রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব | বিশ্ব | DW | 25.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন৷

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা৷

মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক নাগরিককে স্থান দেওয়ায় বাংলাদেশের সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তা তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছি এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি৷ আমরা কেবল তাঁদের জীবনই বাঁচাইনি, আমরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছি৷ আমরা চাই, রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাঁদের মূল ভূমিতে ফিরে যাক৷''

তিন প্রস্তাব

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেগুলো হলো:

১) মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বাতিল এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে৷ এছাড়া রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করার প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে৷

২) মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে৷ প্রয়োজনে একটি ‘সেফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল)' প্রতিষ্ঠা করতে হবে৷

৩) জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷

জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় শীর্ষ দাতা হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত৷'' এই অর্থ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যাবে বলেও জানান তিনি৷

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলনের সাইডলাইনে মিয়ানমার ইস্যুতে আয়োজিত এক বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে হ্যালি জানান, ‘‘অন্য দেশগুলোকেও এ ইস্যুতে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে৷''

সব মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩৮৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে৷

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানে নিপীড়নের মুখে গত বছরের আগস্ট থেকে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে৷ এই নিপীড়নকে জাতিসংঘও ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান' হিসেবে দেখছে৷

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে মিয়ানমার এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে গড়িমসি দেখাচ্ছে৷

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি নিজ দেশে তাদের নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিতের উপর জোর দিচ্ছে; যদিও মিয়ানমার এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে তাদের নাগরিক মানতেই নারাজ৷

প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ‘গণহত্যা'র জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন, যার কড়া প্রতিক্রিয়াও এসেছে দেশটির সেনাপ্রধানের কাছ থেকে৷

এডিকে/এসিবি (ডিপিএ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন