1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থার কথা ভাবলে নির্যাতন, অধিকারের অভাবের মতো সমস্যার কথা মনে আসতে পারে৷ অথচ আফগান মেয়েদের রোবোটিক্স টিম ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত বোমার বিপদ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে৷
করোনা মহামারির শুরুর দিকে আফগান রোবোটিক্স টিমের মেয়েরা একটি ভেন্টিলেটর তৈরি করে৷ছবি: Getty Images/AFP/A. I Naderi

রোবটের সাহায্যে মাইন দূর করছে আফগান মেয়েরা

১৯ জুলাই ২০২১

আফগানিস্তানে নারীদের অবস্থার কথা ভাবলে নির্যাতন, অধিকারের অভাবের মতো সমস্যার কথা মনে আসতে পারে৷ অথচ আফগান মেয়েদের রোবোটিক্স টিম ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত বোমার বিপদ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/3wgHD

আফগান রোবোটিক্স টিমের মেয়েরা নতুন এক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে৷ মানুষের জীবন বাঁচানোই সেই পরিকল্পনার লক্ষ্য৷

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত বোমার সন্ধান করতে এই মেয়েরা রোবট তৈরি করে৷ রিমোট কনট্রোলের মাধ্যমে মোবাইল রোবট সেই বিপদ দূর করতে পারে৷ তবে এই উদ্যোগ সফল করতে যথেষ্ট ব্যবস্থাপনা ও অর্থ নেই৷ আফগানিস্তান রোবোটিক্স টিমের ক্যাপ্টেন সোমাইয়ে ফারুকি বলেন, ‘‘ডিমাইনিং ও ভেন্টিলেটর রোবটের মতো আমরা যন্ত্রমানব তৈরি করে সমাজের সমস্যা সমাধান করতে চাই৷ সে কারণে আমরা সরকার ও আন্তর্জাতিক সমাজের সাহায্য চাইছি৷ বড় আকারে উৎপাদন করে আমাদের সমাজের কিছু সমস্যা সমাধান করতে চাইছি৷

করোনা মহামারির শুরুর দিকে আফগান রোবোটিক্স টিমের মেয়েরা একটি ভেন্টিলেটর তৈরি করে৷ এই মূহূর্তে তাদের মাইন-নাশক রোবট পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে৷ কিন্তু সেই রোবট কীভাবে কাজ করে এবং সেটির দায়িত্বই বা কী? আফগানিস্তান রোবোটিক্স টিমের সদস্য

আইদা হাইদারপুর বলেন, ‘‘একই সময়ে দুটি ডিভাইস কাজ করে৷ একটি হলো ড্রোন, অন্যটি মাইন ডিটেক্টর বা মাইনসুইপার ডিভাইস৷ ড্রোন সবার আগে আকাশে উড়ে সম্ভাব্য মাইন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে ও তথ্য সংগ্রহ করে৷ তারপর ডিমাইনিং ডিভাইস মাইন চিহ্নিত করে মানুষকে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে৷''

এই উদ্যোগ সফল হলে রোবট যুদ্ধে ব্যবহৃত ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত বোমা ভরা দেশটিতে বিপদ এড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে৷ অন্য কোনো দেশে ল্যান্ডমাইনের কারণে হতাহতের সংখ্যা এত বেশি নয়৷

ল্যান্ডমাইন অনুসন্ধানে আফগান মেয়েদের রোবট

বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি এনজিও দেশটিকে মাইন-মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ কিন্তু সীমিত সুযোগের কারণে সাফল্য আসছে না৷ আফগান মেয়েদের তৈরি রোবট মাইন-মুক্ত করার কাজে বড় সহায়তা করতে পারে৷ ডিমাইনার হিসেবে আলি আক বলেন, ‘‘এটা ভালো খবর৷ এই সব রোবটের প্রোগ্রাম ডিমাইনিং সংগঠনগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী হওয়া দরকার, কারণ মূল সাইটে হাতেনাতে রোবটের পরীক্ষা হওয়া উচিত৷ ফল ভালো হলে সেটা হবে বড় সাহায্য৷ আমরা উচ্চ মূল্যে বিদেশ থেকে ডিটেক্টর কিনি৷ দেশের মধ্যে উৎপাদন করতে পারলে খুব ভালো হবে৷''

ডিমাইনিং অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ৷ বিশেষ করে যে দেশে যুদ্ধ এখনো চলছে এবং চারিদিকে অবিস্ফোরিত বোমা ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি৷

গত বছর নভেম্বর মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু ২০১৯ সালেই ১,৫৬৮ জনেরও বেশি আফগান ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন৷ আহতের সংখ্যা আরও বেশি৷ আহমাদ মুখতার করিমি নিজে মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছিলেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ফুটবল খেলার জায়গায় একটি মাইন পোঁতা ছিল৷ সেটি বিস্ফোরণের ফলে আমার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে৷ রোবোটিক্স টিমের বোনেদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, ডিমাইনিং রোবট কর্মসূচির কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে ডিমাইনিং প্রতিষ্ঠানগুলির হাতে সেগুলি তুলে দেওয়া হোক৷''

বিশ্বের শীর্ষ নয়টি দেশের তালিকায় আফগানিস্তানে ল্যান্ডমাইন ও বিস্ফোরকের বিপদ সবচেয়ে বেশি৷ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অবিস্ফোরিত বোমা ও মাইন শনাক্ত করতে হয় এবং সাবধানতা অবলম্বন করে সেগুলি সরিয়ে ফেলতে অথবা ধ্বংস করতে হয়৷ ইন অ্যাকশন সমন্বয়কারী আব্দুল জলিল সাদগেহ বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যবশত অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ হওয়ায় কিছু ভুল হয়৷ ভুলের কারণে আমাদের সহকর্মীরা মাইনের শিকার হয়েছেন৷ দেশের পশ্চিমে চারটি প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ১২১ জন ডিমাইনিং কর্মী মাইনের শিকার হয়েছেন৷ ৩০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন৷

এই মেয়েরা তাদের রোবট কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে৷ যতটা সম্ভব এলাকা থেকে আফগানদের অদৃশ্য শত্রু দূর করা এবং ডিমাইনিং কর্মসূচির আওতায় মানুষের মৃত্যুর হার কমানোর চেষ্টা তো চলছেই৷

মহম্মদ রেজা শিরমোহাম্মাদি/এসবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

সিলেটের সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

ঢাকায় সমাবেশ : প্রস্তুত বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান