রোহিতের ক্যাচ মিসের পর মুস্তাফিজে প্রবল প্রত্যাবর্তন | বিশ্ব | DW | 02.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ক্রিকেট

রোহিতের ক্যাচ মিসের পর মুস্তাফিজে প্রবল প্রত্যাবর্তন

অভিষেক ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ; পরের খেলায় ছয় উইকেট৷ ভারতের বিপক্ষে ওই দুই ম্যাচে বাংলাদেশই জিতেছিল৷ এজবাস্টনে ক্যাচ মিসের সুবিধা তুলে সেঞ্চুরি করেছেন রোহিত শর্মা৷

তবে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতকে ৩১৪ রানে আটকে দিয়েছেন মুস্তাফিজ৷

ভারতের ইনিংসের তখন শৈশব; রোহিত শর্মারও৷ অফ স্টাম্পের বাইরে করা মুস্তাফিজুর রহমানের বলটিকে চাইলেন মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে সীমানাছাড়া করতে৷ ব্যাট-বলে সংযোগে সময়ের হেরফের হয়ে গেল; তাতেই আকাশে উড়ে যাওয়া বলের গায়ে যেন ফিল্ডারের মুঠোবন্দি হবার নিয়তি লেখা৷ তা তামিম ইকবাল অনেকখানি দৌড়ে বলের নীচে গেলেন ঠিকই, কিন্তু সেটিকে ক্যাচে রূপান্তরিত করতে পারলেন না৷

এজবাস্টনের গ্যালারির লাল-সবুজ অংশ এবং পাঁচ হাজার মাইল দূরের ছোট্ট এক মানচিত্রে তীব্র শীষ কেটে বেরিয়ে যায় আফসোসের ধ্বনি- ইশশশশশশ!

বাংলাদেশ ওই হাহাকার করবে না কেন! ভারতের ইনিংসের শুরুতে উইকেট নেবার গুরুত্বের কথা তাঁরা জানে৷ শুরুর দিকে রোহিতের উইকেটের গুরুত্বও অজানা নয়৷ দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইনিংসের সেটি ছিল পঞ্চম ওভার; ওয়ানডেতে তিন ডাবল সেঞ্চুরির মালিকের তখন মোটে ৯ রান৷ ওই অবস্থায় ক্যাচ ফেললে তার চড়া মাশুল তো দিতেই হয়৷

বাংলাদেশও দিয়েছে৷ পঞ্চম ওভারে যেখানে প্রথম উইকেট পেতে পারত, সেটি পেতে পেতে ৩০তম ওভার৷ ১৮ রানে প্রথম ব্রেক-থ্রু পেতে পারত; পরে তা পেতে পেতে ১৮০৷ ৯ রানে বেঁচে যাওয়া রোহিতকে শিকার করতে করতে ৯২ বলে করে ফেলেন ১০৪ রান৷ আর এসবের সম্মিলিত যোগফলেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের রানের পাহাড়৷ ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১৪ রান৷

এ রান তাড়া করে জেতা নিঃসন্দেহে কঠিন; তবে অসম্ভব না৷ এই বিশ্বকাপেই তো এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে তিন শতাধিক রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ; ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২১ রান টপকে৷ ভারতের বিপক্ষে একই রকম চ্যালেঞ্জের সামনে মাশরাফির দল৷ তাতে জিততে না পারলে যে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন রঙ হারাবে অনেকখানি!

অথচ শুরুতে রোহিতকে আউট করতে পারলে বাংলাদেশের জন্য ইনিংসটি কত অন্য রকমই না হতে পারত! কাল এজবাস্টনে খেলতে নামার আগেই চলতি বিশ্বকাপে তিন সেঞ্চুরি ভারতীয় ওপেনারের- দক্ষিণ আফ্রিকা (১২২*), পাকিস্তান (১৪০) ও ইংল্যান্ডের (১০২) বিপক্ষে৷ বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাঁর পারফর্ম্যান্স বরাবরই দুর্দান্ত৷ ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই মহা আলোচিত কোয়ার্টার ফাইনালে ১৩৭ রান রোহিতের৷ ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে তাঁর অপরাজিত ১২৩ রানে আয়েশে ম্যাচ জেতে ভারত৷ গত বছর এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি পাননি; পাওয়ার তেমন সুযোগ ছিল না বলেই৷ বাংলাদেশের ১৭৩ রান টপকে  ভারতের জয়ের সময় এই ওপেনার অপরাজিত ৮৩ রানে৷ ফাইনালে তাঁর ৪৮ রানই ‘ব্যর্থতা'৷

এমন একজনের ক্যাচই কিনা ফেলে দিলেন তামিম!

সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ওপেনিং জুটিতে ভারত তুলে ফেলে ১৮০ রান৷ ৪৫ বলে ফিফটি রোহিতের; তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেয়া লোকেশ রাহুল ওই মাইলফলকে পৌঁছান ৫৭ বলে৷ ভারতের দলীয় সেঞ্চুরি ১৭.২ ওভারে৷ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনহীন বোলিং আর জঘন্য ফিল্ডিংয়ে প্রতিপক্ষের কাজটি হয়ে যায় সহজ৷ ২৯তম ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে ৯০ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৬তম সেঞ্চুরি হয়ে যায় রোহিতের৷ বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত ক্রমাগত বাজতে থাকে যেন পাগলাঘণ্টির মতো৷

সেঞ্চুরি করার পর রোহিত যে আরো ভয়ঙ্কর! ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি ও সাতটি দেড়শ পেরোনো ইনিংস সে সাক্ষ্যই দেয়৷

বাংলাদেশের জন্য মন্দের ভালো এই যে, এবার তা হয়নি৷ সেঞ্চুরির পরপরই সৌম্য সরকারের বলে লিটন দাসের ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোহিত (১০৪)৷ তিন ওভার পর রাহুলকে (৭৭) মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান রুবেল হোসেন৷ দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যদি ম্যাচে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ, তাহলে এর পূর্ণতায় প্রবল প্রত্যাবর্তন ৩৯তম ওভারে৷ সেখানে জাদুকরী তিন বলের মধ্যে বিরাট কোহলি (২৬) ও হার্দিক পান্ডিয়াকে (০) আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান৷

শেষ দিকে তাই ভারতীয় ইনিংস প্রত্যাশিত গতি পায়নি৷ হাতে ছয় উইকেট নিয়েও শেষ ১০ ওভারে ৬৩ রানের বেশি করতে পারেনি দলটি৷ যে ইনিংসটি অন্তত সাড়ে তিনশ পেরোনোর কথা, তা থেমে যায় ৯ উইকেটে ৩১৪ রানে৷ সাকিবের আশ্চর্য নিয়ন্ত্রণ, মুস্তাফিজের বিষাক্ত কাটার- সবই যেন ফেরে শেষ ১০ ওভারে৷ সবচেয়ে বেশি মুস্তাফিজের নিজেতে ফেরা৷ ৪৮তম ওভারে দীনেশ কার্তিককে আউট করেন; ইনিংসের শেষ ওভারে আরো দুই শিকারে পাঁচ উইকেটের কীর্তি৷

২০১৫ সালে নিজের অভিষেক ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ; পরের খেলায় ছয় উইকেট৷ ভারতের বিপক্ষে ওই দুই ম্যাচেই বিজয়ী দলের নাম বাংলাদেশ৷ পরের চার বছরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ ম্যাচে হেরেছে তারা৷ মুস্তাফিজের আবার পাঁচ শিকারের কীর্তির দিনে জয়ের রোদ্দুর ছিনিয়ে আনতে পারবে বাংলাদেশ?

বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য সেটি যে বড্ড জরুরি!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন