রাজাকারদের বিচার হবে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রাজাকারদের বিচার হবে

অপরাধের ধরন অনুযায়ী রাজাকারদের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷ প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সরকার রাজাকারদের একটি তালিকা প্রকাশ করার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আইনমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রকাশিত তালিকা ধরে এ বিচার করা হতে পারে৷ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাচাই-বাছাই করে দেখবে৷ সেখানে অপরাধের ধরন অনুযায়ী রাজাকারদের বিচার হবে৷’’

আনিসুল হক আরও বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের যে তদন্তকারী সংস্থাটি রয়েছে, তারা দেখবে যে, কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷ কার অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতার মধ্যে পড়ে৷ তালিকায় থাকা রাজাকারদের অপরাধের প্রমাণ পেলে নিশ্চয় বিচার হবে৷’’

এদিকে, রোববার সরকারের হাতে থাকা নথির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একাত্তরের রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর বেতনভোগী ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার এমন কোনো তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হলো৷

তালিকা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও বিশিষ্টজনরাও অপরাধের ধরন হিসেব করে রাজাকারদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান৷

অডিও শুনুন 02:09

এই বাহিনীগুলোর অপরাধের মাত্রা ছিল ভয়াবহ: ডা. সারওয়ার আলী

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তালিকাটি আমি ইতিবাচকভাবে দেখি৷ এখন তালিকা করে বসে থাকলে হবে না৷ এদের অপরাধের ধরন দেখে বিচারের আওতায় আনতে হবে৷ তবে সাধারণ রাজাকারদের চেয়ে আল-বদর, আল শামস, আল মুজাহিদ বাহিনীর তালিকা করে তাদের আগে বিচার করতে হবে৷ কারণ এই বাহিনীগুলোর অপরাধের মাত্রা ছিল ভয়াবহ এবং নৃশংস৷ তবে এই তালিকা করা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়৷ সরকারি বিভিন্ন নথি ঘাটলে তাদের তালিকা করা সম্ভব৷’’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চলছে৷ ২০১০ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ বছরে ৪০টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড, আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৯৪ জন মানবতাবিরোধী অপরাধীর৷ এর মধ্যে কারাগারে আটক রয়েছে সাজাপ্রাপ্ত ৪০ জন৷ পলাতক আসামির সংখ্যা ৪৮ জন৷ ৬ জনের বিচারের পর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হয়েছে৷ ট্রাইব্যুনাল যে ৪০টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন সেগুলোতে আসামি ছিলেন ১০৪ জন৷ তাদের মধ্যে রায় হওয়ার আগেই কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আটজন এবং রায়ের আগে পলাতক অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দুইজনের৷

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক হারুন হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নতুন প্রজন্মের সামনে একটি তালিকা দিয়ে যেতে পারাও এক ধরনের সাফল্য৷ আমরাতো অনেক দিন ধরেই রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলে আসছিলাম৷ তার প্রেক্ষিতেই হয়ত এই তালিকাটি আমরা পেলাম৷ এখন এদের বিচারের পালা৷ যারা বেঁচে আছে তাদের চিহ্নিত হবে অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিচার করতে হবে৷ তবে দ্রুত যেটা করা সম্ভব, সেটা হল- ১৯৭৩ সালে ট্রাইব্যুনাল করে বঙ্গবন্ধু যে বিচার করেছিলেন তাদের অনেকেই কারাগারে ছিলেন৷ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ১১ হাজার যুদ্ধপরাধীকে মুক্ত করে দেন৷ এই তালিকায় তাদের কেউ যদি থাকে তাহলে তার বিচার দ্রুত সম্ভব৷’’

অডিও শুনুন 03:44

জিয়াউর রহমান ১১ হাজার যুদ্ধপরাধীকে মুক্ত করেন: হারুন হাবিব

‘তালিকা প্রকাশ নিয়ে কৃতিত্বের কিছু নেই’

রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হেফাজতে থাকা দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷ প্রথম তালিকা রোববারই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে৷ পর্যায়ক্রমে পুরো তালিকা প্রকাশ করা হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমরা কোনো তালিকা তৈরি করছি না৷ যারা একাত্তরে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরোনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেখান থেকেই আমরা এই তালিকা প্রকাশ করেছি৷''

তালিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে? জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতিশাহরিয়ার কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই তালিকা প্রকাশ নিয়ে কৃতিত্বের কিছু নেই৷ গবেষক শামসুল আরেফিনতো ৩৩ হাজার রাজাকারের একটি তালিকা দিয়েছিলেন৷ নিয়াজীতো ৫০ হাজার রিক্রুটের কথা বলেছিলেন৷ এখন এদের তালিকার চেয়ে আল-বদর, আল শামস, আল মুজাহিদসহ যেসব বাহিনী হয়েছিল তাদের তালিকা করাটা জরুরি৷ কারণ ওই বাহিনীর সদস্যরা নির্মম, নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ করেছে৷ এই যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড সেটাতো তারাই করেছিল৷ তাই কঠিন হলেও এই বাহিনীগুলোর সদস্যদের তালিকা করে বিচারের আওতায় আনাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন