রেকর্ড মৃত্যুর কারণে জার্মানিতে আরও কড়া লকডাউনের সম্ভাবনা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

রেকর্ড মৃত্যুর কারণে জার্মানিতে আরও কড়া লকডাউনের সম্ভাবনা

করোনা ভাইরাসে দৈনিক মৃত্যুর হারের নতুন রেকর্ডের পর জার্মানিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর এবং বিধিনিয়ম আরও কড়া করার জন্য চাপ বাড়ছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান৷

করোনার বিধিনিয়ম রক্ষায় জার্মান পুলিশ৷ (ফাইল ছবি)

করোনার বিধিনিয়ম রক্ষায় জার্মান পুলিশ৷ (ফাইল ছবি)

গত মাসে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করে এবং সেই কড়াকড়ির মেয়াদ চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েও জার্মানিতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমানো যাচ্ছে না৷ বৃহস্পতিবার দৈনিক মৃত্যুর হার ছিল ১,২৪৪, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে৷ দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ২৫,১৬৪৷ এমন পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক মহলে আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে৷

রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের প্রধান লোটার ভিলার এই পরিসংখ্যান সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের আসল সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি৷ নববর্ষ উৎসবের দিনগুলিতে যথেষ্ট পরীক্ষা না হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না৷ তাঁর মতে, জার্মানিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আরও অনেক কমিয়ে আনতে হবে৷ সেই লক্ষ্যে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে আরও কড়া পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন৷ ভিলার বলেন, বর্তমান নিয়মের অনেক ব্যতিক্রম থাকায় এবং সেই লকডাউন যথেষ্ট কড়া হাতে কার্যকর না করায় তেমন কাজ হচ্ছে না৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বরাবর আরও কড়া বিধিনিয়মের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন৷ কিন্তু সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থনের অভাবে সে বিষয়ে ঐকমত্য অর্জন করা এতকাল সম্ভব হয় নি৷ বৃহস্পতিবার তিনি আবার বিধিনিয়ম আরও কড়া করতে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করেন৷ ২৫ জানুয়ারি নির্ধারিত বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষার বদলে আগামী সপ্তাহেই তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান৷

বর্তমান লকডাউনের মেয়াদ যে ৩১ জানুয়ারির পরেও বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে আর তেমন কোনো সংশয় দেখা যাচ্ছে না৷ লকডাউনের আওতায় বিধিনিয়ম কীভাবে আরও কড়া করা যায়, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও কমিয়ে আনতে দেশজুড়ে গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার প্রস্তাব শোনা যাচ্ছে৷ সেইসঙ্গে প্রকাশ্যে সাধারণ মাস্কের বদলে এফএফপি-২ মাস্ক বাধ্যতামূলক করার পক্ষেও চাপ বাড়ছে৷ আগামী সোমবার থেকে বাভেরিয়া রাজ্যে এই নিয়ম কার্যকর হবে৷

জার্মানিতে করোনার টিকা কর্মসূচি যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না বলে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে৷ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান বলেন, দেশের জনসংখ্যার এক শতাংশ – অর্থাৎ প্রায় ৮৪০,০০০ মানুষ ইতোমধ্যেই টিকা নিয়েছেন৷ তাঁর মতে, চলতি বছরেই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে৷

জার্মানিতে করোনা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা বা অন্য কোনো দেশে মিউটেশনের কারণে রূপান্তরিত ভাইরাস কতটা দায়ী, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না৷ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষের শরীরে এমন ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়ায় কড়া লকডাউনের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে৷  এমনটা না করলে আগামী সপ্তাহগুলিতে আরও ছোঁয়াচে এই কোভিডের সংস্করণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে৷

এসবি/জেডএইচ (ডিপিএ, এএফপি)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন