1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প
বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পছবি: Kazi Salahuddin Razu/NurPhoto/picture alliance

রোহিঙ্গা সংকট : প্রত্যাশা ও বিপরীত বাস্তবতার চাপ

হারুন উর রশীদ স্বপন ঢাকা
৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য এখন যে টাকা খরচ হয় তার প্রায় পুরোটাই আসে বিদেশি দাতাদের কাছ থেকে৷ তবে যে অর্থের প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা দেয়, তার ৭০ ভাগের বেশি কখনোই পাওয়া যায়নি৷

https://p.dw.com/p/4Gdyk

আর ইউএনএইচসিআর যে অর্থের চাহিদা প্রতিবছর জানায় তার প্রতিশ্রুতি মেলে অর্ধেকেরও কম৷

চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিশ্রুত সহায়তা ২৮৫ মিলিয়ন ডলার হলেও মাত্র শতকরা ৪১ ভাগ, অর্থাৎ  ১২৮.২৫ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে৷ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) বলছে, চলতি বছর ইউএনএইচসিআর মোট ৮৮১ মিলিয়ন মর্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য৷  

২০২১ সালে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-এর যে হিসাব তাতে দেখা যায় ১০ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গার জন্য মোট ডোনারদের সহায়তা প্রয়োজন ছিল ৯৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, দিয়েছে ৬৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের তুলনায় ২৮ ভাগ কম৷ ২৬৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া যায়নি৷ ২০১৭ সালে প্রয়োজন ছিল ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার, পাওয়া গেছে ৩১৭ মিলিয়ন ডলার৷ ২০১৮ সালে ৯৫১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার৷ ২০১৯ সালে ৯২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৬৯৯ মিলিয়ন ডলার৷ ২০২০ সালে ১০৫৮ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৬২৯ মিলিয়ন ডলার৷

এখানে স্পষ্ট যে, ২০২০ সালের পর থেকে প্রতিশ্রুত সহায়তা কমছে এবং প্রতিশ্রুত সহায়তার গড়ে ৭০ ভাগের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না৷

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের বাজেটে বরাদ্দ কমে আসছে৷ প্রথম বছর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা৷ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৪০০ কোটি টাকা৷ এরপর প্রতিবছরই গড়ে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়৷ এই বরাদ্দ রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা, গৃহ নির্মাণ বা শিক্ষার পিছনে ব্যয় হয় না৷ বাংলাদেশ সরকার অর্থ ব্যয় করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে৷ রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য ভাসানচরে আলাদা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকার সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে নিজস্ব তহবিল থেকে৷ এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা৷

অর্থমন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, চলতি বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে৷ এটা মাল্টি সেক্টরাল ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্ট নামে একটি প্রজেক্টের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ এটা কিছু ট্রেনিং প্রকল্প, গাছপালা লাগানো এসব খাতে ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব৷ ব্যয়টা ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমেই হয়৷

ইউএনএইচসিআর-এর হিসেবে ভাসানচরসহ কক্সবাজারের ২৭টি ক্যাম্পে এখন আশ্রয়প্রার্থী ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৩ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ এবং শিশু রয়েছেন৷ পরিবারের সংখ্যা এক লাখ ৯৬ হাজার ২২১৷ তাদের মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগই শিশু৷ তবে বাংলাদেশের হিসেবে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ৷ তারা মোট ৩২ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থান করছেন৷

তাদের জন্য মূল সেবাগুলো হলো খাদ্য, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সেনিটেশন, আবাসন, নিরাপত্তা, অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা প্রভৃতি৷ সহায়তা করে ২৪টি দেশ ও প্রতিষ্ঠান৷ বিভিন্ন দেশের মানুষ ব্যক্তিগতভাবেও ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে সহায়তা করেন৷
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৯২টি দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে ইউএনএইচসিআর-এর অর্থ সহায়তায়৷ তারা অর্থ খরচের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে জবাবদিহি করে না৷ তাদের কাজ করার কথা বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সমন্বয়ে৷ ক্যাম্পে এখন রোহিঙ্গাদের সেবাদানের ২৫ ধরনের প্রকল্প চালু আছে৷

