রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে স্বাগত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | বিশ্ব | DW | 23.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে স্বাগত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন

তবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের পাঠানো তালিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি৷

গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনকে জেনোসাইড হিসাবে ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন৷ ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের খবর অনুযায়ী, ঘোষণার পরদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এটাকে আমরা স্বাগত জানাই৷ দেরি হলেও মোস্ট ওয়েলকাম৷’’

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সীমান্ত পার হয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে৷ ওই ঘটনায় মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার প্রস্তাব করে জাতিসংঘ৷

সাড়ে চার বছর আগে রোহিঙ্গা ঢলের সে সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার কার্যালয়৷ এর আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞকে জেনোসাইড হিসেবে উল্লেখ করেছিল ফ্রান্স ও ক্যানাডা৷

যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যার স্বীকৃতিতে রোহিঙ্গারা খুশি

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনকে জেনোসাইড হিসাবে ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন ঘোষণার এমন সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের ‘সুখবর’ হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন৷ জেনোসাইড স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় বাস্তুচ্যুত বিপুল এ জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করারও আহ্বান জানান তিনি৷ 

মোমেন বলেন, ‘‘জেনোসাইডের শিকার ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য বড় শক্তি যারা, তারা যদি পুশ করেন, প্রেসার দেন, তাহলে আমার ধারণা, একটা সমাধান হতে পারে৷ তারা এ ব্যাপারে আরও সজাগ হবেন, যাতে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হয় এবং সুন্দর ভবিষ্যত যাতে তারা গড়ে তুলতে পারে৷ আশা করি, ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেটের এটা বলার পরে তারা চাপ দেবে মিয়ানমার সরকারকে, যাতে তারা নিজেদের লোকদের নিয়ে যায়৷’’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নিজেদের লোকদের নিয়ে যাবেন, কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে এটা ধীরগতি করছেন৷ সেক্রেটারি অব স্টেটের বক্তব্যের পরে এটা যদি ত্বরান্বিত হয় আমরা খুশী হব৷ কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এদের মঙ্গল৷ আর যাতে এ ধরনের জেনোসাইডের শাস্তি হয়৷

রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিতে দেশটি ‘দুরভিসন্ধি’ করছে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, তারা বলেছিল ১১ হাজারকে নিয়ে যাবে৷ তারপর কমিয়ে কমিয়ে সাতশ জনের একটা তালিকা দিয়েছে৷ লিস্টটা এত ডিফেক্টিভ, আমরা তো কাউকে জোর করে ফেরত পাঠাব না৷ তালিকা যেটা দিয়েছে, আমার সহকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন যে, এক পরিবারে বাপকে নিয়ে যাওয়া লিস্টের মধ্যে আছে তার বউ লিস্টে নাই৷ কিংবা তার ছেলেমেয়ে নাই৷’’

সবগুলো পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলায় কেউ যেতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয় সমর্থন করি৷ এমনভাবে তৈরি করেছে তালিকাটা, তাতে মনে হয় স্বদিচ্ছার অভাব আছে৷ অন্য দুরভিসন্ধি আছে৷ মিয়ানমার এ তালিকা পাঠিয়েছে৷ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমার সহকর্মীরা দেখেছেন, এটাতে এত শুভংকরের ফাঁকি, মনে হয় এরা যাতে না যায় এ ধরনের একটা তালিকা তৈরি করেছে৷’’

এনএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) 

গতবছরের ছবিঘরটি দেখুন

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়