‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অভিযোগ অবাস্তব এবং মিথ্যাচারের শামিল’ | বিশ্ব | DW | 02.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অভিযোগ অবাস্তব এবং মিথ্যাচারের শামিল’

ভাসানচরে প্রতিবাদকারী রোহিঙ্গাদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে নৌবাহিনীর একদল সদস্যের বিরুদ্ধে৷ তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর এ অভিযোগকে ‘অবাস্তব’ বলেছে আইএসপিআর৷

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আবাসন

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আবাসন

ভাসানচরে রাখা রোহিঙ্গারা সেখান থেকে কক্সবাজারে ফেরার জন্য অনশন করলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ৷ ৩০৬ জন রোহিঙ্গা এখন সেখানে রয়েছেন৷ গত মে মাসে ক্যাম্পের বাইরে থেকে দুই দফায় তাদের সেখানে নেয়া হয়৷ নৌকায় করে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়েছিল৷

এইচআরডাব্লিউ'র দক্ষিণ এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অনশন করা আট শরণার্থীর সাক্ষাৎকার রয়েছে তাদের কাছে৷ সেখানে তারা মারপিট ও নির্যাতনের কথা বলেছেন৷ তাদের একজন বলেছেন, ‘‘নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের পেটাতে গাছের ডাল ও কালো রাবারের লাঠি ব্যবহার করেছিল৷ প্রতিবাদকারী নারী-পুরুষ, এমনকি তাদের সাথে থাকা শিশুদেরও মারধর করেছে তারা৷’’ গত ২১ সেপ্টেম্বর এই মারধর করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন৷

হাতে পাওয়া ছবিতে আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন দেখেছেন বলেও দাবি করেন ব্র্যাড অ্যাডামস৷ 

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের যে ভিডিও-বক্তব্য এইচআরডাব্লিউ পেয়েছে তাতে দেখা যায় অনশনকারী রোহিঙ্গারা বলছেন, ‘‘আমরা খাবার চাই না, আমরা কক্সবাজারে আমাদের পরিবারে কাছে ফিরে যেতে চাই৷ এখানে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো৷’’

ভাসানচরে অবস্থানরত কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলার জন্য ফোন করে তাদের ফোন শুক্রবার বন্ধ পাওয়া যায়৷ তবে কয়েকদিন আগেও ফোনে তাদের পাওয়া গেছে৷ দুই-একদিন আগেও তারা টেকনাফ ও কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন৷ সেই সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজারে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরার দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন তারা না খেয়ে থাকে৷ পরে তারা সবাই ভবন থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে৷

অডিও শুনুন 01:34

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া উচিত: নূর খান

এর আগে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পের ৪০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের সার্বিক অবস্থা দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ তাদের একজন মোহাম্মদ মোস্তফা শুক্রবার বলেন, ‘‘তখন সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে৷ তারা তখন বলেছিল তারা ভাসানচরে থাকতে চান না৷ তাদের স্বজনরা ওখানে নেই বলে তারা থাকতে চান না৷ এমনো রয়েছে যে একটি পরিবারের কিছু সদস্য ভাসানচরে, আবার কিছু সদস্য কক্সবারের ক্যাম্পে আছেন৷’’

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর পরিচালক কর্ণেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ লিখিত ভাবে জানান, ‘‘বিষয়টি অবাস্তব, অসত্য, বিভ্রম জনক এবং মিথ্যাচারের শামিল৷ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা ভাসানচরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগণের স্বাচ্ছন্দ মূলক জীবনযাত্রা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে যৌথভাবে এইসকল বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে৷’’

অডিও শুনুন 00:35

আমরা নির্যাতনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি: ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী

তবে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এইচআরডাব্লিউ’র বিবৃতির আগেই ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের কিছু ভিডিও-বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি৷ তাই এখন সরকারের উচিত তদন্ত করে দেখা যে ভাসানচরে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি ঘটে নাই৷ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘এটা করা না হলে যাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদেরই আমরা নির্যাত করেছি এমন তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে৷’’

এদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা নির্যাতনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি৷ এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি৷’’ তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গারা ভাসানচরে থাকতে চায় না, তাই তারা এ ধরনের কথা বলছে৷’’

গতবছরের ৬ সেপ্টেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন..

সংশ্লিষ্ট বিষয়