রোহিঙ্গা সংকটের কারণে হোঁচট খাচ্ছে মিয়ানমারের পর্যটন শিল্প? | বিশ্ব | DW | 30.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মিয়ানমার

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে হোঁচট খাচ্ছে মিয়ানমারের পর্যটন শিল্প?

শীতকাল পর্যটনের মরশুম৷ কিন্তু এ বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর অবধি ইয়াঙ্গন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমি দেশগুলি থেকে আগত অতিথিদের সংখ্যা প্রায় দশ শতাংশ কম৷ জানিয়েছে মিয়ানমার পর্যটন ফেডারেশন৷ এর কারণ কি রোহিঙ্গা সংকট?

২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট তারিখে উত্তরের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গিরা ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করে অন্তত ১২ জন সরকারি কর্মচারিকে হত্যা করে৷ প্রত্যুত্তরে সরকারের তরফ থেকে যে নির্মম সামরিক অভিযান চালানো হয়, তার ফলশ্রুতি হিসেবে ৬ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পলায়ন করেন৷

পলাতক রোহিঙ্গারা শোনান সরকারি সেনাবাহিনী ও রাখাইনের বুদ্ধ ধর্মাবলম্বী স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বারা ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কাহিনি৷ মিয়ানমারের বাস্তবিক নেত্রী ও শান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি এই সব নিপীড়ন রোধ তো দূরের কথা, তার নিন্দা পর্যন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন – অপরদিকে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিতাড়নকে সম্ভাব্য গণহত্যা ও ‘জাতিগত সম্মার্জনার' সঙ্গে তুলনা করেছে৷

জার্মান হোটেল মালিক গেরাল্ড শ্রাইবার-এর মিয়ানমারে একাধিক হোটেল আছে, যার মধ্যে একটি রাখাইন রাজ্যের এনগাপালি সৈকতাবাসে৷ স্থানটি মূল সংঘাতের এলাকা থেকে কয়েকশ' কিলোমিটার দূরে৷ শ্রাইবার মিয়ানমারে তাঁর প্রথম হোটেলটি খোলেন ১৯৯৬ সালে৷ সব মিলিয়ে গতবছর শ্রাইবারের হোটেলগুলিতে অতিথিদের রাত্রিবাসের সংখ্যা মোট ৩০ শতাংশ কমেছে, বলে শ্রাইবার জার্মান ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন৷ ‘‘আমরা খুব বেশি নতুন বুকিং-ও পাচ্ছি না৷ (হবু পর্যটকরা) মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন,'' বলে শ্রাইবার মন্তব্য করেন৷

অর্থনীতি, পর্যটন শিল্পের উপর ছায়া

২০১৭-১৮ সালে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷ কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের উপর রাখাইন রাজ্যের ঘটনাবলীর ছায়া পড়বে – বিশেষ করে পর্যটন শিল্প এই সংকটের দ্বারা প্রভাবিত হবে, বলে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) গত মাসে আশঙ্কা প্রকাশ করে৷

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস অবধি ইয়াঙ্গন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমি দেশগুলি থেকে আগত অতিথিদের সংখ্যা দশ শতাংশ কমে গেছে, বলে জানিয়েছে মিয়ানমার টুরিস্ট ফেডারেশন৷ এছাড়া প্রায় দুই শতাংশ টুরিস্ট বুকিং বাতিল করা হয়েছে, বলে ফেডারেশনের উপসভাপতি মে মিয়াত মন উইন জানিয়েছেন৷ মে উইন ইমেল মারফৎ ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘‘(পর্যটন শিল্পের) কর্মীদের মূল উদ্বেগ হলো, আগামীতে কী পরিমাণ নতুন বুকিং হবে ও কী পরিমাণ পর্যটক আসবেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বহু বছরের সামরিক শাসন থেকে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া যাবৎ মিয়ানমারে টুরিস্টদের আগমন বছরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ করে বেড়েছে, বলে অক্সফোর্ড বিজনেস গ্রুপের পরিসংখ্যানে প্রকাশ৷ ওদিকে খনিজ তেলের দাম পড়ার পরে টুরিজম বিদেশি মুদ্রা অর্জনের একটি মুখ্য পন্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ মিয়ানমারের জিডিপি-র প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে; শুধুমাত্র ২০১৬ সালে এই শিল্প আট লাখ নতুন চাকুরি সৃষ্টি করে, যা কিনা সামগ্রিক কর্মসংস্থানের ২ দশমিক ৭ শতাংশ৷রোহিঙ্গা সংকটের ফলে ঠিক এই পর্যটন শিল্পই বিপন্ন হতে পারে, বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা৷

পশ্চিমি টুরিস্টরা গেলেও, চীন আছে

বিশেষ করে উত্তর অ্যামেরিকা ও ইউরোপের বাজারগুলি এ ব্যাপারে বিশেষ স্পর্শকাতর৷ মিয়ানমারে মানবাধিকার ভঙ্গ হচ্ছে, সম্ভাব্য পর্যটকদের এই ধারণা পশ্চিমি টুর অপারেটরদের বিশেষ চিন্তায় ফেলেছে৷ ওয়াকিবহাল মহলের খবর অনুযায়ী আগামীতে পশ্চিমি টুরিস্টরা মিয়ানমারের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, কাম্বোডিয়া, লাওস ও শ্রীলঙ্কায় যেতে শুরু করবেন – বা করেছেন৷

অতীতে পশ্চিমি তরফে মিয়ানমারের উপর শাস্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরোপ করা হলে, মিয়ানমার চীন ও এশিয়ার অপরাপর দেশের কাছে বিনিয়োগের খোঁজ করত৷ টুরিজমের ক্ষেত্রেও মিয়ানমারের পর্যটন শিল্প এখন এশীয় টুরিস্টদের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মন দিচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই মিয়ানমারে আগন্তুক বিদেশিদের ৬১ শতাংশ হলেন এশীয় টুরিস্ট৷

এ মাসের সূচনায় মিয়ানমারের হোটেল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রথম চীন-মিয়ানমার পর্যটন বৃদ্ধির ওয়ার্কশপের আয়োজন করে৷ ইয়াঙ্গনের ঐ ওয়ার্কশপে মিয়ানমার টুরিজম ফেডারেশনের আরেক উপসভাপতি খিং অং তুন এই অভিমত প্রকাশ করেন যে, রাখাইন সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লেগে যেতে পারে৷ কাজেই এখন চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার টুরিস্টদের টানার চেষ্টা করা হচ্ছে, বলে স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্টে প্রকাশ – ওয়ার্কশপে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি আরো বেশি চীনা পর্যটক আকর্ষণ করার জন্য ভিসার নিয়মকানুন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? লিখুন আমাদের, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়