রোহিঙ্গাদের বেদনায় বেদনার্ত তিন নোবেলজয়ী নারী | বিশ্ব | DW | 26.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গাদের বেদনায় বেদনার্ত তিন নোবেলজয়ী নারী

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতন আর হত্যার কথা শুনে বেদনায় ভারাক্রান্ত নোবেলজয়ী তিন নারী৷ তাঁরা এটাকে সুস্পষ্ট গণহত্যা অভিহিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন৷

তিন নোবেলজয়ী নারী ইরানের বিজয়ী শিরিন এবাদি, আয়ারল্যান্ডের মারেইড ম্যাগুয়ার এবং ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান রবি ও সোমবার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন৷ রবিবার বিকেলে তাঁরা উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন৷ পরিদর্শনের পর মারেইড ম্যাগুয়ার ও তাওয়াক্কুল কারমান কথা বলতে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন৷ তাঁরা অং সাং সুচির নীরবতার সমালোচনা করে তাঁকেও রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য প্রকারান্তরে দায়ী করে বলেন, ‘‘বোন, আপনিও এর শিকার হতে পারে৷’’

সোমবার তাঁরা উখিয়ার বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান৷ ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন তাঁরা৷ নারী শরণার্থীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন৷ এর আগে সকালে কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা৷ নোবেলজয়ী এই তিন নারী সোমবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেন আলাদা আলাদাভাবে৷

ভিডিও দেখুন 01:23
এখন লাইভ
01:23 মিনিট

যে নারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তাঁরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন: মারেইড ম্যাগুয়ার

আয়ারল্যান্ডের নোবেলজয়ী মারেইড ম্যাগুয়ার বলেন, ‘‘যে নারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তাঁরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন৷ কেউ কেউ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ এক নারীর শিশু সন্তানকে জবাই করেছে মিয়ানমারের সেনারা৷ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান মিয়ানমারের সরকার এবং সেনাবাহিনীর সুস্পষ্ট গণহত্যা৷ মিয়ানমার থেকে, সে দেশের ইতিহাস থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা৷’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা তীব্রভাবে মিয়ানমার সরকারের এই গণহত্যা নীতিকে প্রত্যাখ্যান করছি৷ দোষীদের অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি৷’’

ভিডিও দেখুন 02:15
এখন লাইভ
02:15 মিনিট

এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সত্যিই একটা চাপ: শিরিন এবাদি

ইরানের নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি বলেন, ‘‘বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় আমি সত্যিই বাংলাদেশের সরকার এবং এ দেশের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি৷ এখনো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে৷ এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সত্যিই একটা চাপ৷ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগঠিত মিয়ানমার সরকারের সমস্ত অপরাধের বিচার হওয়া উচিত৷’’ এই বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে বলেন এবাদি৷ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে ওই বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেন তিনি৷

ইয়েমেনের নোবেলজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান বলেন, ‘‘আমি বাংলাদেশের সরকার এবং জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, তাঁরা বিপুল পরিমাণ শরণার্থীর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে৷ আমরা এই সংকটকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং সংকটের আশু সমাধান দাবি করছি৷ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছুই প্রায় করছে না৷ তাদের নীরবতা লজ্জার৷’’ তিনি বলেন, ‘‘যারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধকর্মে জড়িত, তাদের আন্তর্জাতিক আদালতের আওতায় নিয়ে বিচার নিশ্চিত করা উচিত৷’’

ভিডিও দেখুন 02:39
এখন লাইভ
02:39 মিনিট

সংকটের আশু সমাধান দাবি করছি: তাওয়াক্কুল কারমান

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমতকে আরও সংহত করতে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নারীপক্ষ’র উদ্যোগে নোবেলজয়ী তিন নারীর বাংলাদেশ সফরের আয়োজন করা হয়৷ তাঁরা  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তা তুলে ধরবেন৷ 

তিন নোবেলজয়ী নারী মঙ্গলবার কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের তিন দিনের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন৷ আর ঢাকায় তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বুধবার৷

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন