রুটি-পাউরুটি নিয়ে আস্ত মিউজিয়াম! | অন্বেষণ | DW | 28.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রুটি-পাউরুটি নিয়ে আস্ত মিউজিয়াম!

‘পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি'৷ কাব্য, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম – প্রায় সব ক্ষেত্রেই রুটি বা পাউরুটির উল্লেখ পাওয়া যায়৷ রুটির ইতিহাস ও প্রভাব নিয়ে আস্ত একটা মিউজিয়াম রয়েছে অস্ট্রিয়ায়, যার স্থাপত্যশৈলিও নজর কাড়ার মতো৷

ভিডিও দেখুন 03:48
এখন লাইভ
03:48 মিনিট

ঘুরে আসুন পাউরুটি-মিউজিয়াম থেকে

এ যেন স্বপ্নের এক বাড়ি৷ অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরের উপকণ্ঠে আস্টেন-এর ‘পানেউম' মিউজিয়াম ভবনটি যেন ভবিষ্যৎ থেকে উঠে এসেছে৷ প্রায় ১,০০০ বর্গ মিটার জুড়ে শুধু একটি বিষয় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে – পাউরুটি৷ পেটার আউগেনডপলার তাঁর বেকিং কোম্পানির দৌলতে গোটা বিশ্বে কোটি কোটি ইউরো আয় করছেন৷ পাউরুটির জন্য এমন এক স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা ছিল তাঁরই স্বপ্ন৷ তিনি বলেন, ‘‘যে মুহূর্তে কিছুই ছিল না, তখন রুটিই ছিল সম্বল, তা সে যতই খারাপ হোক না কেন৷ সেটা খেয়ে বেঁচে থাকার উপায় ছিল৷ পাউরুটি না থাকলেই লোকে বুঝতো, আর কিছুই নেই৷ এটাই রুটির বৈশিষ্ট্য৷''

সাধের এই মিউজিয়ামের জন্য তিনি এক অসাধারণ ভবন গড়তে চেয়েছিলেন৷ ভিয়েনার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি সংস্থা কোয়প হিমেলবাউ মিউজিয়ামের নক্সা তৈরি করে৷ ভবনটির আকার-আয়তন সম্পর্কে ভল্ফ ডে প্রিক্স-এর নিজস্ব এক আইডিয়া ছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘ভবনটির আকৃতি নিয়ে নিত্য নতুন ব্যাখ্যা শুনলে খুব খুশি হই৷ কেউ বলে রুটির ডেলা অথবা কেকের ছাঁচ৷ অবশ্যই ভুল ধারণা, কারণ আমি শুধু মেঘের জাহাজের কথা ভেবেই ভবনটি তৈরি করেছি৷''

কোয়প হিমেলবাউ সংস্থা তার উদ্ভাবনী নক্সার জন্য গোটা বিশ্বেই পরিচিত৷ ফ্রাংকফুর্ট শহরে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে শুরু করে মিউনিখ শহরের বিএমডাব্লিউ ওয়ার্ল্ড, অথবা ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে বিজ্ঞান ও নৃতত্ত্ব মিউজিয়াম ভবনও তাদেরই সৃষ্টি৷

গোটা ভবনটিকে সংগ্রাহকের ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর মঞ্চ করে তোলাই ছিল লক্ষ্য৷ প্রদর্শনীর বস্তুগুলিকে শুধু কাচের কেসের আড়ালে রাখা হয়নি, দেওয়াল ও সিলিং-এও কিছু বস্তু শোভা পাচ্ছে৷ ঘরের মাঝে ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে দর্শকরা চার তলার উপর মিউজিয়ামের মূল কাঠের কামরায় পৌঁছতে পারেন৷ পেটার আউগেনডপলার নিজেই বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় ১,২০০ বস্তু সংগ্রহ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা দর্শকদের দেখাতে চাই, পাউরুটি কীভাবে বিগত ছয় থেকে আট হাজার বছর ধরে মানবজাতির ইতিহাসের উপর প্রভাব রেখেছে৷ শুধু খাদ্য নয় – কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্মসহ মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রেই রুটির ভূমিকা রয়েছে৷''

প্রায় ৯,০০০ বছর প্রাচীন ‘গ্রেন স্ল্যাব' বা শস্যের ফলকের মাধ্যমে মিউজিয়ামে রুটির আদি যুগও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যে রুটিকে কীভাবে সম্মান দেখানো হয়েছে, মিউজিয়ামে তারও দৃষ্টান্ত দেখা যায় – যেমন দক্ষিণ অ্যামেরিকা বা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়৷ শিল্পের ক্ষেত্রেও রুটি তৈরির প্রক্রিয়া কীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তারও স্বাদ পাওয়া যায়৷

রুবেন কালুস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও