লকডাউনেও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক অশান্তি | বিশ্ব | DW | 18.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

লকডাউনেও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক অশান্তি

পশ্চিমবঙ্গের তেলিনিপাড়ার ঘটনা প্রবল আতঙ্ক তৈরি করেছে সাধারণ মানুষের মনে। বহু মানুষের বাড়ি পুড়েছে। পুড়েছে দোকান।

প্রতীকী চিত্র

প্রতীকী চিত্র

গোটা বিশ্ব যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। যদিও প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই বক্তব্য, এই সাম্প্রদায়িক অশান্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে 'তৈরি' করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ মে কলকাতা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে হুগলির তেলিনিপাড়ায়। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, করোনাকে কেন্দ্র করে এলাকার হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। দ্রুত যা আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে শুরু করে। ১০ তারিখের পরে ১২ তারিখেও ফের অশান্তি চরম আকার নেয়। অভিযোগ, বহু মুসলিমের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। দোকান এবং বাড়িতে লুঠপাট চালানো হয়। হিন্দুরাও পাল্টা আক্রমণের অভিযোগ তুলেছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মুসলিম এলাকা।

সমস্যা শুরু হয়েছিল আসলে আগেই। মার্চ মাসে দিল্লিতে তাবলিগের জমায়েতকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল গোটা দেশ জুড়ে। সরকারের তরফ থেকে একাধিকবার বলা হয়, ওই জমায়েতে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মাধ্যমেই গোটা দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরেই দেশ জুড়ে 'ইসলামোফোবিয়া' ছড়িয়ে পড়ে। ভুয়া খবর এবং ভিডিও হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে সমাজিক মাধ্যমে। অভিযোগ, গেরুয়া বাহিনী বহু জায়গায় এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। কোনও কোনও বিজেপি নেতার নামও উঠে এসেছে।

তেলিনিপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আনসারি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''গত দুই মাস ধরে যখনই রাস্তায় বেরিয়েছি, আমাদের করোনা বলে আওয়াজ দেওয়া হতো। মুসলিমদের দোকান থেকে জিনিস কেনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন অনেকে।''

অথচ দিনের পর দিন ধরে এই অঞ্চলে একসঙ্গে বাস করছেন হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তেলিনিপাড়া জুট মিল বহু পুরনো। গঙ্গার ধারের এই অঞ্চলে কোনও দিন সাম্প্রদায়িক সমস্যা হয়নি। করোনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া গুজব এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। জাহাঙ্গির জানিয়েছেন, হঠাৎ লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁর বোনের বিয়ে পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ১২ তারিখের ঘটনায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের বাড়ি। আলমারি থেকে সমস্ত টাকা লুঠ হয়ে গিয়েছে। জিনিসপত্রও সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও দেখুন 03:30

দিল্লিতে হিন্দু-মুসলমান শান্তির আহ্বান

জাহাঙ্গিরের মতো এলাকার অনেকেরই একই অভিজ্ঞতা। কারও ঘর পুড়েছে, কারও দোকান। অন্য দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বক্তব্য, উস্কানি এসেছিল অন্য তরফ থেকে। হিংসাত্মক ঘটনা যে ঘটেছে, তা অস্বীকার করছে না কোনও পক্ষই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক হিন্দু বাসিন্দার বক্তব্য, মুসলিম অঞ্চলে করোনা ধরা পড়েছিল। কিন্তু তাঁরা আইসোলেশনে থাকছিলেন না। সেখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। যদিও মুসলিমরা এই অভিযোগ মানতে চাননি।

প্রশাসনের বক্তব্য, এই ঘটনার পিছনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি অথবা সংগঠনের মদত রয়েছে। আচমকা এমনটা ঘটেনি। চন্দননগর কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ সুপার সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্টই জানিয়েছেন, ''আগে থেকে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'' শুধু পুলিশ নয়, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার পিছনে 'পূর্বপরিকল্পনা' কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এ কাজ করেছেন, তাঁরা কেউ পার পাবেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হুগলি নয়, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় একই ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবং এর পিছনে যে একটি চক্র কাজ করছে, তা বোঝা যাচ্ছে। তৃণমূল-সহ অনেকেই আঙুল তুলছেন বিজেপির দিকে।

হুগলির সাংসদ তথা বিজেপির নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''আমি এলাকায় গিয়েছিলাম। প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, ঘটনাটি নিয়ে রাজনীতি করবেন না। দোষীদের গ্রেফতার করুন।''

ইতিমধ্যেই পুলিশ বেশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং আটক করেছে। তবে তেলিনিপাড়ায় আতঙ্ক এখনও যথেষ্টই। এলাকার লোকেদের অনেকেরই বক্তব্য, কিছুদিন আগেই দিল্লি দাঙ্গার ছবি দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গা। কিন্তু গত কিছুদিনের পরিস্থিতি তাঁদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন