রোগীর ‘বায়োরিদম′ অনুযায়ী ক্যানসার চিকিৎসা | অন্বেষণ | DW | 08.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রোগীর ‘বায়োরিদম' অনুযায়ী ক্যানসার চিকিৎসা

শরীরের ভিতরে যে ঘড়ি আছে, তার ছন্দেই আমাদের জীবন কাটে৷ ক্যানসারের মতো দুরূহ রোগে জোরালো সব ওষুধের সাইড এফেক্ট কমানোর জন্যও নাকি ‘বায়োরিদম' ব্যবহার করা সম্ভব, যেমন দিনের বদলে রাতে ওষুধ দিয়ে৷

প্যারিসের পোল ব্রুস ইউনিভার্সিটি ক্লিনিক৷ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ফ্রঁসিস লেভি প্রায় তিন দশক ধরে এখানে  ক্যানসার রোগীদের ‘ক্রোনোথেরাপি' নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ কিন্তু আজও তাঁর ভোরে ওঠার অভ্যেস হল না৷ লেভির ভাষায়, ‘‘আমি ভোরে ওঠার লোক নই৷ ভোরবেলা উঠতে আমার ঘোর আপত্তি৷''

আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে একটি ঘড়ি আছে, যার কল্যাণে কিছু কিছু মানুষ একটু বেলা না হলে ঠিক চাঙ্গা হয়ে ওঠেন না৷ শরীরের কিছু কিছু দেহযন্ত্র দিনের বেলা বেশি সক্রিয় থাকে, অন্যগুলি রাত্রে৷ শরীরের বহু প্রক্রিয়া যেন একটি ২৪ ঘণ্টার ছন্দে কাজ করে৷

ফ্রঁসিস লেভি এই ‘বায়োরিদম'-এর উপর নির্ভর করে তাঁর রোগীদের ক্যানসার চিকিৎসা চালান৷ ‘ক্রোনোথেরাপি'-র অর্থ হল, দিন বা রাতের বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ বিশেষ ওষুধ দেওয়া৷

লেভি  বললেন, ‘‘ব্যাপারটা চিরকালই রহস্যময় ছিল৷ অন্তত গোড়ায় আমরা ক্রোনোথেরাপির কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানতাম না৷''

লেভির গবেষণার ফলে পরিস্থিতি অনেকটা বদলে গেছে৷ প্রথম সমীক্ষাগুলি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি আল্যাঁ পেরেনো-র মতো ক্যানসার রোগীদের নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন৷ পেরেনো-র বয়স ৬০; বেশ বর্ধিত পর্যায়ের আন্ত্রিক ক্যানসারের রোগী৷ সাধারণ চিকিৎসা তাঁকে সাহায্য করতে পারেনি৷ অপরদিকে রোগীর বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুযায়ী ক্রোনোথেরাপি চলে বলে তা রোগীর শরীরের উপর অনেক কম চাপ দেয়৷

          

লেভি জানালেন, ‘‘ওষুধটা কখন দেওয়া হচ্ছে, সে অনুযায়ী তার বিষক্রিয়া কম কিংবা বেশি হতে পারে – কেননা শরীরের যে প্রণালীটি ওষুধের বিষক্রিয়া রোধ করছে, সেটি চলে ঐ অভ্যন্তরীণ ঘড়ি অনুযায়ী৷''

ওষুধের বিষক্রিয়া কমানোর জন্য রোগীদের একটি পাম্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা বিশেষ বিশেষ সময়ে ওষুধের কার্যকরী উপাদানগুলি রোগীর শরীরে পাম্প করে৷

পেরেনো-র চারটি ওষুধের একটি দেওয়া হয় দুপুরবেলা; অন্য তিনটি প্রধানত রাত্রে, যখন শরীরের সুস্থ কোষগুলির বিভাজন ক্যানসারগ্রস্ত কোষগুলির তুলনায় কম হয় – ফলে সুস্থ কোষগুলির উপর ওষুধের প্রকোপও কম হয়; যার ফলে ওষুধের সাইড এফেক্ট বা আনুষঙ্গিক উপসর্গ কমে যায়৷

আল্যাঁ পেরেনো বলেন যে, তাঁর ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার শুভ দিক বাকি সব অসুবিধাকে ছাড়িয়ে গেছে: ‘‘কিছু কিছু সাইড এফেক্ট বাদ দেওয়ার উপায় নেই, যেমন চুল পড়ে যাওয়া কিংবা খিদে কমে যাওয়া৷ কিন্তু এই সব অনুষঙ্গ প্রথাগত চিকিৎসার চেয়ে অনেক কম৷ আর চুল কমায় দুঃখেরই বা কী আছে – চুল পড়ার আওয়াজ তো আর শোনা যায় না, কাজেই ওতে আমার কিছু আসে যায় না৷''

ক্রোনোথেরাপি আল্যাঁ পেরেনো-র ক্যানসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে৷ কিন্তু এই থেরাপি সব ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করে না বলে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা গেছে৷

একজন পেশেন্টের ‘বায়োরিদম' বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে৷

দিবারাত্রির ছন্দ

চোখে আলো ঢুকলে, মস্তিষ্কের একটি কেন্দ্রীয় ঘড়ির কাছে সংকেত যায়, যা আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক-এর সময় নির্দিষ্ট করে৷ বস্তুত আমাদের জিন নির্ধারণ করে, আমরা দিনের মানুষ না রাতের মানুষ! আমরা কখন খাই বা চলাফেরা করি কিংবা ঘুমোই, তা থেকেও শরীরের ‘ছন্দ' প্রভাবিত হয়৷

ফ্রঁসিস লেভি ও তাঁর সহকারীরা প্রত্যেক রোগীর ব্যক্তিগত অভ্যন্তরীণ ঘড়িটির সঙ্গে পরিচিত হবার চেষ্টা করেন৷

পেশেন্টের বুকে বসানো একটি সেন্সর থেকে মিনিটে মিনিটে গবেষকদের কাছে তথ্য পাঠানো হয় – যার মধ্যে পড়ে ত্বকের উপরিভাগের তাপমাত্রা, পেশেন্টের বর্তমান গতিবিধির পর্যায়, এমনকি পেশেন্ট বসে আছেন না শুয়ে আছেন, সে খবর পর্যন্ত৷ চিকিৎসকরা এভাবে পেশেন্টের বায়োরিদম নির্ধারণ করতে পারেন – যেমন তারা ঘুমোচ্ছেন, নাকি জেগে আছেন৷

ক্রোনোথেরাপির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে, কিন্তু আপাতত অধিকাংশ ক্যানসার রোগীর জন্য তা একটি আশাজনক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ছাড়া আর কিছু নয়৷৷

মাটিয়াস ট্যারটিল্ট/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন