রেগে আগুন ট্রাম্প, তদন্তের মুখে এফবিআই | বিশ্ব | DW | 21.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

রেগে আগুন ট্রাম্প, তদন্তের মুখে এফবিআই

রাশিয়া কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ওবামা প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর নির্বাচনি টিমের উপর নজরদারি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর৷ এফবিআই-এর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প৷

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার মদত নিয়েছিলেন কিনা এবং নিয়ে থাকলে এখনো পর্যন্ত সত্য গোপন করে আসছেন কিনা, তা নিয়ে তদন্তের এক বছর পূর্ণ হয়েছে৷ ট্রাম্প বরাবর প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন৷ উলটে সিআইএ'র প্রাক্তন প্রধান রবার্ট মালারের এই তদন্তকে অ্যামেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘উইচ হান্ট’ বলে আসছেন৷ এবার তিনি গর্জে উঠলেন মার্কিন অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে৷ এফবিআই নির্বাচনি প্রচারের সময়ে তাঁর টিমে চর পাঠিয়েছিল অথবা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশে ‘রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি’ করতে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিল – এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিনি বিচার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন৷ রবিবার এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, এই অভিযোগ ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির থেকেও বড় ঘটনা হিসেবে গণ্য হতে পারে৷

মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন৷ তাতে দাবি করা হয়েছিল যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় এফবিআই ব্রিটেনে কর্মরত এক মার্কিন অধ্যাপককে আলাদা করে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সাক্ষাৎকার নিতে পাঠিয়েছিল৷ ট্রাম্প টিমের কার্টার পেজ ও জর্জ পাপাডোপুলোস রাশিয়ার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ রেখে চলেছেন কিনা, সেই অধ্যাপক নাকি এ বিষয়ে খবর জানার চেষ্টা করেছিলেন৷

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু রাশিয়া নয়, পারস্য উপসাগরীয় কিছু দেশও ২০১৬ সালের নির্বাচনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিল৷ ট্রাম্প টিমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রতিবেদনে৷

ট্রাম্পের অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় ইনস্পেকটর জেনারেলের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷ সেইসঙ্গে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে ‘ফিসা’ নামের সমন জারি করা হয়, তা-ও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ রিপাবলিকান দলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে ট্রাম্প টিমের কার্টার পেজ-এর উপর নজরদারি চালানো হয়েছিল৷

মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের সমর্থকরা গুপ্তচরের পরিচয় জানতে চাইলেও এফবিআই জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়৷ বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক দল রিপাবলিকানদের এমন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছে৷ মার্কিন গুপ্তচরদের পরিচয় জানার চেষ্টাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেআইনি হিসেবে গণ্য করছে তারা৷ ট্রাম্প নিজে তদন্তের চাপের মুখে এমন আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য৷ তাঁদেরই একজন জোয়াকিন কাস্ত্রো৷ তিনি এক টুইট বার্তায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি না করার ডাক দেন৷

এদিকে ‘স্পেশাল কাউন্সেল’ রবার্ট মালার আগামী ১লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্তের একটা অংশ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি৷ তবে ট্রাম্প জেরার মুখে বসতে প্রস্তুত কিনা, তার উপর এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ভর করতে পারে৷ ট্রাম্প আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছেন কিনা, সে বিষয়ে মালার এই সময়কালেই নিজের বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন জুলিয়ানি৷ তা না হলে নভেম্বর মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের উপর এই তদন্তের প্রভাব পড়তে পারে৷ মালার-এর মুখপাত্র অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি৷

এসবি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)

১৫ মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়