রোহিঙ্গাদের কারণে হতে পারে ধর্মীয় সংঘাত | বিশ্ব | DW | 05.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গাদের কারণে হতে পারে ধর্মীয় সংঘাত

মিয়ানমারের সীমান্ত ছাড়িয়ে এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধিরা৷ তাঁরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ‘হত্যাযজ্ঞ ও জাতিনিধন' চলতে থাকলে সামনে আরো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে৷

সোমবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান দূত জায়িদ রা'দ আল-হুসেইন বলেন, ‘‘মিয়ানমারের জন্য কঠিন সংকট আসছে, এই সংকট এই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর৷''

প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য

গেল সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইনে গণকবর পাওয়া যাবার খবর প্রকাশিত হবার পর এমন বক্তব্য এলো জাতিসংঘের কোনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে৷

মিয়ানমার গণকবরের বিষয়টি বার বার অস্বীকার করলেও কোনো সাংবাদিক বা জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সেখানে যেতে দিচ্ছে না৷ জায়িদ বলেন, রাখাইন অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল ঘরে তুললেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য চালিয়েছে মিয়ানমার সরকার৷

তিনদিনের সফরে জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত সাক্ষাৎ করছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বা জোকোভি সঙ্গে৷

ওরা ছিল ‘জঙ্গি': মিয়ানমার

রাখাইনের গণকবরের বিষয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, ঐ এলাকায় ১৯ জন ‘জঙ্গি'-কে হত্যা ও কবর দেয়া হয়েছে৷

এ বিষয়ে এপি গত সপ্তাহে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মোবাইল ফুটেজও নিজস্ব অনুসন্ধান থেকে রিপোর্ট করেছিল যে, রাখাইনের গু দার পিইয়িন গ্রামে অন্তত পাঁচটি গণকবর দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা৷ সেখানে প্রায় চারশ' লোককে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে৷

ঐ প্রতিবেদনের পরই মিয়ানমার তাদের জঙ্গি আখ্যায়িত করেছে এবং সংখ্যাটি ১৯ জনের বেশি নয় বলে জানিয়েছে৷

মিয়ানমারের সরকারি তথ্য কমিটি তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘গু দার পিইয়িন গ্রাম সম্পর্কে এপি যে প্রতিবেদন ছেপেছে, তা সত্য নয়৷''

জাতিসংঘের উদ্বেগ

সব অভিযোগ অস্বীকার করা মিয়ানমারের সাংবাদিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের রাখাইনে যেতে না দেয়ার কড়া বিধি নিষেধ নিয়ে খুবই শঙ্কায় ফেলেছে জাতিসংঘকে৷

সংস্থাটির মহাসচিবের এক মুখপাত্র গেল সপ্তাহে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ৷ রাখাইনে প্রবেশে মিয়ানমারের আপত্তিকে তারা খুব সন্দেহের চোখেই দেখছেন৷

এর আগে গত মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ১০ জন রোহিঙ্গার একটি গণকবরের কথা স্বীকার করেছিল৷ তখন মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘সাগরের এক বিন্দু' বলে অভিহিত করেছিল৷

মাইনে পা হারালেন বাংলাদেশি

এদিকে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পোতা মাইনে দুই পা হারিয়েছেন এক বাংলাদেশি কৃষক৷ মাইনটি দু'দেশের সীমানার মধ্যকার বাফার জোনে পোতা হয়েছিল৷ শনিবার নাইক্ষংছড়িতে এ ঘটনা ঘটে৷

৪৫ বছর বয়সি ঐ কৃষকের নাম বদিউর রহমান৷ তিনি তাঁর গরু আনতে গিয়েছিলেন৷

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন যে,  মিয়ানমার মাইন পুতে রোহিঙ্গাদের ফেরত আসা আটকে দিতে চাইছে৷ তারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের৷    

জেডএ/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন