রাতে ২৫ মিটার পথ পাড়ি দেয় জার্মান শম্বুক | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 14.09.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

রাতে ২৫ মিটার পথ পাড়ি দেয় জার্মান শম্বুক

জার্মানির পথপ্রান্তরে, মাঠঘাটে প্রায়ই নানা ধরনের শামুকের গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়৷ বিশেষ করে ‘নগ্ন স্প্যানিশ শামুকরাই’ প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর৷ সাধারণত হালকা শীত ও স্যাঁতসেঁতে গ্রীষ্মকালই এদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী৷

আঁধার হওয়ার সাথে সাথে এরা নিঃশব্দে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসে৷ নানারকম গাছগাছালি, আগাছা ও লতাপাতা খেতে পছন্দ করে তারা৷ গড়িয়ে গড়িয়ে চলে ঘাস, পাথর ইত্যাদির ওপর দিয়ে৷ এক রাতে ২৫ মিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে পারে তারা৷ বলা যায় ‘শম্বুক গতি' প্রবাদটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে৷

Deutschland spanische Wegschnecke

নগ্ন শামুকগুলি থেকে শজারুর মতো প্রাণীও দূরত্ব বজায় রাখে

নানা প্রজাতির শামুক

বাগানে দেখা যায় নানা প্রজাতির শামুক৷ ছোট লেজ বিশিষ্ট দুই সেন্টিমিটার লম্বা, খোলসবিশিষ্ট হালকা রঙের ও ফুটকিওয়ালা কমলা রঙের শামুক ইত্যাদি৷ তারা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আরাম বোধ করে৷ শুষ্কতা এদের বড় শত্রু৷

মালাকোলজি বা শামুক, ঝিনুক প্রভৃতি নরম প্রাণীতত্ত্ববিদ ফোলরাথ ভিসে ১২০,০০০ ধরনের শামুক রয়েছে বলে জানান৷ বিজ্ঞানী ভিসে মিলিয়ন বছর আগের শামুকের খোলস সংগ্রহ করে থাকেন৷ এইসব সামগ্রীর একটি মিউজিয়ামও রয়েছে তাঁর৷ খোলসহীন স্প্যানিশ শামুক পছন্দ নয় এই গবেষকের৷ ‘‘কেননা মানুষ যা পছন্দ করে, সেটা তারা খেয়ে ফেলে৷ আর তাদের চেহারাও আকৃষ্ট করার মতো নয় বলে৷''

আদতে শামুকরা বাস করতো পানিতে৷ বিশেষ করে সাগরের শামুকরা আকৃষ্ট করে বিজ্ঞানী ভিসেকে৷

উপকারীও

খোলোসওয়ালা এক ধরনের শামুক বাগানে গাছপালার কাজে লাগে৷ শুকনা উদ্ভিদ ও অন্যান্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও শামুক খেয়ে থাকে থাকে তারা৷ এই জাতীয় শামুক অনেক জায়গায় মানুষের খাদ্য হিসাবেও প্লেটে আসে৷ অন্যদিকে নগ্ন শামুকগুলি থেকে শজারুর মতো প্রাণীও দূরত্ব বজায় রাখে৷

এগুলির পিছলা দেহ ও তিতা স্বাদ তাদেরও যেন বিবমিষা জাগায়৷ অন্ধকারে এইগুলির ওপর পড়লে পিছলে পড়ার ঘটনাও ঘটে৷

মানুষও দায়ী

শামুকের উপদ্রবের জন্য মানুষও কম দায়ী নয়৷ আগের মতো এখন গ্রামগঞ্জে হাঁস, মুরগি চড়ে বেড়াতে দেখা যায় না, যেগুলি কীটপতঙ্গ ও শামুক খেয়ে কমাতে পারতো ৷ এছাড়া কুকুর বিড়াল পোষার ঝোঁক বাড়ছে মানুষের৷ এইসব প্রাণী আবার শামুকখেকো পাখিগুলিকে দূর করে৷ অভিযোগ করেন কৃষক রুডল্ফ ক্রিং৷

শামুকের উপদ্রবের হাত থেকে বাঁচতে হলে নানা রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে৷ এক ধরনের কীটনাশক দ্রব্য শামুক প্রতিরোধেও কাজ করে৷ কিন্তু এতে রয়েছে ‘মেথিওকার্ব' নামে এক ধরনের স্নায়ুর বিষ৷ তাই এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে শিগগিরই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে৷

শামুকের দেহ প্রোটিন ও পানি দিয়ে তৈরি বলে লবণ দিয়ে প্রাণীগুলিকে দমন করা যায়৷ লবণ তরল পদার্থ শুকিয়ে ফেলতে পারে৷ সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো শামুকগুলি সংগ্রহ করে অন্য কোথাও ছেড়ে দেওয়া৷ তবে প্রতিবেশীর বাগানে নয়৷ সেখান থেকে অনায়াসে তারা আগের জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন