রোবো কাপ প্রতিযোগিতায় জার্মানির এক রোবটের সাফল্য | অন্বেষণ | DW | 17.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

রোবো কাপ প্রতিযোগিতায় জার্মানির এক রোবটের সাফল্য

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া আজকের যুগে প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করা হয়৷ জার্মানিতেও এ বিষয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে৷ ইন্দোনেশিয়ার এক গবেষকও তাতে অংশ নিচ্ছেন৷

জার্মানির নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের রাইন-সিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ইট-বটস টিম-এর ডেরা৷ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবোটিক্সের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ‘রোবো কাপ'-এ এই টিমেরই জয় হয়েছে৷ অনেক গবেষক একযোগে রোবটের জন্য অ্যালগোরিদম সৃষ্টি করেন এবং অনেক আন্তর্জাতিক রোবট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন৷

রোবটের অন্যতম মূল উপাদানই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা৷ ইন্দোনেশিয়ার এক বিজ্ঞানীও গবেষকদের এই দলে এআই সৃষ্টির কাজে সক্রিয় রয়েছেন৷ এআই গবেষক হিসেবে মোহাম্মাদ ওয়াসিল জানান, ‘‘এটা হলো ইউবট, এক ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট৷ আমার গবেষণার মূল বিষয় হলো রোবটের বোধশক্তি৷ রোবট এভাবে আশেপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে সব বস্তু শনাক্ত করে৷''

এই রোবট ‘টাইম-অফ-ফ্লাইট' ক্যামেরা ব্যবহার করে৷ সেটি দিয়ে বস্তুর টুডি ও থ্রিডি ছবি তোলা যায়৷ তারপর রোবট বস্তু শনাক্ত করে এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলির অবস্থান আন্দাজ করে৷

ওয়াসিল মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তাঁর রোবটকে প্রশিক্ষণ দেন৷ সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সেটি কারখানায় অ্যালুমিনিয়ম ও নাটবল্টু চিনতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘সবার আগে সেই সব বস্তু সম্পর্কে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, রোবটকে যেগুলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা রোবটকে প্রশিক্ষণ দেই৷ রোবট তখন বস্তুর নাম ও অবস্থান আগেভাগে বলতে পারবে৷''

তারপর রোবটকে নিজস্ব ক্ষমতার বলে বোধবুদ্ধি প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট বস্তু বেছে নিয়ে পরিবহণের দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ তবে রোবট সব বস্তু নিখুঁতভাবে বেছে নিতে পারে না৷ কারণ, বস্তুর অবস্থান আন্দাজ করতে রোবটের ভুল হয়৷ বস্তুর আকার ও জটিলতাও এই ত্রুটির অন্যতম কারণ৷ ন্যাভিগেশনের পথে বাধা এলে ইউবট সহজেই বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পারে৷

কুকা যেসব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট সৃষ্টি করছে, এই রোবট তারই এক উদাহরণ৷ শিক্ষা ও গবেষণার কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ মোহাম্মাদ ওয়াসিল জানান, ‘‘শিল্পক্ষেত্রে রোবট বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিতে পারে৷ দ্বিতীয়ত, রোবট স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মালপত্র পরিবহণ করতে পারে৷ কৃষিক্ষেত্রে আমার গবেষণার মাধ্যমে রোবট শস্য শনাক্ত করতে পারে, যাতে আরো দক্ষতার সঙ্গে সার স্প্রে করা যায়৷ এছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ গাড়ি পথঘাট, পথচারী, সাইকেল চালক ও অন্যান্য গাড়ি চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে পারে৷''

বি-ইট-বটস ২০১৯ সালের রোবোকপ জার্মান ওপেন এবং সিডনিতেও রোবোকপ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাট ওয়ার্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে৷

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাকে ঘিরে ওয়াসিলের আশা কী? ওয়াসিল মনে করেন, ‘‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার আরো গবেষক শামিল হবেন বলে আমি আশা রাখি৷ কারণ, বর্তমানে আমরা ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরো পর্যায়ে প্রবেশ করছি, যার অন্যতম উপকরণ এআই৷ ফলে ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন ও কৃষির মতো নানা ক্ষেত্রে এআই গবেষণায় আরো অগ্রগতি হবে৷''

দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদন, কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের রূপান্তর ঘটাতে পারে৷

আয়ু পুর্বানিংসিহ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন