রোহিঙ্গা সংকট: সমাধানে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী | বিশ্ব | DW | 18.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

রোহিঙ্গা সংকট: সমাধানে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে মানবিক বাংলাদেশ৷ তাদের ফিরিয়ে নিতে নেই মিয়ানমারের কোনো উদ্যোগ৷ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসকে সামনে রেখে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন৷

রোহিঙ্গা সংকট: সমাধানে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ৷ কথার ফুলঝুড়ি থাকলেও, তাদের ফিরিয়ে নিতে নেই মিয়ানমারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ ৷ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসকে সামনে রেখে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন৷

ডয়চে ভেলে: সবশেষ রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কী?

কামাল হোসেন: মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা জোর চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যাবেন৷ এই সংকট নিরসনে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার বিষয়ে ওই সফরে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী৷ স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করছি৷ ইদানীং, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে৷ তবে সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে৷ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অনেকে মাদক চোরাচালান, অপহরণ, নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে৷ এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে৷ এটা আরো বাড়ানোর জন্যও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি৷

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কতোটা পাচ্ছেন?

বিষয়গুলো মূলত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার দেখভাল করেন৷ এ বছরের জন্য জয়েন্ট রেসপন্স পরিকল্পনা হয়েছে৷ আমাদের ৯৮০ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ সহায়তা লাগবে৷ এর মধ্যে মাত্র ৩২ ভাগ সংগ্রহ হয়েছে৷  যা কম বলেই মনে হচ্ছে৷ প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদেশি সহায়তা আসছে না৷

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি কি আছে?

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটা স্বেচ্ছায় হতে হবে৷ কিন্তুরোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক না৷ তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নিরাপত্তা এবং অন্য সুযোগ সুবিধার বিষয়ে তারা মিয়ানমারের ওপর আশ্বস্ত হতে পারছে না৷ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও আশ্বস্ত করতে পারেনি৷ তাই প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটা সফল হয়নি৷ এখন সেটা থেমে আছে৷

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ কোন পর্যায়ে?

ভাসানচরে স্থানান্তরে সব প্রস্তুতি আমাদের আছে৷ এক লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারা যাবে, তাদের একটা তালিকা তৈরিরও চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু সেখানেও ইউএনএইচসিআর বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, রোহিঙ্গারা যেতে না চাইলে তাদের জোর করে স্থানান্তর করা যাবে না৷ রোহিঙ্গারাও সেখানে যেতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না৷ ফলে সেই প্রক্রিয়াটিও থেমে আছে৷

অডিও শুনুন 09:13

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত মিয়ানমারকে চাপের মধ্যে রাখা: কামাল হোসেন

বর্ষা আসছে৷ বর্ষা মানেই শরণার্থী শিবিরের জন্য ঝুঁকি৷  আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

অতি বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকে৷ এ কথা সত্য, রোহিঙ্গারাও ঝুঁকিতে আছে৷ সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার এবং সহায়তা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া আছে৷ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রেখেছি৷ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও ভলান্টিয়ার তৈরি করা হয়েছে৷ তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ফায়ার সার্ভিসকে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে৷ সেনাবাহিনীর দশ পদাতিক ডিভিশনকেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়েছে৷ দুর্যোগকালীন রোহিঙ্গারা যাতে আশ্রয় পেতে পারে, সেজন্য আশপাশের স্কুল, মাদ্রাসা আর ভবনগুলোর তালিকা করা হয়েছে৷

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা সামাল দিতে গিয়ে কোন কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

শুরুতে স্থানীয় জনগণ যেভাবে তাদের গ্রহণ করেছিল, যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, সেটা এখন আর নেই৷ রোহিঙ্গারা না অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে, স্থানীয় জনগণও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে৷  এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে নানা উদ্যোগ নিয়েছি আমরা৷ যে বরাদ্দটা আছে, তার ২৫ভাগ যাতে স্থানীয় কল্যাণে ব্যয় করা এবং স্থানীয়দের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার দিকে গুরুত্ব দিতেও বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷

স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নীরব দ্বন্দ্ব যাতে বড় আকার ধারণ না করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে বর্ষায় খুব বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ এলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে৷ মাদক চোরাচালানে স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গারাও যুক্ত হয়েছে৷ এটা বন্ধ করাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রশাসনের প্রত্যাশা কী?

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত মিয়ানমারকে চাপের মধ্যে রাখা৷ মিয়ানমারকে বোঝানো উচিত, তাদের জনগণকে যেন তারা নিয়ে যায়৷ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও চাহিদাগুলো যাতে মিয়ানমার পূরণ করে৷ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হলে, স্থানীয়দের স্বস্তি ফেরৎ আসবে এবং প্রশাসনের চ্যালেঞ্জও কমে যাবে৷ তাই আমরা চাই দ্রুত নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু হোক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন