রূপকথার দানব, প্রাণভোমরা এবং বাজেটের সংসদ | বিশ্ব | DW | 26.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রূপকথার দানব, প্রাণভোমরা এবং বাজেটের সংসদ

সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ বাংলাদেশ৷ তাই সরকার, রাজনীতি আর গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা হওয়ার কথা জাতীয় সংসদের৷ কিন্তু এই জাতির ভোটার যারা, তারা কি এমন একটি সংসদ রচনা করতে পেরেছেন?

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বেলায় অবশ্য প্রশ্ন তুলতে হয়– আদৌ কি তারা তেমন সুযোগ পেয়েছেন? কেননা, একটি পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভোটের ভোর আসার আগেই ভোট হয়ে গিয়েছিল৷ তাই বুঝি দশম সংসদীয় ভোটের ‘খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে' শীর্ষক ভিডিও এবার এসে ভাইরাল হলো৷

নির্বাচন নিয়ে সরকারপক্ষ খুশি বটে৷ যেভাবেই হোক আসল প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে বিপুল বিজয়ের নিশান উড়িয়ে তারা যে সরকার গঠন করেছেন শুধু তা-ই নয়, সংসদে বিরোধীপক্ষও তাদের হাতেই গঠিত৷ কারণ, একাদশ সংসদীয় প্রধান বিরোধীদল যারা, তারা তাদেরই রাজনৈতিক মিত্র৷ আগের সংসদেও একই দল জাতীয় পার্টিই (জাপা) প্রধান বিরোধীদল ছিল৷ এবার অন্তত দুটো জায়গায় তফাত রয়েছে৷ প্রথমত, রওশন এরশাদের বদলে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা৷ দ্বিতীয়ত, সরকারি দলের ইচ্ছের কাছে হার মেনে মন্ত্রীত্ব থেকে এবার তাদের দূরে থাকতে হচ্ছে৷

একই দশা সরকারের ঘনিষ্ঠ, জোটবদ্ধ আরো কিছু ছোট দলের বড় নেতাদের৷ তারাও টানা তৃতীয় বা দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রী হতে পারলেন না৷ উল্টো বিরোধীদলের আসন অলংকৃত করতে হয়েছে তাদের৷ এ নিয়ে শুরু থেকেই কেউ কেউ বিব্রত৷ একাদশ সংসদের অভিষেক অধিবেশনের অভিষেক দিনে সে কথাই বলেছেন সরকারি দলের প্রতীক নৌকা নিয়ে বিজয়ী সাংসদ রাশেদ খান মেনন৷ আগের সংসদের সময় মন্ত্রী থাকা মেনন সাহেবের ভাষণ ছিল এমন– ‘‘...আমাদের বলা হচ্ছে আপনারা কেন বিরোধী দলে গিয়ে বসছেন না? বিষয়টি নিয়ে তো আমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করবে, প্রশ্ন করবে বা আলোচনা করবে, কিন্তু তা হয়নি৷ মনে হয় এই সিদ্ধান্ত যেন আমাদের ওপর, মনে হচ্ছে সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে৷''

আগের দফায় জোটবদ্ধতার পুরস্কারস্বরূপই মন্ত্রী ছিলেন হাসানুল হক ইনু৷ এবারও নৌকা প্রতীকে সাংসদ হয়েছেন৷ ফের আর মন্ত্রীত্ব পাননি৷ বর্তমান সংসদের বিরোধীদল নিয়ে তিনিও বিরক্ত৷ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে গত ৬ মার্চ ইনু বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ছোটদের আড়ি আড়ি খেলার মতো ফরমায়েশি বিরোধী দলের স্বীকৃতি সংসদকে প্রাণবন্ত করবে না৷'' এই কট্টর সমালোচনার অন্য মানেও থাকতে পারে৷ কারণ, আমরা নবম সংসদের শুরুর বছরে দেখেছিলাম আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা একাধিক নেতা মন্ত্রিসভায় নেই৷ তারা তখন সংসদে সরকারের কঠিন-কঠোর সমালোচক বনে গেলেন৷ তখনকার বিরোধীদল বিএনপির সাংসদদের চেয়েও তারা যেন এক কাঠি সরেস! রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে গেল৷ মন্ত্রীত্ব পেয়ে গেলেন তারা৷ এরপর থেকে তারা সরকারের প্রশংসায়ই থেকেছেন৷ ইনু-মেননদের আজকের অবস্থানের পেছনে সেই ইতিহাসও ফিরে দেখছেন রাজনীতির ভাষ্যকাররা৷

এবারও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ ও ঘনিষ্ঠ অনেক নেতাই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন৷ তবে সাংসদ হয়েও আগের মতো করে সরকারের সমালোচনামুখর তারা আর নন৷ বিরোধীদের ধরাশায়ী করার জন্য উচ্চকণ্ঠও অবশ্য আর নন৷

চলতি সংসদেও প্রথা মতো গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম দিনেই ভাষণ দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি৷ তিনি সরকারি দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন৷ ডাক দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের৷ কিন্তু রাজপথের সরকার বিরোধীরা কীভাবে এতে যুক্ত হবে, সে রকম কোনো দিক-নিদের্শনা ছিল না৷ পরে সংসদ চলেছে এই ভাষণের আলোচনার ওপর দিয়েই৷ প্রায় সবাই দিয়েছেন প্রশংসাবচন৷ অনেক মিঠার মধ্যে সামান্য তেতোর খোঁজ পাই জাপার সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর কথায়৷ ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায়, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণকে উটপাখির ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেন এবং বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে অনেক উন্নয়ন ও ইতিবাচক কথা থাকলেও ব্যর্থতার বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে৷

সরকারি দলের কান দিয়ে না শুনলে পাটোয়ারী সাহেবের ভাষণের সঙ্গে দ্বিমত করার জায়গা কিন্তু কমই৷ বহুমত প্রকাশের জায়গাই আসলে সংসদ৷ এখানে আলোচনা হবে, সমালোচনা হবে, তর্ক হবে, বিতর্ক হবে৷ সংসদে কখনো-সখনো, কিন্তু সংসদের বাইরে রোজই এসব দেখছি আমরা৷ কিন্তু সরকারের তাতে কী আসে যায়৷ তারা চলছে তাদের মতো৷ প্রশাসনেও তার যথেষ্ট প্রতিফলন রয়েছে৷ এই যেমন ওয়াসার এমডি সংসদীয় কমিটিকেও আমলে নিচ্ছেন না৷ ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়, এই অভিযোগ এনে ১৬ মে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি৷ সংসদ ভবনে কমিটির সেই বৈঠকে ওয়াসারও ডাক ছিল৷ কিন্তু তাতে সাড়া দেননি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান৷ ওয়াসা থেকে তার হয়েও কেউ আসেনি৷ এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয় সংসদীয় কমিটি৷ তবে ক্ষোভ পর্যন্তই খবর৷ কারও আসলে কিছুই হয়নি৷ হবেও না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ব্যবস্থা নেয়া হোক বা না হোক এই সংসদে অন্তুত দুটি স্বীকারোক্তি বঙ্গীয় আমজনতাকে ব্যাপক আনন্দ দিতে যথেষ্ট৷ ২৫ এপ্রিল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আদিবা আঞ্জুম একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন, যেখানে উত্তর দিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহন করার সময় চাঁদাবাজি হয়– এ কথা কবুল করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক৷ অন্যদিকে ২৮ এপ্রিল সংসদে স্বীকারোক্তিমূলক ভাষণ দেন নতুন সংসদের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল৷ পুঁজিবাজার বিষয়ক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই৷ ব্যাংক খাতের অবস্থাও নাজুক৷

সুপথ দেখান বা না দেখান, সত্য বলার এমন মনের দেখা মেলাও তো আজকাল দুষ্কর৷ এজন্য দুই মন্ত্রীর অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য৷ তাই বলে ব্যবস্থা নেয়ার দায় থেকে তো তারা দূরে সরে থাকতে পারেন না৷

লুই কানের নকশায় গড়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বহু বছর ধরেই বিবিধ আলাপের জায়গা৷ এই সংসদ ভাসে প্রশংসার বানে৷ চর্চিত হয় ইতিহাস৷ পালটা ইতিহাস৷ উঠে আসে জাতির সংকট আর এলাকার সমস্যার কথা৷ কিন্তু আইনপ্রণেতাদের জন্য কতটা কাজের জায়গা এই সংসদ? কেমন আইন পাস হয় এখানে? কী কী বিল উঠে? কোনো মহলেই আলোচনায় আসেনি তেমন একটা, কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ বিল-২০১৯' এই সংসদেই পাস হয়েছে৷ ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইন বাতিল করতেও উদ্যোগী হয়েছে চলতি সংসদ৷ মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে ছয় মাসের জেল অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন আইন করা হচ্ছে৷ এ বিষয়ক ‘প্রাণিকল্যাণ বিল- ২০১৯' জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে৷ এ বিলটি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি৷ প্রস্তাবিত আইনটিতে বলা হয়েছে, চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বেঁধে বা আটকে রাখলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে৷ এই অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেলের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে৷ এভাবে কুকুরের প্রতি মানবিক হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে চলেছে সংসদ৷

অন্যদিকে, সম্প্রতি সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে তৈরি ৩৭৮টি আইন এখনো বাংলাদেশে চালু রয়েছে৷ এতো এতো আইন যে যুগপযোগী হওয়া দরকার, তা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিবে এই সংসদ? অথচ সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে- এতটুকু দেরি করেনি মহান জাতীয় সংসদ৷

এ বছর চলতি নানা বিষয়ে সুপারিশ রেখেছে সংসদীয় কমিটি৷ তারা চাল আমদানি বন্ধ রাখতে বলছে, মাদকের মামলার বন্দিদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখতে বলছে৷ নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার সুপারিশও দিয়েছিলো৷ ঈদের আগেপড়ে যানজট আর দুর্ঘটনার বার্তাগুলো আমাদের অবশ্য জানান দিয়েছে সুপারিশ কেবল কেতাবেই রয়ে গেছে৷ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আরো আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম হয়েছে এই সংসদ৷ কিন্তু সংকট উত্তরণে সমাধান আজো মেলেনি৷

অংশগ্রহণমূলক সংসদের যে সংকট ছিলো আগের মেয়াদে তা থেকে এবার তৃপ্তির ঢেঁকুর পেতে পারে সরকারি দল৷ কেননা ‘আসবো না, আসবো না' নাটক করেও বিএনপি আর গণফোরামের সব নির্বাচিতরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একাকী ফেলে রেখে আসন শূন্য হওয়ার আগেই সুরসুর করে শপথ নিয়েছেন৷ ফখরুলের শূন্য আসনেও নির্বাচন করছে বিএনপি৷ তাদের কোটায় সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে পেরে খুশি রুমিন ফারহানা৷ সেই তিনিই আবার তারপরই চলতি সংসদকে বলছেন ‘অবৈধ সংসদ'৷ তাদের কেউ কেউ চাইছেন মধ্যবর্তী নির্বাচন৷ চাইছেন খালেদা জিয়ার মুক্তি৷ সাংসদ হিসেবে সুবিধা নেয়া, আবার বিএনপিতেও থাকা- এমন অনেক অনেক বৈপরীত্য নিয়েই এই সংসদ৷

১১ জুন প্রথম সংসদে গিয়েই সেই ধারা ধরে রাখলেন রুমিন৷ দুই মিনিটের শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতেই এই সংসদকে অনির্বাচিত ঘোষণা করেন৷ সংসদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে ব্যাট ধরেন তিনি৷ বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার মেরিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান, এবং তার যে বয়স ও জেন্ডার সব কিছু বিবেচনায় তাৎক্ষণিক জামিন পাওয়ার যোগ্য৷ সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না৷''

DW Bengali Teamleiter - Khaled Muhiuddin

খালেদ মুহিউদ্দীন, ডয়চে ভেলে

তার ভাষণে সরকারি পক্ষে শত শত সাংসদ একই ধ্বনিতে ‘হইহই রইরই' করে উঠেন৷ সরকারি দলের ভিতই যেন নাড়িয়ে দিয়েছেন রুমিন৷ এ কয়েকদিনে বাজেটে আলোচনায়ও উচ্চকণ্ঠ তিনি৷ এ প্রসঙ্গে একটু নবম সংসদে ফিরে যাবো আমরা৷ সদস্য পদ থাকলেও খুব সম্ভব বিএনপি তখন সংসদ-বর্জনের সংস্কৃতিতে ছিলো৷ সংসদে বিরোধীদের উপস্থিতি বলতে তখন কেবল স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম৷ জাতি ও জনতার কিছু বিষয়ে তিনি একাই মাঝে মাঝে সংসদ গরম করে দিতেন৷

এবার বাজেটের আলোচনায়ও এক রুমিনেই বারবার সংসদে উত্তাপ ছড়াবে সেই ইঙ্গিত মিলেছে ১৬ জুন৷ সঙ্গে তার আরেক নেতা মির্জা ফখরুল যদি থাকতেন, তবে সংসদে অপূর্ণতা বলে কিছুই থাকতো না৷ সংখ্যা আসলে সবসময় সব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ কথার স্বাধীনতা ও বলার সক্ষমতাই মূল বিষয়৷

কারণ, কথায় কথায় এই সংসদে দাবি-দাওয়া পেশ করা যাবে৷ সরকারের সমালোচনাও করা যাবে৷ যাত্রা দিনেই এ আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেছেন, ‘‘বিরোধী দলকে আশ্বাস দিতে পারি আপনারা যথাযথভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন৷ এখানে আমরা কোনও বাধা দৃষ্টি করবো না৷ অতীতেও কোনও দিন আমরা বাধা দেইনি৷''

১২ জুন অবশ্য ইতিবাচক কিছু উপমা রেখেছেন সংসদ নেতা৷ তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে জাতীয় পার্টির সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, দুদকের মধ্যে অনেকেই দুর্নীতির ব্যাধিতে আক্রান্ত বলে জনশ্রুতি আছে৷ তবে সম্পূরক প্রশ্নে সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম ‘দুদক নিয়ে জনশ্রুতি আছে' রওশন আরা মান্নানের প্রশ্ন থেকে ওই অংশ বাদ রাখার প্রস্তাব দেন৷ তার যুক্তি, এতে ভালো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হবে৷ এ অবস্থায় শেখ হাসিনা থাকেন রওশনের পক্ষে৷ বলেন, রওশন আরা মান্নান বলেছেন, জনশ্রুতি আছে৷ তার অর্থ সবাই দুর্নীতি করছেন, তা নয়৷ তবে এই জনশ্রুতির বিষয়টি একেবারেই মিথ্যা নয়৷ তাই এ কথা বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই৷

একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন আড়ংয়ের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর কারণেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলি করা হয়েছিলো৷ যা ঠেকান শেখ হাসিনা নিজেই৷ সেই ঘটনা সামনে রেখে সংসদ নেতা সংসদে বলেন, দুর্নীতি দমন বা খাদ্য নিরাপত্তা, এমন এমন বড় বড় জায়গা আছে, যেখানে হাত দিলে মনে হয় যেন হাতটা পুড়ে যাচ্ছে৷ আর যাঁরা এ কাজটি করতে যান, তাঁরাই অপরাধী হয়ে যান৷

যাই হোক, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভরা সময়ে সব ঘটনা ছাপিয়ে সংসদ আর সংসদের বাইরে বাজেট এখন বড় আলোচনার বিষয় বাংলাদেশে৷ আসছে অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণায় জাতীয় সংসদ ১৩ জুন নতুন এক দিক দেখলো৷ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থতার কারণে একপর্যায়ে তার জীবনের প্রথম বাজেট বক্তব্য দিতে পারছিলেন না৷ এখানে আর কাউকে আনলেন না প্রধানমন্ত্রী৷ বক্তব্যের বাকিটা দিলেন নিজেই৷ সংসদের বাইরে পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনেও কামাল সাহেবের কাজটি সেরে দিলেন শেখ হাসিনা৷ সংসদেও বাজেটের দিনগুলোয় তিনি সরকার ও দলের হয়ে সংসদে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন, এ কথা বলাই যায়৷

কিন্তু বিরোধীদলের নেতা হু. মু. এরশাদের অসুস্থতায় সংসদে কে আছে তার জায়গায়, সেই কণ্ঠ এখনো মিলছে না৷ রাজপথের বিরোধীদল বিএনপির হয়ে সংসদে রুমিন যেটা পারছেন, সদস্য বেশি হয়েও সেটা পারছে না জাপার কেউ৷ আশির শেষ দশকে জাপারই সৃজন ‘গৃহপালিত বিরোধীদল' গর্তে এখন হয়তো তারা নিজেরাই আটকা পড়ে আছে৷

দশক দশক আগের অতীতে ফিরতে চাই না আমরা৷ চোখ রাখতে চাই বর্তমানে৷ তাকাতে চাই সামনে৷ একাদশ সংসদ অংশগ্রহণমূলক একটি দ্বাদশ সংসদের পথ রচনা করবে- এটা দেখতে চাই৷ বাজেট অধিবেশন থেকেই সেই ধারার সূচনা হতে পারে৷ নয়তো মারা পড়বে প্রাণভোমরাটি৷ এতে রূপকথার দানব নয়, মৃতবৎ হবে সংসদ, মারা পড়বে গণতন্ত্র, পেরেক ঠোকা হবে রাজনীতির কফিনে- এমন একটি বাংলাদেশ নিশ্চয়ই কেউ দেখতে চাইবে না৷

একাদশ সংসদ কি অংশগ্রহণমূলক দ্বাদশ সংসদের পথ রচনা করবে? মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন