রোহিঙ্গা নির্যাতনকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত চায় জাতিসংঘ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা নির্যাতনকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত চায় জাতিসংঘ

ঘটনার এক বছর পর প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে৷

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নসহ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে৷ পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার মানুষগুলোকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া, মিয়ানমারের উপর অস্ত্র নিষেধজ্ঞা আরোপ, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সমূহের সাথে মিয়ানমারের সম্ভাব্য সম্পর্কসহ ১৪ টি বিষয়ে সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন৷ এছাড়া এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷ 

এক বছর আগে নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি সংগঠন আরসা'র হামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অভিজান চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী৷ এ সময় নির্যাতনের শিকার সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ এ বিষয়ে তদন্তের জন্য গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়ে' রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে৷ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ পাঁচ জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার বিচারের দাবিও তোলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তদন্ত প্রতিবেদটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য করা সুপারিশগুলো হলো:

ক. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জাতিসংঘের সহযোগিতায় মিয়ানমার সরকারকে নিজ দেশের নাগরিকদের গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক, মানবিক ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায় ব্যবহার করা প্রয়োজন৷ 

খ. নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধগুলোর আন্তর্জাতিক আদালতে অথবা অ্যাড-হক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া৷ এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেয়া উচিত৷ পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত৷

গ. নিরাপত্তা পরিষদে পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত সাধারণ অধিবেশন  বা মানবাধিকার কাউন্সিলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তখ্য সংগ্রহের জন্য একটি কার্যকর উপায় বের করতে হবে যেন দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করা যায়৷

ঘ. মানবাধিকার কমিশনকে মিয়ানমারে বিশেষ দূত ও মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে৷

ঙ. মানবিধিকার কাউন্সিলকে  মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে সুপারিশ করতে হবে৷

চ. প্রয়োজন স্বাপেক্ষে মানবাধিকার কাউন্সিলকে স্বল্প সময়ের জন্য আরেকটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করতে হবে৷

ছ. ‘হিউম্যান রাইটস অব ফ্রন্ট অ্যাকশন প্ল্যান' অনুসারে মানবাধিকার বিষয়ে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘকে দ্রুত একটি সাধারণ কৌশল নির্ধারণ করতে হবে৷

জ. মিয়ানমারে বিদ্যমান সংকটের সবকিছু থামানো বা কামানো যেতো কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত ও স্বাধীন তদন্ত করতে হবে৷

 ঝ. চলমান পরিস্খিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়৷ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন তখনই করা যাবে যখন নাগরিকত্বসহ সুস্পষ্ট মানবাধিকার সুরক্ষা, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ হবে৷

ঞ. জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে নিশ্চিত করতে হবে যে, মিয়ানমারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক, যেমন অর্থনৈতিক সহায়তা, উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে অংশীদারিত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলোতে যুক্ত হওয়ার কৌশলগুলো মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে ও সুস্পষ্টভাবে বৈষম্যহীনতা ও সমতার নীতি মেনে করা হচ্ছে৷

ট. নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের উপর কোনো অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করলেও সদস্য দেশগুলোর উচিত হবে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা বন্ধ করা

ঠ. আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে মিয়ানমারের বিষয়ে বিশেষ কৌশল প্রণয়ন করতে হবে৷

ড. জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে মিয়ানমারে সংঘটিত মারাত্মক অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের ব্যাপারে তদন্ত ও বিচার করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে হবে৷ 

ন. মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা, জীবিকা নির্বাহসহ অন্যান্য সহায়তার একটি ভিকটিম সাপোর্ট ফান্ড গঠন করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন