রিভার্স গ্রাফিটি পদ্ধতিতে অভিনব শিল্পকর্ম | অন্বেষণ | DW | 08.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রিভার্স গ্রাফিটি পদ্ধতিতে অভিনব শিল্পকর্ম

বন্দর বা বাঁধের প্রাচীরই এক জার্মান শিল্পীর সৃষ্টির ক্যানভাস হয়ে ওঠে৷ সেই সৃষ্টিকর্ম কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলীন হয়ে যায়৷ ফ্রান্সের দক্ষিণে একটি শহরে বন্দরের প্রাচীরে তিনি এমনই এক অভিনব প্রকল্প শোভা পাচ্ছে৷

জার্মানির শিল্পী ক্লাউস ডাউফেন প্রেশার ওয়াশার নিয়ে সৃষ্টির কাজে মেতেছেন৷ ফ্রান্সের দক্ষিণে সেট শহরে বন্দরের প্রাচীরই এবার তাঁর পট হয়ে উঠেছে৷ সেখানে ১৩টি ‘রিভার্স গ্রাফিটি’ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ তার জন্য প্রাচীর পরিষ্কার করা হচ্ছে৷ ক্লাউস বলেন, ‘‘নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চার দেওয়ালের বাইরে কাজ করতে দারুণ লাগে৷ একটি বিষয় নিয়ে ঠিক সমালোচনা নয়, আমাকে প্রশ্ন করা হয়৷ এই শিল্প অস্থায়ী হলেও আমাকে মোটেই পীড়া দেয় না, বরং আকর্ষণীয় মনে হয়৷’’

তাঁর সরঞ্জাম হলো প্রেশার ওয়াশার৷ ২ থেকে ৩ বার ইউনিট চাপে যন্ত্রটি প্রাচীরের উপর পানি নিক্ষেপ করে৷ চাপ আরও বাড়ালে প্রাচীরের কাঠামোর ক্ষতি হবে৷

ক্লাউস ডাউফেন ও ক্লিনিং টেকনিশিয়ান নিক হাইডেন বেশ কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছেন৷ যন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরাসরি ভূমধ্যসাগর থেকে আনা হয়৷ নিক বলেন, ‘‘শুধু পানি দিয়ে এমন দারুণ আবহ ফুটিয়ে তোলা যে সম্ভব, সেটা সত্যি অসাধারণ৷ প্রাচীরের গায়ে গজানো গাছপালা আর লতাপাতা পরিষ্কার করলেই এমন স্পষ্ট রূপ সৃষ্টি করা সম্ভব৷ মুখচ্ছবিগুলির অভিব্যক্তি সত্যি অসাধারণ৷’’

ক্লাউস ডাউফেন-এর আরেকটি সরঞ্জাম হলো কাঠের স্টেনসিল৷ এগুলি দিয়ে বন্দরের প্রাচীরের গায়ে ১৩টি প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে৷ সেই সব মানুষ এই শহরেই বসবাস করেছেন৷ ক্লাউস বলেন, ‘‘আমি বেশ কয়েকটি বই কিনেছি, যাতে সিট শহরের পুরানো ছবির সংগ্রহ রয়েছে৷ সেখান থেকেই আমি কিছু অসাধারণ মুখচ্ছবি বেছে নিয়েছি৷ বিখ্যাত ব্যক্তিদের চাই নি, এমন মানুষ বেছে নিয়েছি, যাদের মুখচ্ছবি জীবনেরই কাহিনি তুলে ধরে৷ সেটাই একমাত্র শর্ত৷’’

সিট মঁপেলিয়ে শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত৷ ভূমধ্যসাগর উপকূলে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এটি৷ শহরের মূল নিদর্শন হলো বন্দরের প্রাচীর, যা প্রায় ৬৫০ মিটার বিস্তৃত ও ২ মিটার ৮০ সেন্টিমিটার উঁচু৷ ক্লাউস ডাউফেন বলেন, ‘‘বন্দরের এই প্রাচীরই শহরের প্রথম নির্মাণের চিহ্ন, যে কারণে সিট আদৌ শহর হয়ে উঠেছে৷ বন্দরই শহরের উৎস৷ ৩৫০ বছর আগে সেটি তৈরি হয়েছিল৷ মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল৷ সেটাই আমার সৃষ্টিকর্মের প্রেক্ষাপট৷’’

ক্লাউস ডাউফেন শিল্প নিয়ে পড়াশোনা করেছেন৷ পেশায় তিনি শিক্ষক৷ অবসর সময়ে রিভার্স-গ্রাফিটি শিল্পচর্চা করেন৷ ২০০৭ সাল থেকে এক জার্মান কোম্পানির সঙ্গে তিনি এই কাজ করছেন৷

তাদের প্রথম বড় প্রকল্প জার্মানিরই এলাকায় এক বাঁধের প্রাচীরে রূপায়িত হয়েছিল৷ ২০০৮ সালে জাপানে এক প্রাচীরে ফুলের সম্ভার ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল৷ ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশাল বাঘের আবির্ভাব ঘটেছিল৷ ক্লাউস ডাউফেন বলেন, ‘‘রিভার্স-গ্রাফিটি আমার কাছে শিল্পের নিখুঁত রূপ৷ অঙ্কনশিল্পী হিসেবে চিরকালই আমার বড় ফরম্যাট পছন্দ৷ বাঁধের প্রাচীরে আমি নিজস্ব সৃষ্টি ফুটিয়ে তুলতে পারি৷ এর থেকে বড় চিত্রপট আর নেই৷’’

শিল্পসৃষ্টির ক্ষেত্রে কেয়ারশার কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতার কর্মসূচি রয়েছে৷ মনুমেন্ট বা স্মৃতিস্তম্ভ পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে তাদের ৩৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ তাদের অন্যতম চমকপ্রদ প্রকল্প ছিল অ্যামেরিকার বিখ্যাত মাউন্ট রাশমোর৷ ২০০৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মুখের আদলে তৈরি সেই পাহাড় সাফাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল এই কোম্পানি৷ ব্রাজিলের রিও শহরে যিশুখৃষ্টের মূর্তি ও জার্মানিতে হেয়ারমান মনুমেন্টও সাফাই করেছে তারা৷ এখনো পর্যন্ত এই কোম্পানি গোটা বিশ্বে ১৪০টিরও বেশি দর্শনীয় স্থান বিনামূল্যে সাফাই করেছে৷

Hochdruckreiniger-Kunstwerke von Klaus Dauven

নিজের কাজের সঙ্গে ক্লাউস ডাউফেন

তিন দিনেই কাজ শেষ করেছেন ক্লাউস ডাউফেন৷ সিট শহরের বন্দরের প্রাচীর সম্ভবত ফ্রান্সের দক্ষিণে খোলা আকাশের নীচে সবচেয়ে বড় গ্যালারি হয়ে উঠেছে৷ তবে প্রকল্পটি চিরস্থায়ী নয়৷ ক্লাউস বলেন, ‘‘প্রাচীর কতটা কাত হয়ে রয়েছে, তার অ্যালাইনমেন্ট বা বিন্যাস এবং জলবায়ু – এই তিনটি বিষয়ের উপর সবকিছু নির্ভর করছে৷ আমার অভিজ্ঞতা বলে, উত্তর দিকে অ্যালাইনমেন্টের কারণে এখানে আদর্শ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে৷ কমপক্ষে ৫ বছর ধরে এই শিল্পকর্ম দেখা যাবে৷

এই সৃষ্টিকর্মের নাম ‘লোকজন’৷ ফ্রান্সের দক্ষিণের এই শহরের ১৩ জন বাসিন্দাকে নিয়ে এক মনুমেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে৷ রিভার্স-গ্রাফিটির এই সৃষ্টি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলীন হয়ে গেলেও ডাউফেন-এর এই শিল্পকর্মের স্মৃতি অমর হয়ে থাকবে৷

কিয়র্স্টিন শুমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন