন্য সর্বশেষ তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার৷

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে করোনায় ২২৬ জন মারা গেছেন৷ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৩৬ জন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়