প্রতিবছরই বাংলাদেশ সরকারের ৫০০ কোটি টাকার বাজেট থাকে, সেটা প্রয়োজন হলে খরচ করা হয়, কিন্তু প্রয়োজন হয় না: প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান

বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারিভাবে আমাদের কোনো খরচ নেই৷ তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, জ্বালানি, বাসস্থান এগুলো দেখে ইউএনএইচসিআর, আইওএম এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম৷ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেখে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গ্যানাইজেশন৷ শিক্ষা দেখে ইউনিসেফ৷ তাদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি এনজিও কাজ করে৷ তবে প্রতিবছরই বাংলাদেশ সরকারের ৫০০ কোটি টাকা করে বাজেট থাকে৷ সেটা প্রয়োজন হলে খরচ করা হয়৷ কিন্তু প্রয়োজন হয় না৷ আর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ ভাসানচরের প্রজেক্টটা শেষ করতে সরকারের দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে৷ কিন্তু এখন সেখানে আমাদের আর কোনো খরচ নেই৷’’ ভাসানচরে এখন ২০ হাজার ১৬০ জন রোহিঙ্গা আছেন এখন৷

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিক বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের ওপর এখন আর্থিক চাপ নেই৷ কিন্তু চাপটা হলো তারা আমার দেশের মাটিতে আছেন৷ আমার ভূমিতে আছেন৷ তাদের সার্বিক দেখভাল আমাদের করতে হয়৷ তারা তো আমাদের নাগরিক নয়৷ তাদের এখানে রাখা তাদের ম্যানেজ করা সেটা আমাদের সমস্যা৷ বাইরের রাষ্ট্রগুলোর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে দায়িত্ব পালনের কথা, তারা তা করছে না৷ তারা এখন যেভাবে এটাকে দেখছে, তাতে এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেরও কোনো সম্ভাবনা দেখছি না৷’’

তারা মানবিক কারণে এখানে আছেন, এর সাথে পরিবেশের যোগ খোঁজা ঠিক নয়: অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিক

তার কথা, ‘‘ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ডোনাররা ফান্ড কমিয়ে দিচ্ছে৷ তাদের মনযোগ এখন ইউরোপের শরণার্থীদের দিকে৷ সাদা চামড়ার শরণার্থীদের জন্য মনে হয় তাদের দরদ বেশি৷’’

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে৷ গাছপালা ও বন উজার হচ্ছে৷ কক্সবাজার অঞ্চল নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তারা মানবিক কারণে এখানে আছেন৷ এর সাথে পরিবেশের যোগ খোঁজা ঠিক নয়৷ সারা দেশে বন উজার করা হচ্ছে, গাছপালা কাটা হচ্ছে, সেদিকে আমাদের নজর নেই৷ আর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বাড়িয়ে বলে আসলে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিতদের জন্য বাজেট বাড়ানো হয়৷ তারা ক্যাম্পের মধ্যে থাকেন৷ সেখানে যে পরিবেশে থাকেন, তাতে সামাজিক অপরাধ হতেই পারে৷’’

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাতে কোনো সংকট না হয় তাই রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও খাদ্য সহায়তাসহ নানা ধরনের প্রকল্প চালু আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘গত সপ্তাহে দাতাদের সঙ্গে কক্সবাজারে আমার বৈঠক হয়েছে৷ তারা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে৷’’

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ তাদের সংখ্যা এখন ১২ লাখে দাঁড়িয়েছে৷ এ পর্যন্ত নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার৷ বাংলাদেশ এ পর্যন্ত আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জনের তালিকা দিয়েছে মিয়ানমারকে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন সম্পর্কিত বিষয়
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Rohingya Flüchtlingslager in Bangladesch

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা, অপরাধ বেড়েছে

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান