রাজ্যপালের ভূমিকায় গণতন্ত্রের লাভ না ক্ষতি? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 12.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

রাজ্যপালের ভূমিকায় গণতন্ত্রের লাভ না ক্ষতি?

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতদের পরিজনকে নিয়ে রাজভবনে জমায়েত বিজেপির৷ সন্ত্রাস নিয়ে রাজ্যপাল ফের আঙুল তুলেছেন রাজ্যের দিক৷ পাল্টা শাসক দলের কটাক্ষের মুখে পড়েছেন তিনি৷

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলায় জেলায় সহিংস ঘটনা ঘটেছিল৷ বিজেপির দাবি, এসব ঘটনায় নিহতদের একটা বড় অংশ তাদের কর্মী৷ সেসব ঘটনার এক বছর পার হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সরকার যখন ক্ষমতার তৃতীয় দফার প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে, সেই সময় বিজেপি পাল্টা ধারাবাহিক সহিংসতার এক বছরকে স্মরণ করেছে নানা কর্মসূচিতে৷ পালন করেছে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সংকল্প সপ্তাহ’৷

২ মে তৃণমূলের বঙ্গজয়ের প্রথম বছর উপলক্ষে যখন মা-মাটি-মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সময় নিহত কর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশে গঙ্গায় তর্পণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ গত মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে বিজেপি নেতারা ধর্না মঞ্চে নিহতদের পরিবার পরিজনকে নিয়ে আসেন৷ উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ নেতৃত্ব৷ এখান থেকে মিছিল করে রাজভবনে যান প্রতিবাদীরা মিছিলে পা মেলান শহীদ পরিবারের সদস্যরা৷ রাজভবন চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও রাজ্যপালের কার্যালয় থেকে মিছিলের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল৷

অডিও শুনুন 00:45

রাজ্যপাল যদি তাদের কথা না শোনেন, বিরোধীরা যাবে কোথায়: নীলাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপির নেতৃত্বে মিছিল রাজভবন চত্বরে প্রবেশ করে৷ রাজভবনের সিঁড়িতে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল৷ সেখানে এসে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় কথা বলেন নিহতদের পরিজনদের সঙ্গে৷ ‘শহিদ’ পরিবারের কয়েকজন সদস্য রাজ্যপালের পায়ে লুটিয়ে পড়েন৷ তারা বিচার প্রার্থনা করেন রাজ্যপালের কাছে৷ কথা বলেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে৷ এরপর তিনি অতীতের মতোই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন৷ ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য আঙুল তোলেন৷ একইসঙ্গে তোলেন বৈষম্যের অভিযোগ৷ সম্প্রতি রামপুরহাট গণহত্যার পরপরই নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেয় রাজ্য৷ এ নিয়ে ধনখড়ের মন্তব্য, ‘‘রামপুরহাটের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারপিছু পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল৷ কিন্তু রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় দুর্গতরা সাহায্য পাচ্ছেন না৷ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে৷”

তৃণমূল রাজ্যপালের এই ভূমিকার সমালোচনা করেছে৷ তাদের বক্তব্য, রাজভবনে এ ভাবে রাজদরবার বসানো ঠিক হয়নি৷ তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মন্তব্য, ‘‘রাজ্যপাল ঐতিহ্যশালী রাজভবনকে বঙ্গ বিজেপির রঙ্গমঞ্চে পরিণত করেছেন৷” কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণালের কটাক্ষ, ‘‘অমিত শাহের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসুন রাজ্যপাল, যেহেতু সিবিআই তদন্ত করছে৷ এখানে রাজ্য সরকারের কী করণীয়?”

ভিডিও দেখুন 03:26

কী ঘটেছিল রামপুরহাটের গ্রামে

রাজ্যপাল নিয়মিত রাজভবনে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷ সাক্ষাৎপ্রার্থীদের একটা বড় অংশই আসেন বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে৷ কিন্তু রাজভবনের কক্ষের বাইরে প্রকাশ্যে এমন জমায়েতের কথা তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করতে পারছে না৷ তা হলে কি এভাবে দাবির কথা শুনে অনুচিত কাজ করেছেন রাজ্যপাল? রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রাজ্যপাল বিরোধীদের কথা শুনবেন এটা স্বাভাবিক৷ রাজ্যপাল যদি তাদের কথা না শোনেন, বিরোধীরা যাবে কোথায়? বিরোধীরা বিপন্ন বোধ করলে রাজ্যপালের শরণাপন্ন হতে পারে৷ রাজ্যপাল তার মতামতও জানাতে পারেন৷’’

ধনখড় রাজভবনে আসার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে নবান্নের সংঘাত বেঁধেছে। রাজ্যের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রধান একে অপরকে নিশানা করেছেন৷ বিরোধীদের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার রাজ্যপাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন৷ এ সবের পরিপ্রেক্ষিতে নীলাদ্রির বক্তব্য, ‘‘রাজ্যপাল যদি শাসক দলের পাশে দাঁড়াতেন, তা হলে বরং প্রশ্ন উঠত। গণতন্ত্রের শক্তি হচ্ছে বিরোধী দল৷ তাদের কথা বলার প্ল্যাটফর্ম থাকা দরকার৷ রাজ্যপাল সেই ভূমিকাই পালন করেছেন৷ এটা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া৷ এর ফলে গণতন্ত্রই শক্তিশালী হল৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন