লকডাউনে কারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন? | বিশ্ব | DW | 09.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

লকডাউনে কারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন?

লকডাউনের প্রথম আট দিনে ঢাকায় পাঁচ হাজারের বেশি লোক গ্রেপ্তার হয়েছে৷ জরিমানা করা হয়েছে প্রায় সম পরিমাণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে৷ তারপরও মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন৷ আর যারা জরিমানার শিকার হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই গরিব মানুষ৷

গত ১ জুলাই থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হয়৷ শেষ হবে ১৪ জুলাই৷ করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর লকডাউনে যায় প্রশাসন৷ এরইমধ্যে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ২০০ ছাড়িয়েছে৷ এই পরস্থিতিতে টেকনিক্যাল কমিটি এই লকডাউনের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে৷ তারা নতুনভাবে কার্ফ্যু জারির সুপারিশ করেছে৷
লকডাউন কার্যকর করতে চার ধরনের আইন ব্যবহার করা হচ্ছে৷ সংক্রামক ব্যাধি আইন, মোটর যান আইন, ডিএমপি অ্যাক্ট এবং মোবাইল কোর্ট৷ সেনা, পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে ৫০টিরও বেশি মোবাইল কোর্ট কাজ করছে৷ আর রাজধানীর প্রবেশ পথ ছাড়াও  শহর জুড়ে শতাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে৷
প্রথম আট দিনে লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করে বাইরে বের হওয়ার অভিযোগে মোট চার হাজার ৩৬৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে৷ আটক করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৭৪ জনকে৷ এই সময়ে জরিমানা করা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা৷ শতাধিক প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হয়েছে৷
যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ৷ তারাও আদালত থেকে জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাচ্ছেন৷ তাদেরকে আদালত সর্বোচ্চ ১০০ টাকা জরিমানা করছে৷
এই লকডাউনে জরুরি সেবা ও রিকশা চালু আছে৷ কিন্তু যারা শ্রমজীবী মানুষ দিন আনে দিন খান তাদের কোনো উপায় নেই৷ বিশেষ করে ভাসমান মানুষ এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যারা কাজ করেন তারা অসহায় অবস্থার মধ্যে আছেন৷ আর যারা ক্ষুদ্র ও ভাসমান দেকানদার তারাও বিপাকে আছেন৷ ৩৩৩-তেও ফোন করে তারা সহায়তা পাচ্ছেন না৷ আবার অনেকে জানেনই না যে ওই নাম্বারে ফোন করলে সহায়তা পাওয়া যায়৷ তারাই মূলত কাজের জন্য বা সহায়তার জন্য বাইরে বের হয়ে জরিমানা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হচ্ছেন৷

অডিও শুনুন 02:17

‘যারা আটক হচেছন তাদের বড় একটি অংশ গরিব মানুষ’

মানবাধিকার কর্মী নূর খান গত কয়েকদিন ধরে আদালত পাড়ায় যাচ্ছেন ওইসব মানুষের সাথে কথা বলতে৷ তিনি জানান," যারা আটক হচ্ছেন তাদের ৯৯ ভাগই গরিব মানুষ৷ দিন আনে দিন খায়৷ তারা পেটের দায়ে বের হন৷ তবে অসচেতন থাকায় অনেকেই মাস্ক পরেন না৷” তিনি অভিযোগ করেন," প্রত্যেক থানা এলাকায় কোটা দেয়া আছে৷ সেই গ্রেপ্তারের কোটা পূরণ করা হচ্ছে৷”
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদলতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু স্বীকার করেন, "যারা আটক হচেছন তাদের বড় একটি অংশ গরিব মানুষ৷ তবে এর বাইরেও আছেন৷ তারা আইন অমান্য করে নানা অজুহাতে বের হচ্ছেন৷ তাদের ডিএমপি অ্যাক্টে আটক করায় কারাগারে যেতে হচ্ছেনা৷ আদালত জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছেন৷ তবে কেউ জরিমানা না দিতে পারলে কারাগারে যেতে হচ্ছে৷”
তবে তিনি অভিযোগ করেন," আটকদের প্রিজন ভ্যানে গাদাগাদি করে আদালতে নেয়া হচ্ছে৷ তাতে তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে৷ আমরাও বলেছি, আদালতও বলেছেন যে তাদের  প্রিজন ভ্যানে সামাজিক দূরত্ব মেনে আদালতে নিতে হবে৷”


নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল  আউয়াল বলেন," যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের বড় একটি অংশ মাস্ক না পরে বিনা কারণে বাইরে বের হন৷ এত কড়াকড়ির পরও তারা মাস্ক ব্যবহার করতে চাননা৷ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই এই প্রবণতা৷ তাদের কোনো ভাবেই সচেতন করা যাচ্ছে না৷”
লকডাউনে মাদক:
করোনা এবং লকডাউনে ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসা ও ব্যবহার বেড়ে গেছে৷ আর নতুন ধরনের মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে৷ সর্বশেষ ঢাকায় ‘ম্যাাজিক মাশরুম' নামে নতুন একটি মাদকসহ চক্রের সদস্য এবং ব্যবহারকারীদের আটক করেছে পুলিশ৷ পুলিশ জানায়, এখন মাদক ব্যবসায় অনলাইন ও কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এই ম্যাজিক মাশরুম দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছে৷ মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে৷ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন,"করোনা ও লকডাউনকে মাদক ব্যবসায়ীরা একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে৷ আর ঘরে থেকে অবসাদগ্রস্ত হয়ে তরুণরা নতুন করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন৷”
তার কথা, এব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবারের সদস্যরা নজর না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়