রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | বিশ্ব | DW | 16.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

নির্বাচনে নাক গলানো, সাইবার আক্রমণ: ‘একটানা অনিষ্টকর আক্রমণের' উল্লেখ করে মার্কিন ট্রেজারি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে৷ এছাড়া রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো হ্যাক করেছে, বলে ওয়াশিংটনের অভিযোগ৷

বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করে ও তার কারণ হিসেবে ‘‘রাশিয়া থেকে আসা একটানা অনিষ্টকর আক্রমণের'' কথা উল্লেখ করে৷

রাশিয়ার সর্বোচ্চ দু'টি গুপ্তচর সংস্থা, ফেডারাল নিরাপত্তা সেবা (এফএসবি) ও মুখ্য গুপ্তচরবৃত্তি পরিদফতর (জিআরইউ) এই নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়েছে৷ সেই সঙ্গে রাশিয়ার তথাকথিত ইন্টারনেট গবেষণা সংস্থাকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে৷ বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মালার সম্প্রতি এই ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন৷

এফএসবি-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে ঐ সংস্থার তরফে ‘‘সাইবার নিরাপত্তা, কূটনীতি, সামরিক বাহিনী ও হোয়াইট হাউসে কর্মরত বিভিন্ন কর্মচারী সহ'' বহু মার্কিন কর্মকর্তার উপর সাইবার নজরদারির কথা বলা হয়েছে৷ 

জিআরইউ, ও সংস্থাটির একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো যে, তারা ‘‘সাইবার চালিত গতিবিধির মাধ্যমে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ'' করেছেন৷ এছাড়া ২০১৭ সালের জুন মাসে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যবসা সংস্থার উপর ‘নটপেটিয়া' সাইবার আক্রমণের জন্যও জিআরইউ দায়ি ছিল, বলে মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ৷

ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি ও তার সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তারা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভুয়ো অনলাইন আইডি ব্যবহার করে হাজার হাজার অনলাইন বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছেন৷

বর্তমানেও মার্কিন বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিড হ্যাক করার যে চেষ্টা চলেছে, তার জন্য একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি বা অর্থমন্ত্রী স্টিভ মেনুশিন বলেছেন, ‘‘(মার্কিন) প্রশাসন ক্ষতিকর রুশ সাইবার গতিবিধির মুখোমুখি হচ্ছে ও পাল্টা জবাব দিচ্ছে৷'' ক্ষতিকর রুশ সাইবার গতিবিধির দৃষ্টান্ত হিসেবে মেনুশিন মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, ধ্বংসাত্মক সাইবার আক্রমণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টার কথা বলেছেন৷

ট্রেজারির এই নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে এই কারণে যে,  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এযাবৎ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করতে গড়িমসি করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

রুশ প্রতিক্রিয়া

রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন যে, মস্কো এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামালেও, ইতিমধ্যেই ‘‘একটি প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিতে'' শুরু করেছে৷ রিয়াবকভের মতে আগামী সপ্তাহান্তে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গেও এই মার্কিন পদক্ষেপের সংযোগ আছে: ‘‘(এই পদক্ষেপ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও স্বভাবতই আমাদের নির্বাচনি নির্ঘণ্টের সঙ্গে যুক্ত,'' বলেছেন রিয়াবকভ৷

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা স্বদেশ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বছর খানেক আগে রুশ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তি, বিমান পরিবহণ, পানি সরবরাহ, পূর্ত ও শিল্পোৎপাদন ইত্যাদি সেক্টরগুলি হ্যাক করার চেষ্টা শুরু করে৷ এক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রশাসনিক ও ইউজার অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢোকার প্রচেষ্টা করে, বলে এফবিআই ও অপরাপর জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা ইতিপূর্বে জানিয়েছে৷

দৃশ্যত রুশ হ্যাকাররা একক কোম্পানিগুলির ওয়েবসাইটে ঢুকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে – যেমন কোম্পানির কর্মচারীদের ছবি এনলার্জ করলে, ছবির পটভূমিতে কারখানার নিয়ন্ত্রণ প্রণালীর খুঁটিনাটি দেখা সম্ভব৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন