‌রাষ্ট্রীয় নজরদারির বিরুদ্ধে | বিশ্ব | DW | 12.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌রাষ্ট্রীয় নজরদারির বিরুদ্ধে

ই-মেল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্র নজরদারি চালাতে চায় মোদী সরকার৷ কিন্তু বাদ সেধেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মহুয়া মৈত্র৷

জর্জ অরওয়েলের উপন্যাসে আছে এমন রাষ্ট্রের কথা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিটি কাজকর্মের ওপর নজর রাখে প্রশাসন৷ কমিউনিস্ট-শাসিত সোভিয়েত রাশিয়ার কঠোর নজরদারির কথা মাথায় রেখে সেই উপন্যাস লিখেছিলেন অরওয়েল৷ যদিও একা রাশিয়া নয়, অ্যামেরিকাও সমান নিন্দিত হয়েছে একসময়, স্বদেশে এবং বিদেশে তাদের বে-এক্তিয়ার গোয়েন্দাগিরির জন্য৷ রাশিয়ার যেমন গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি, অ্যামেরিকার তেমনি সিআইএ৷ ভারতেও সম্ভবত সেরকমই কর্তৃত্ব কায়েম করার কথা ভাবছেন কেন্দ্রের  বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ প্রথমে তথ্য সম্প্রচার আইন বদলে, তারপর ভারতীয় নাগরিকদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘‌আধার'‌-এর নিয়ামক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তারা দেখতে চাইল, সোশ্যাল মিডিয়ায়, ব্যক্তিগত ই-মেলে সরকারবিরোধী কোনো কথাবার্তা, কাজকর্ম হচ্ছে কিনা৷ তারপর নির্দেশিকা এলো, দেশের ১০টি তদন্তকারী সংস্থাকে যে কোনো নাগরিকের কম্পিউটার খুলে দেখার, একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে চালু হওয়া ই-মেল ও অন্যান্য বার্তা তল্লাশি করে দেখার ছাড়পত্র দেওয়া হবে৷

বিতর্কিত এই বিধি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর বিতর্ক হলো৷ চায়ের আড্ডায়, সোশাল মিডিয়ায় তুফান উঠল৷ কিন্তু কাজের কাজটা করেছেন  পশ্চিমবঙ্গের করিমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মহুয়া মৈত্র৷ তিনি সোজা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এক এক করে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দিয়েছেন সরকারের বিরুদ্ধে৷ বিষয়টা যে অবাঞ্ছনীয়, সেটা মামলায় হাজির দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের সতর্ক প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট৷ কিন্তু তার পরেও পিছু হটছে না সরকার, বরং ঘুরপথে এগিয়ে যেতে চাইছে৷

অডিও শুনুন 05:01
এখন লাইভ
05:01 মিনিট

‘সরকারের বিরুদ্ধে কিছু আছে কিনা জানার জন্য প্রতিটি জেলায় বেসরকারি সংস্থা বসিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নজরদারি করতে চায়’

মহুয়া মৈত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সরকার বিষয়টা নিয়ে কীভাবে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে৷ মহুয়া বললেন, ‘‌‘‌প্রথমে এপ্রিল (‌২০১৮)‌ মাসে আমাদের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক একটি টেন্ডার প্রকাশ করে তার ওয়েবসাইটে৷ সেই টেন্ডারে তারা দরপত্র চেয়েছিল, সমস্ত নাগরিকের ব্যক্তিগত ই-মেল, ব্যক্তিগত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, যা-ই হোক, সব ‘‌সোশ্যাল মিডিয়া টুল'‌-এর ওপর প্রতিটি জেলায় তারা একটি বেসরকারি সংস্থা বসিয়ে, সেই সংস্থার কর্মচারীরা সোশাল মিডিয়ায় নজরদারি করবে৷ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু আছে কিনা, সেটা জানার জন্য৷ এটা যখন হয়, তখন আদালতে ছুটি চলছিল৷ জুলাই মাসে আমি এটা (‌পিটিশন)‌ ফাইল করি৷ আগস্টে যখন এটা ওঠে, ছুটি শেষ হওয়ার পরে, তখন কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল অফ ইন্ডিয়া কে কে বেণুগোপাল দাঁড়িয়ে বললেন যে, ‘‌না, এটা আমরা চালু করছি না৷ এটা আমাদের মনে হয় যে, যতটা গবেষণা করা উচিত ছিল, আমরা করিনি৷ আমরা এটা আপাতত বন্ধ করে দিচ্ছি, প্রত্যাহার করছি৷'‌ যেদিন উনি দাঁড়িয়ে সেটা প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর আদালতে বললেন যে ‘‌আমরা প্রত্যাহার করছি'‌, ঠিক তক্ষুনি, সেই একই সময়ে ওরা কিন্তু ঠিক একই টেন্ডার আধার কর্তৃপক্ষ, ইউআইডিআই-এর মাধ্যমে একই টেন্ডার আবার ওয়েবসাইটে তুলে দিলো৷ প্রথম পিটিশনের জবাবে ওরা যখন বলল ‘‌আমরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি', আমরা ভাবলাম আমাদের জয় হয়েছে, দেখা গেল যে সেটা খুবই ক্ষণস্থায়ী৷ দুদিনের মধ্যে ওরা আবার একই দরপত্রের আবেদন রাখলো৷ তখন আবার দ্বিতীয় রিট পিটিশন ফাইল করলাম, যেটা অবিকল প্রথম পিটিশনের মতো ছিল৷ সেটার জবাবে কেন্দ্র সরকার বলল, এ ব্যাপারে তোমার কী কী মতামত, সেটা আমরা বিবেচনা করতে রাজি আছি৷ তখন সুপ্রিম কোর্ট বলল, তুমি (‌‌যা যা বলার আছে) হলফনামা দিয়ে বল৷ তখন আমি বললাম যে, একবার যখন কেউ তথ্য দেখে নেয়, সেটা আর ফেরত দেওয়া যায় না৷ এটা একেবারেই সাদা এবং কালো৷ এর মাঝামাঝি কোনো বিষয় নেই৷ সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা চাই যে, এটা প্রত্যাহার করা হোক, এটার কোনো যুক্তি নেই!‌‌'‌'‌

মহুয়া মৈত্রর বক্তব্য এ ব্যাপারে খুবই স্পষ্ট৷ যখন সামনের দরজা দিয়ে কিছু করা যায় না, তখন লোকে পেছনের দরজা দিয়ে চুপিসারে কাজটা করার চেষ্টা করে৷ এক্ষেত্রেও নরেন্দ্র মোদী সরকার বারবার একই চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ সেটা আটকাতে পরপর দুটো জনস্বার্থ রিট পিটিশন মহুয়া করেছেন, যেটার শুনানি সামনেই৷ আর তৃতীয় যে পিটিশনটি মহুয়া করেছেন, সেটা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি নির্দেশিকার বিরুদ্ধে, যেখানে দেশের ১০টি সংস্থাকে যে কোনো নাগরিকের কম্পিউটার হাতড়ে দেখা, ই-মেল, মেসেজ পড়ার ঢালাও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে৷ মহুয়া বলছেন, সাধারণ মানুষের বাড়িতে যে কম্পিউটার আছে, যেটা বাড়ির লোকজন, বাবা-মায়েরা ব্যবহার করেন, সেটাও বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি করার ছাড়পত্র দিতে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে এই বদল করা হচ্ছে৷ মোদী সরকারের যুক্তি হলো, এটা নতুন কিছু নয়, অনেক আগে থেকেই আছে৷ কিন্তু সেই আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এমনটা করা যেতে পারে৷ তার জন্যে পাঁচটা নির্দিষ্ট কারণ বলে দেওয়া আছে৷ কিন্তু কেন্দ্র সরকার ওই কারণগুলো এড়িয়ে গিয়ে ১০টা দপ্তরকে নজরদারির এই একতরফা অধিকার দিতে চাইছে৷ সেই ১০ সংস্থার মধ্যে প্রত্যক্ষ কর বিষয়ক পর্ষদ আছে৷ দিল্লি পুলিশও আছে৷ যদি এটা জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে হয়, তাহলে কর দপ্তরকেও কেন এই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে?‌ প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া মৈত্র৷

রাষ্ট্রীয় নজরদারির এই গোটা বিষয়টিই এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন৷ মহুয়া আশা করছেন, সেখানে ন্যায়বিচারই পাবেন দেশের মানুষ৷      

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন