রোহিঙ্গা সংকট: দ্বিপাক্ষিক সমাধানের চেষ্টা অবান্তর | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট: দ্বিপাক্ষিক সমাধানের চেষ্টা অবান্তর

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ দুই দফা ব্যর্থ হয়েছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক চেষ্টায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের আশা কম৷ প্রয়োজন বহুপাক্ষিক উদ্যোগ৷

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সাধারণ চোখে অনেক উদ্যোগ দেখা গেলেও এর কোনোটাই কার্যকরী নয়, তা প্রমাণ হয়েছে গত দুই বছরে৷

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম কোর্ট (আইসিসি), ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিশেন ম্যাকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইম) দেশ হিসেবে মিয়ানমারের এবং সেখানকার সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদস্থদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে

গাম্বিয়ার মাধ্যমে একটি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর জোট- ওআইসি৷ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-তে মামলা করা হবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে৷ জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলেও বিষয়টি তোলা হয়েছে৷

এর বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতসহ অনেক দেশই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলছে৷ কিন্তু মুখে ‘চাপ প্রয়োগের' কথা বললেও তাতে মিয়ানমারের খুব একটা যায় আসেনি৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বহুপাক্ষিক কোনো উদ্যোগ নয়৷ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে সত্য, কিন্তু সমাধান চাইছে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে৷ আরো স্পষ্ট করে বললে, বাংলাদেশ মনে করে সমস্যাটা মিয়ানমারের, বাংলাদেশ থার্ড পার্টি৷ ফলে মিয়ানমারকে বাধ্য করা যাচ্ছে না৷

অডিও শুনুন 04:54

‘অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা খুব কার্যকর হবে’

সরাসরি অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পক্ষ হিসেবে যুক্ত না করায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আসলে কোনো কাজে লাগছে না৷

কূটনীতিক এবং মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক এটাশে মেজর জেনারেল (অব.) শহিদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে এখনও এটাকে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করতে চাইছে৷ কিন্তু ২০১৭ সালে এক আলোচনায় আমি তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলাম মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে যাবেন না৷ কিন্তু ২৬ দিন পরে সেটাই হলো৷ যদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষকে যুক্ত করা না যায় তাহলে এর বাস্তবায়ন খুবই কঠিন৷ এটা আগেই করা দরকার ছিলো৷ তবে এখন আর দেরি করা ঠিক হবে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘মিয়ানমার অর্থনৈতিক অবরোধকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়৷ ওদের জেনারেলদের ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা আছে ইউএস-এর৷ এখন যদি ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে ওদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করানো যায় তাহলে এটা খুব কার্যকর হবে৷''

এই বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনার জন্য বালাদেশ ইউএস-এর সাথে সিকিউরিটি ডায়ালগকে কাজে লাগাতে পারে বলে পরামর্শ শহিদুল হকের৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে যেতে পারে৷ ইউএনকেও সরাসরি অ্যাপ্রোচ করতে হবে৷ মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা তো বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারবে না৷ তাদের নাগরিকত্ব তো বাংলাদেশ দিতে পারবে না৷ তাই মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুপক্ষকে যুক্ত করতে হবে৷ দ্বিপাক্ষিকভাবে এর সমাধান হবে না৷''

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর রাখাইনে সেফ জোন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ আর মার্কিন কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান রাখাইনে বলকানাইজেশন মডেলের কথা বলেছেন৷ পরামর্শ দিয়েছেন, রাখাইনকে আলাদা রাষ্ট্র করার কথা৷

অডিও শুনুন 08:38

‘মিয়ানমারের ওপর আস্থা রাখা নির্বুদ্ধিতা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শহীদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এরমধ্যেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমধানের পথ আছে৷ দ্বিপাক্ষিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আস্থা রেখে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান একটা স্টুপিড চিন্তা৷ চীন ও ভারত কখনোই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না৷ আমাদের এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিতে হবে৷ তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে যেতে হবে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে যেতে হবে৷ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই মার্কিনিরা আমাদের পক্ষে থাকবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফেরত গেলে তাদের মিয়ানমার সেনবাহিনী কচুকাটা করবে৷ তারা কেন যাবে? মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাব অনুযায়ী রাখাইন আলাদা হলেই রোহিঙ্গারা নিরাপদ হবে৷ প্রধানমন্ত্রী যে সেফ জোনের কথা বলেছেন সেই সেফ জোন কে করবে?''

শহীদুজ্জামান আরো বলেন, ‘‘এখনো সময় আছে আমাদের বিষয়টি বহুপাক্ষিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আছে৷ আমাদের এখন এগিয়ে যেতে হবে৷ গত দুই বছরে আমাদের কোনো লাভ হয়নি৷ কিন্তু এখনো সময় আছে৷''

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারে নির্যাতের শিকার হয়ে আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে৷ আর আগেও এসেছে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ৷ বাংলাদেশে এখন প্রায় ১২ লাখের মত রোহিঙ্গা শরণার্থী বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন