রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওবামার বক্তব্য ‘ইতিবাচক′ | বিশ্ব | DW | 21.11.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওবামার বক্তব্য ‘ইতিবাচক'

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই সক্রিয় বাংলা ব্লগাররা৷ চলতি বছর মিয়ানমারে জাতিদাঙ্গার পর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে৷ আর এবার, ওবামার মিয়ানমার সফর আরো একবার সক্রিয় করেছে ব্লগারদের৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমার সফর করেন সোমবার৷ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কথা বলবেন ওবামা, এই প্রত্যাশা ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিক সংগঠনগুলোর৷ বাংলা ব্লগাররাও চাচ্ছিলেন এমনটা৷ ওবামার সফরকে কেন্দ্র করে সামহয়্যার ইন ব্লগে তাই সেলিম আনোয়ার লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই সফর গুরুত্বপূর্ণ, এই কারণে যে বর্তমানে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে এবং লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক অধিকার আদায়ে এই সফর ভূমিকা রাখতে পারে৷'

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সক্রিয় হতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি খোলা চিঠিও লিখেছেন এক ব্লগার৷ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগে প্রকাশিত সালেহ নোমানের এই চিঠির শিরোনাম, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে খোলা চিঠি৷' মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওবামার অবস্থান কোন প্রেক্ষাপটে কি হতে পারে, তা এই চিঠিতে বিশ্লেষণ করেছেন নোমান৷

Myanmar Rohingya Flüchtlinge

রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের কঠিন পরিস্থিতি

আশার কথা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেছেন৷ মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গনের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে ওবামা রাখাইন অঞ্চলে যে কোনো ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন৷ ইয়াঙ্গনে সমবেতদের উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, ‘‘আপনাদের মতো রোহিঙ্গারাও মানুষ হিসেবে একই রকমের মর্যাদা রাখে৷ মানবতা ও এই দেশের স্বার্থে সব ধরনের উস্কানি এবং সহিংসতা বন্ধ রাখা জরুরি৷''

বাংলা ব্লগার আইরিন সুলাতানা ওবামার এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন৷ তবে এক্ষেত্রে মিয়ানমারের বিরোধী দলীয় নেত্রী অং সান সু চির করণীয় বেশি বলে মনে করেন তিনি৷ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইরিন বলেন, ‘‘অ্যামেরিকা বা বারাক ওবামা – এরা আসলে বিশ্ব অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন, তাই তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো আসলে আগায় না৷ সেই হিসাবে বারাক ওবামার মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া বা অবস্থানটা জানা বিশ্ববাসীর জন্য জরুরি ছিল, যেমনটা আমরাও জানতে চাইছিলাম৷''

আইরিন বলেন, ‘‘আসলে আমরা অং সান সু চির কাছ থেকে অনেক বেশি শক্ত অবস্থান প্রত্যাশা করেছিলাম৷''

ওবামার মিয়ানমার সফর নিয়ে ব্লগারদের কিছু নিবন্ধও ডয়চে ভেলের কাছে তুলে ধরেন আইরিন৷ বিশেষ করে ব্লগার যহরত, সেলিম আনোয়ার এবং সালেহ নোমানের এসংক্রান্ত লেখার কথা উল্লেখ করেন তিনি৷ আইরিন বলেন, ‘‘ব্লগার যহরতের লেখার শিরোনাম, ‘ওবামার মিয়ানমার সফর ও রোহিঙ্গা জাতির ভাগ্য'৷ এখানে তিনি তাঁর প্রত্যাশার কথা লিখেছেন৷ আমি তাঁর লেখা থেকে ছোট্ট একটা অংশ উদ্ধৃতি করতে চাই৷ যেটি হয়ত বা বর্তমানে ওবামা যা বলছেন, তারই পূর্ব প্রত্যাশা ছিল৷ বারাক ওবামা রোহিঙ্গাদেরকে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত না করার ব্যাপারে অনমনীয় ভূমিকা রাখবেন কিনা সেটা তিনি জানতে চেয়েছিলেন৷ রোহিঙ্গাদের থেকে কেড়ে নেয়া নাগরিকত্ব কীভাবে ফেরত দেয়া হবে – সে বিষয় তাঁর আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে কিনা সেটাও জানার আগ্রহ ছিল যহরতের৷''

ব্লগার আইরিন সুলতানা বলেন, ‘‘ওবামা কিন্তু বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান করতে বলেছেন৷ রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছেন৷ ব্লগাররা কিন্তু এসবই প্রত্যাশা করে আসছিল৷ আর ওবামা সেটা বলেছেন৷''

প্রসঙ্গত, বারাক ওবামার মিয়ানমার সফরকে কেন্দ্র করে ডয়চে ভেলের শ্রোতা পাঠকরাও জানান অনেক প্রত্যাশার কথা৷ পিপাস রায় লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওবামা (মিয়ানমারকে) চাপ দিলে ভালো হয় আমাদের৷' সাইফ সাঈদ লিখেছেন, ‘বিবিসিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা৷ আশার আলো দেখা যাচ্ছে৷'

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন