রোগী ভর্তি করতে পারলো না পুলিশও | বিশ্ব | DW | 08.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

রোগী ভর্তি করতে পারলো না পুলিশও

বহু চেষ্টা করেও কলকাতায় এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারলো না পুলিশ। করোনার সময়ে শহরের সরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে বার বার এই অভিযোগ উঠছে।

করোনা-কালে কলকাতার হাসপাতালগুলি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা করছে না। গত দুই মাসে একাধিকবার এই অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালগুলিও নানা যুক্তি দিয়েছে। কিন্তু এ বার শহরের সরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি সেই অভিযোগ তুললো পুলিশ।

পুলিশের দাবি, শনিবার রাত দেড়টার সময় একবালপুর থানা অঞ্চল থেকে এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দেখভালের কেউ নেই। ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধের জ্বর হয়েছিল। পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্সেই তাঁকে প্রথম নিয়ে যাওয়া হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, কোভিড হাসপাতালে পরিণত হওয়ায় ওই বৃদ্ধকে ভর্তি নেওয়া যাবে না। পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্স থেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যায় মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেও তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজও তাঁকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে।

বস্তুত, এ ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘুরতে ঘুরতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ওই বৃদ্ধের। রাত দেড়টায় তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়েছিল। পরদিন দুপুর তিনটে পর্যন্ত তাঁকে কোথাও ভর্তি করা যায়নি। অগত্যা, বাধ্য হয়েই পুলিশ তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এই প্রথম নয়, কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কলকাতায় এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পুলিশ এক বৃদ্ধাকে কোনও হাসপাতালে ভর্তি করতে পারেনি। এবং শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

শুধু কলকাতাই নয়, গোটা দেশেই একই অভিযোগ বার বার সামনে আসছে। কিছু দিন আগে দিল্লির এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু কোনও হাসপাতালই তাঁর বাবাকে ভর্তি নিতে চায়নি। আউটডোরে সামান্য চিকিৎসাটুকু পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

কলকাতায় একাধিক সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড দিনের পর দিন করোনার জন্য বন্ধ থেকেছে। শুধু তাই নয়, এম আর বাঙুর সহ বেশ কয়েকটি হাসপাতাল শুধুমাত্র কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কেমো নিতে না পেরে কিছু দিন আগেই কলকাতায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বহু রোগীর ডায়ালেসিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালগুলিও করোনার ভয়ে রোগী ভর্তি করতে চাইছে না। কোনও রোগী গেলে বলা হচ্ছে, আগে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট লাগবে। তারপর ভর্তি। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদেরও একই কথা বলা হচ্ছে। এর জন্য কলকাতায় এক অবাঙালি রোগীর সিরোসিস অফ লিভারে মৃত্যু হয়েছে কার্যত বিনা চিকিৎসায়।  

এতদিন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রের ত্রাতার ভূমিকায় ছিল পুলিশ। বহু সময়েই পুলিশ নিজেদের অ্যাম্বুল্যান্সেরোগীদের নিয়ে গিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ বার পুলিশকেও পাত্তা দিচ্ছে না সরকারি হাসপাতলগুলি।

শনিবারের ঘটনা নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, মেডিক্যাল কলেজও কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র ইমার্জেন্সি বিভাগেই অন্য রোগীদের দেখা হচ্ছে। কেন ওই বৃদ্ধকে ইমার্জেন্সিতে দেখা হয়নি, তা তিনি জানেন না। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন