রেলে চাকরির পরীক্ষা ঘিরে অগ্নিগর্ভ বিহার, উত্তরপ্রদেশ | বিশ্ব | DW | 27.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

রেলে চাকরির পরীক্ষা ঘিরে অগ্নিগর্ভ বিহার, উত্তরপ্রদেশ

বিহার ও উত্তরপ্রদেশে রেলে চাকরির পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ। বিহারে ট্রেনে আগুন দেয়া হলো।

পাটনার রাস্তায় বিক্ষোভের ছবি।

পাটনার রাস্তায় বিক্ষোভের ছবি।

রেলের নন টেকনিক্যাল পপুলার পদে নিয়োগের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড হলো বিহার ও উত্তরপ্রদেশে। বিহারে দুই দিনে দুইটি দাঁড়িয়ে থাকা খালি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। গয়া, পাটনা, জেহানাবাদ, ভাগলপুর, সাসারাম সর্বত্র বিক্ষোভ ছড়ায়।

উত্তরপ্রদেশে প্রয়াগরাজ(এলাহাবাদ) সহ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রয়াগরাজে পুলিশ ছাত্রদের হোস্টেলে ঢুকে ঘরের দরজা ভেঙে পিটিয়েছে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় প্রশাসন। আর কিছুদিন পরেই উত্তরপ্রদেশে ভোট। তাই বিজেপি-ও দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে। তড়িঘড়ি তিনজন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়।

উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বিবৃতি দিয়ে বলেন, পুলিশ অন্যায় করেছে। দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর বিরোধী দলগুলি যেন স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করে। সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে বিজেপি-র তীব্র সমালোচনা করেছে।

রেলের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, চাকরির পরীক্ষা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। একটি কমিটি করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের আপত্তির কথা কমিটিকে জানাতে পারবে।

ট্রেনে আগুন

বিহারে মঙ্গলবার আরায় একটি খালি ট্রেনে আগুন ধরানো হয়। বুধবার গয়া স্টেশনে একটি ট্রেনে আগুন ধরনো হয়। গয়া স্টেশনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয় ছাত্রদের। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় কেউ আহত হননি। কারা এই ঘটনার পিছনে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আন্দোলন চলবে

বৃহস্পতিবার লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। যেভাবে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করেছে, তার প্রতিবাদেই বিক্ষোভ হবে।

কেন প্রতিবাদ?

যারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তারা মূলত ছাত্রছাত্রী। তাদের দাবি, যেভবে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তা ঠিক নয়। দুই পর্বে পরীক্ষা হয়। প্রথম পর্ব পাস করতে পারলে দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় বসার অনুমতি পাওয়া যায়। তাদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থা ও নম্বর দেয়ার পদ্ধতি ঠিক নয়। এই পরীক্ষার যোগ্যতামান হলো হায়ার সেকেন্ডারি পাস। কিন্তু স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস ছাত্রছাত্রীরাও এই পরীক্ষায় বসতে পারেন। ফলে তারাই চাকরি পান। হায়ার সেকেন্ডারি পাস করা ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠেন না। তাছাড়া তাদের দাবি, যেভাবে নম্বর দেয়া হয়, সেটাও ত্রুটিপূর্ণ। তাই আগে নিয়মের পরিবর্তন করতে হবে। তারপর পরীক্ষা নিতে হবে। পরপর তিনদিন বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।

৩৫ হাজার খালি পদের জন্য আবেদন করেছিলেন এক কোটি ২৫ লাখ ছাত্রছাত্রী। পরীক্ষা দিয়েছেন ৬০ লাখ। এই পদে বেতন পাওয়া যায় ১৯ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ

বিহারে পাটনা-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছে। পুলিশও লাঠি চালিয়েছে।

কিন্তু উত্তরপ্রদেশে পুলিশি বাড়াবাড়ির সবচেয়ে বড় অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রয়াগরাজে ছত্রছাত্রীরা রেললাইন অবরোধ করতে যায়। পুলিশ সেখানে গিয়ে বেধড়ক লাঠি চালায় ও ছাত্রছাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করে। তারপর পুলিশ একটি হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রদের পেটায়। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারপর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে খবর ছিল, ছাত্রছাত্রীরা ট্রেনে আগুন ধরাতে যাচ্ছে। তাই তারা দ্রুত গিয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর হস্টেলে ঢুকে পুলিশি বাড়াবাড়ির যে অভিযোগ এসেছে, তাতে তিনজন কনস্টেবলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জিএচ/এসজি (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি)