রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তি সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প | বিশ্ব | DW | 03.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তি সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা দ্বিধার সঙ্গেই বিলটিতে স্বাক্ষর করেন, কেননা তাঁর মতে এই বিল ‘গুরুতরভাবে ত্রটিপূর্ণ’৷ অপরদিকে রাশিয়া বিলটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের’ সঙ্গে তুলনা করেছে৷

বুধবার ট্রাম্প যখন বিলটিতে স্বাক্ষর করেন, তখন সেখানে কোনো সাংবাদিক বা ক্যামেরার উপস্থিত ছিল না৷ স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প একটি বিবৃতিতে বলেন যে, তাঁর দৃষ্টিতে বিলটি ‘‘গুরুতরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’’ এবং এই বিল তাঁর কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চালানোর পথে বাধা সৃষ্টি করবে৷

‘‘প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার স্বাধীনতা সীমিত করার মাধ্যমে এই বিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন জনগণের জন্য সুবিধাজনক চুক্তি করা আরো কঠিন করে তুলবে, এবং চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে পরস্পরের আরো বেশি কাছাকাছি নিয়ে আসবে,’’ বলেন ট্রাম্প৷ তিনি ‘‘জাতীয় ঐক্যের কল্যাণে’’ বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন, বলে ট্রাম্প যোগ করেন৷

কে কার বিরুদ্ধে

রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ সংক্রান্ত বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, অর্থাৎ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সেনেটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হয়েছে৷ বিলের একটি সূত্র অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট তাঁর একক ক্ষমতার বলে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন না৷ অপরদিকে কংগ্রেসে বিলটির যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তার ফলশ্রুতি স্বরূপ প্রেসিডেন্ট তাঁর ভেটো নিয়োগ করে বিলটিকে রুখতে পারবেন না৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ক্রাইমিয়া দখল, প্রধানত এই দু'টি কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করছে এই বিল৷ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি শিল্প, বিশেষ করে তার রপ্তানি ব্যবসা – যা পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রভাবিত করবে, কেননা ইইউ-এর কাঁচা জ্বালানি শক্তির একটা বড় অংশ আসে রাশিয়া থেকে; দ্বিতীয়ত, রাশিয়া থেকে বালটিক সাগর হয়ে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রেরণ সংক্রান্ত ‘নর্ড স্ট্রিম ২’ প্রকল্পটিতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার একাধিক বড় জ্বালানি সংস্থা সংশ্লিষ্ট – এই বিল অনুযায়ী সেই সব সংস্থার উপর দণ্ড আরোপ করা চলতে পারে৷

ট্রাম্প, তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য ও একাধিক নির্বাচনি সহযোগীর বিরুদ্ধে যখন রুশ কূটনীতিক ও অপরাপর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগসাজসের ব্যাপারে তদন্ত চলেছে, তখন কংগ্রেসের এই ‘বাইপার্টিজান’, অর্থাৎ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের যৌথ পদক্ষেপকে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্টের প্রতি আস্থাহীনতা, অন্যদিকে সাধারণভাবে কংগ্রেস তথা মার্কিন রাজনীতিকদের স্বাধীনতা ঘোষণা হিসেবে গণ্য করছেন৷ ট্রাম্প যখন তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সচেষ্ট, তখন এই বিল সেই প্রচেষ্টার বিপরীত দিক নির্দেশ করছে – আসল সংঘাত সম্ভবত সেখানেই৷

রুশ প্রতিক্রিয়া

রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন যে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটার সব আশার অন্ত ঘটিয়েছে

তাঁর ফেসবুক পোস্টে মেদভেদেভ দাবি করেন যে, ‘‘কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে অপমানজনক ভাবে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব সমর্পণ করে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্ণ অক্ষমতা প্রদর্শন করেছে৷’’ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের’ সমতুল, বলে মেদভেদেভ যোগ করেন৷

ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করার আগেই রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ায় তাদের কূটনৈতিক কর্মীসংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেয় – পর্যবেক্ষকরা যাকে ক্রেমলিনের তরফে অপেক্ষাকৃত মৃদু প্রতিক্রিয়া হিসেবেই গণ্য করছেন৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, মস্কো এখনও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটার আশা পুরোপুরি ত্যাগ করেনি৷

ইউরোপের উদ্বেগ

ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন যে, তাঁর প্রশাসন বিলটিতে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সাথে কাজ করেছে; ‘নর্ড স্ট্রিম ২’ পাইপলাইন নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলির উদ্বেগের বিষয়টিও তার মধ্যে ছিল৷

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুঙ্কার বুধবার জার্মান সরকারি টেলিভিশন কেন্দ্র এআরডিকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইইউ-এর কিছু কিছু দুশ্চিন্তা বিবেচনা করেছে৷ কিন্তু তিনি পুনরায় ব্রাসেলসের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেন যে, মার্কিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যদি ইউরোপীয় শিল্পসংস্থাগুলির হানি ঘটায়, সেক্ষেত্রে ইইউ ‘‘কয়েক দিনের মধ্যে’’ পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত

বিলটিতে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে প্রধানত এই দু'টি দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে – যদিও ইরানের ক্ষেত্রে স্বদেশে মানবাধিকার ভঙ্গ ও মধ্যপ্রাচ্যে ‘‘স্থিতি হানিকর গতিবিধি’’ এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে দাস শ্রমিকদের ব্যবহারও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে৷ তেহরানের মতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তির ‘‘বয়ান ও মনোভাবের’’ বিরোধী৷

এসি/ডিজি (এপি, রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন