লকডাউনের জীবনে অভ্যস্ত হচ্ছে ভারত | বিশ্ব | DW | 26.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

লকডাউনের জীবনে অভ্যস্ত হচ্ছে ভারত

লকডাউনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে ভারত। মানিয়ে নিচ্ছে সরকার।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া জীবনের সঙ্গে লোকে মানিয়ে নিচ্ছেন। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে কী ভাবে নিজেকে নিরাপদে রাখতে হয় তা শিখছেন। দিল্লি সহ প্রতিটি জায়গায় দেখা যাচ্ছে, যারা দোকানে যাচ্ছেন জিনিস কিনতে, তারা একে অন্যের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন। দ্রুত শিখছে সরকারও। রাস্তায় নামলেই পুলিশ আর লাঠি নিয়ে তাড়া করছে না। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, দেশের ৮০ কোটি গরিব লোককে তারা ২ টাকা কেজি দরে চাল ও গম দেবে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত এনপিআর, জনগণনার কাজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

বস্তুত, গরিব মানুষের জন্য রাজ্য সরকারগুলিও চিন্তাভাবনা ও কাজ করতে শুরু করেছে। গরিব, নিরাশ্রয় মানুষ রাতে যাতে থাকতে পারেন, তার জন্য অনেক আগে থেকেই দিল্লি সরকার বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু বানিয়ে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, সেখানে খাবার দেওয়াও শুরু হয়েছে। তবে যাঁরা সেখানে থাকেন না, সেই গরিবদের কী হবে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারও গরিবদের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গরিবদের দুই মাসের পেনশন এক সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে। তারা একমাসের রেশনও একবারে তুলে নিতে পারবেন। রাজ্যের কোথাও হোম ডেলিভারিতে বাধা দেওয়া হবে না। পুলিশ যে ভাবে লোককে সবজি কিনতে, ওষুধ নিতে বাইরে বেরবার ক্ষেত্রেও বাধা দিয়েছে তাতে তিনি ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ। পুলিশের প্রতি কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও হোম ডেলিভারিতে যেন বাধা না দেওয়া হয়।

এই নির্দেশ প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লিতে একটি বিশেষ নম্বরে ফোন করলে হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ আসবে। তা দেখিয়ে বাইরে গিয়ে জিনিস কেনা যাবে। তবে লেফটানান্ট গভর্নর অনিল বৈজল জানিয়ে দিয়েছেন, বাড়ির কাছে জিনিস কেনার জন্য কোনও অনুমতি নিতে হবে না। পুলিশ বাধা দেবে না। সেই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও বাড়িওয়ালা যদি কোনও চিকিৎসককে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিল্লি সহ দেশের অনেক জায়গাতেই করোনার ভয়ে বাড়িওয়ালারা তাদের চিকিৎসক ভাড়াটেদের অবিলম্বে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশেই এই সতর্কবার্তা।

দিল্লির সীমান্তেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ঢুকতে আর বাধা দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ চেক করে তা ঢুকতে দিচ্ছে। পুলিশের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু সংগঠন। মুম্বইতে সিদ্ধি বিণায়ক মন্দির ট্রাস্ট বুধবার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে প্রবল অসুবিধায় পড়েছেন হায়দরাবাদ সহ তেলেঙ্গানার ছাত্ররা। তাদের হস্টেল বন্ধ হয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যে। সেখানে রান্নার লোকও আসছে না। এই অবস্থায় পুলিশ তাদের নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য পাস দিচ্ছে। সেই পাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ছে থানায়। ফলে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখা যাচ্ছে না। পাস পেয়েও তাঁরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। কারণ, সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশেষ করে অন্ধ্রের ছাত্ররা নিজেদের রাজ্যে ঢুকতেই পারছেন না। আর দুর্দশায় পড়েছেন দৈনিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকরা। তাঁদের অনেকেই পায়ে হেঁটে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানায় নিজেদের বাড়ি ফিরেছেন। এক, দুই বা তিনদিন হেঁটে প্রায় অভুক্ত অবস্থায় তারা বাড়ি পৌঁছচ্ছেন। 

তবে এই লকডাউনের মধ্যেও করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। করোনায় ভারতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মারা গিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪৯। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধু লকডাউনই যথেষ্ট নয়। করোনায় আক্রান্তদের খুঁজে বের করে পরীক্ষা করতে হবে, তাঁদের চিকিৎসা করতে হবে, কোয়ারান্টিন-এ পাঠাতে হবে। না হলে করোনার প্রকোপ রোধ করা মুশকিল।

সেই কাজও শুরু হয়েছে। দিল্লিতে যেমন মৌজপুরের মহল্লা ক্লিনিকের এক চিকিৎসক, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের করোনা ধরা পড়েছে। এখন খুঁজে বের করা হচ্ছে, গত ১৪ দিনে কারা ওই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের সকলকে কোয়ারান্টিনে যেতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০০ জনকে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে কোয়ারান্টিনে থাকতে। যারা বিদেশ থেকে ফিরেছেন, তাঁদের বাড়ির সামনেও পুরসভা নোটিশ সেঁটে দিয়ে বলছে, ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকতে। 

 তবে এই করোনানিয়েই ঝগড়া শুরু হয়েছে কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার সঙ্গে তাঁর দুই মন্ত্রী শ্রীরামালু ও কে সুদাকরের। করোনা নিয়ে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ছিল শ্রীরামালুর ওপর। তাঁকে সাহায্য করছিলেন সুধাকর। বুধবার তাঁর হাত থেকে দায়িত্ব নিয়ে তা পুরোপুরি সুধাকরকে দিয়ে দেন ইয়েদুরাপ্পা। তখন নিজের পদত্যাগপত্র নিয়ে ইয়েদুরাপ্পার কাছে হাজির হন শ্রীরামালু। দু'জনের মধ্যে প্রবল কথা কাটাকাটি হয়। পরে আবার করোনার দায়িত্ব ফিরে পান শ্রীরামালু। তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ হন সুধাকর। করোনার বাজারে কোথায় সকলে মিলে এক হয়ে কাজ করবেন, এই যুদ্ধে জিতবেন, তা নয়, এখনও ইগোর লড়াইয়ে ভুগছেন রাজনীতিকরা।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

বিজ্ঞাপন