রেলের অতিরিক্ত সচিবের মন্তব্যেই আগাম অনুমতির প্রজ্ঞাপন! | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রেলের অতিরিক্ত সচিবের মন্তব্যেই আগাম অনুমতির প্রজ্ঞাপন!

সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণের কারণেই গণমাধ্যমে কথা বলা সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন দিয়েছে সরকার৷ এমন তথ্য জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, এর ফলে জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরবে৷

বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে কিংবা অনলাইনে বক্তব্য, মতামত বা নিবন্ধ প্রকাশ করতে পারবেন না- সম্প্রতি এমন একটি নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়৷ ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালায় থাকা বিধানগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়৷

হঠাৎ করে কেন এই নির্দেশনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, কর্মকর্তারা তাদের ফেসবুক ওয়ালে বা মিডিয়াতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কিছু যাতে না বলেন সেই কারণেই তাদের পুরনো বিধির কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে৷ নতুন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘আইনটি বলবৎ ছিল আগে থেকেই৷ যারা চাকুরি করেন, তারা এই বিধানটি জানেন৷ আমরা শুধু বিধিটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছি৷'' ডয়চে ভেলের ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ টকশোতে এসব কথা বলেন তিনি৷

গত ৬ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবিরকে ওএসডি করা হয়৷ রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্যের কারণে তিনি আলোচনায় এসেছেন৷ ২৭ জুলাই ফেসবুকে একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতাম তবে বলতাম, স্যার আমাকে ১০ জন অফিসার দিন৷ এদের আমি চুজ করব, এদের নিয়ে আমি একটা উইং করব৷ মানুষের চোখের পানি দূর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, সব দফতর, সব অধিদফতরের বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করবো আমরা এই ১০ জন৷’’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী নতুন নির্দেশনা দেয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে এই ঘটনা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কিছুদিন আগে একজন কর্মকর্তা বলেছেন তাকে যদি দশজন কর্মকর্তা দেয়া হয় তিনি তখন বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সমস্ত কিছু বের করে...তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা৷ বিশ্বের সব প্রতিষ্ঠানেই কর্মকর্তা কর্মচারিরা কী ধরনের আচরণ করতে পারবে তার বিধি রয়েছে৷’’

তার দাবি, জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতেই কর্মকর্তাদের কাছে আচরণ বিধি সংক্রান্ত চিঠিটি পাঠানো হয়েছে৷ এই নির্দেশনার কারণে সংবাদ মাধ্যমের তথ্য প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হবে না৷

তিনি জানান, শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান বা ক্রীড়াধর্মী বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বক্তব্য দিতে কর্মকর্তাদের উর্দ্ধতনের অনুমতি লাগবে না৷ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতির প্রয়োজন নেই৷

দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তির বোধ

আলোচনায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারও ৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার না হওয়ার কারণেই সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতি বিস্তৃতি লাভ করছে৷ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার উদাহরণ তৈরির তাগিদ দেন তিনি৷

বলেন, ‘‘কোভিড এবং অন্য আরো অনেক বিষয়ে দূর্নীতি এতটা শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করেছে, সেন্স অব ইমপিউনিটি (দায়মুক্তি বোধ) বিরাজ করছে এখানে৷ এটা করলে কিছু হবে না, এমন একটি ভাব এসেছে৷ এক্ষেত্রে অনেকেরই অনেক কিছু হয়নি এমনও আমরা দেখেছি৷  এই সেন্স অব ইমপিউনিটি দূর করতে হবে৷ কিছু লোককে আইনের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করতে হবে৷ সাজা দেয়ার ব্যবস্থা যদি করা যায় তাহলে আস্তে আস্তে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে৷’’

দুদক দুর্নীতিবাজ ‘রাঘব বোয়ালদের’ ধরছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷ এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, সংস্থাটি অতীতের চেয়ে সক্ষমতা অর্জন করেছে, তবে আগামীতে আরো শক্তিশালী হতে হবে৷

এফএস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন