রানা প্লাজা: সাত বছরেও মামলার জট খোলেনি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রানা প্লাজা: সাত বছরেও মামলার জট খোলেনি

রানা প্লাজা ধস৷ সাত বছর আগে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প খাতে ঘটা সবচেয়ে বিভৎস এ ঘটনা সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল৷ সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে সাভার বাস স্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা নামে আট তলা একটি ভবন ধসে ১,১৩৮ জন নিহত হন৷ পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় প্রায় দেড় হাজার জনকে৷

ভয়াবহ এই ঘটনার স্মরণে এবং হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রতিবছর এই দিনে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন৷ তবে দেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর কোনো কর্মসূচি রাখেনি সংগঠনগুলো৷ বরং ‘রানা প্লাজা সার্ভাইভারস অ্যাসোসিয়েশন’সহ সাভারে শ্রমিকদের ২৫টি সংগঠনের নেতারা জনগণকে ঘরে থেকে এই দিনটি স্মরণ করার অনুরোধ করেছেন বলে জানায় ইউএনবি৷ 

কবে খুলবে মামলার জট?

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার শুরুর জট এই সাত বছরেও খোলেনি৷মামলার কার্যক্রমের ওপর আসামিপক্ষ সেই যে হাই কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছে, সে গেরো থেকে এখনো বের হওয়া যায়নি৷ অথচ অভিযোগপত্র দায়েরের পর পেরিয়েছে চার বছর৷ এর মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ ২০ বারের বেশি পিছিয়েছে৷

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি খন্দকার আব্দুল মান্নান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচার শুরুর বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানায় বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

তবে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুলাই মামলাটির ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রয়েছে৷

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রতাকে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রহসন’ বলছেন শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে সোচ্চার কর্মীরা৷ রানা প্লাজা ধসের দিনই সাভার থানায় দুটি মামলা হয়৷ পরের বছর দুর্নীতি দমন কমিশন দায়ের করে আরেকটি মামলা৷ প্রথমটিতে হতাহতের ঘটনা উল্লেখ করে ভবন ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সাভার মডেল থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ৷ আর রাজউক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের দায়ের করা অন্য মামলাটিতে ভবন নির্মাণে ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়৷

 ‘অবহেলা ও অবহেলাজনিত হত্যার’ অভিযোগে মামলা দায়েরের দুই বছর পর ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন৷ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে৷ আসামিদের মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবুল হোসেন মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ৩৯ জন৷

২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন৷

কারখানার পরিবেশ কি নিরাপদ হয়েছে?

রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকদের সুরক্ষায় পশ্চিমা দেশগুলোর পোশাক ক্রেতারা নিজেদের অর্থায়নে দুটি সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের শর্ত জুড়ে দেয়৷ ইউরোপীয় ক্রেতাদের ‘দ্য অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ' এবং উত্তর অ্যামেরিকার ক্রেতাদের ‘দ্য অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি' সংগঠন দুটি বাংলাদেশে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সন্তুষ্ট হতে না পারলে তারা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়৷ 

অ্যাকর্ডের অধীনে ১৬৪৫ টি কারখানা রয়েছে৷ তারা প্রাথমিকভাবে যত ত্রুটি চিহ্নিত করেছিল জানুয়ারি পর্যন্ত তার ৯১ ভাগই সংস্কার হয়েছে৷ ২৭৩টি কারখানা শতভাগ সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে৷

অন্যদিকে অ্যাকর্ডের অধীনে থাকা কারখানাগুলো ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯৩ ভাগ সংস্কার কাজ শেষ করেছিল৷ ঐ সময় পর্যন্ত ৪২৮টি কারখানা শতভাগ ত্রুটিমুক্ত হয়েছে৷ তাদের অধীনে মোট কারখানা ছিল ৭১৪টি৷ 

শ্রমিকদের অবস্থার কি উন্নতি হয়েছে

কারখানার পরিবেশ খানিকটা নিরাপদ হলেও পোশাক শ্রমিকদের অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি৷ বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটনা৷ এমনকি দেশে করোনা সংকটের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্প খাতে সরকারের নানা প্রণোদনা ঘোষণার পরও বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে৷ করোনার বিস্তার রোধে জনসমাগম এড়াতে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হলেও পোশাক শ্রমিকদের ব্যাপারে সরকার বা মালিকপক্ষ শুরুতে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি৷  

নানা সমালোচনার পর পোশাক কারখানা বন্ধ করা হলেও সরকারের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই সারধাণ ছুটির মধ্যে শ্রমিকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও চাকরি বাঁচাতে হাজার হাজার শ্রমিক পায়ে হেঁটে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছান৷ সেখনে পৌঁছে জানতে পারেন কারখানা বন্ধ৷ শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণের ব্যাখ্যা কারো কাছেই নেই৷ 

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৭ম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি আরশাদ জামাল দীপু৷ 

তিনি বলেন, ‘‘রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজেডি ছিল জাতীয় পর্যায়ের সংকট, কিন্তু এখন আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়েছি৷ এজন্য হয়তো কিছু সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা গিয়েছে৷ এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা ও কারখানা মালিকগণ দেশের আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করবে৷’’

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এনজিডব্লিউএফ)-এর সভাপতি আমিরুল হক আমিন এ সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা এবং দ্রুত বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানান৷

এসএনএল/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

১৬ এপ্রিলের ছবিঘর দেখুন...

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন