রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেই ইরাকে গণতন্ত্রের আশা  | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরাক

রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেই ইরাকে গণতন্ত্রের আশা 

ইরাকের ফেডারেল নির্বাচনে পরাজিতেরা ফল বদলের প্রয়াসে একের পর এক সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রথমবার প্রকৃত বিরোধী কণ্ঠস্বরের উত্থান ঘটছে ইরাকে৷

ফেডারেল নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে বেশ কয়েক মাস ধরে সহিংসতা চলছে ইরাকে৷ মার্কিন দূতাবাসগুলিতে একাধিক হামলার ঘটনাকে বাদ রাখলে সুন্নি মুসলিমদের একটি কার্যালয়ে এবং বাগদাদে ইরাকি কুর্দিশ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গত সপ্তাহে গ্রেনেড হামলা হয়েছে ৷

বাগদাদে দুটি কুর্দিশ ব্যাঙ্কে গ্রেনেড হামলা হয়েছে রোববারে৷ সোমবারে শিয়া মুসলিম এক ধর্মগুরুর বাড়িতে বন্দুক হামলা হয়েছে৷ জানুয়ারির শুরুতে দক্ষিণ পূর্বের মায়সান প্রদেশে শিয়া পার্লামেন্টারি গোষ্ঠীর এক প্রবীণ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে৷ একাধিক হামলার ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে গত অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের ফলপ্রকাশ ঘিরে এসব হচ্ছে৷

পরাজিত হওয়ার পরও ক্ষমতার জন্য হামলা চালাচ্ছে দলগুলো৷ কেউ কোনো হামলার দায় স্বীকার না করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরাজিত দলগুলি নির্বাচনের ফলকে অস্বীকার করতে চাইছে৷ পরবর্তী সরকার গঠনের সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়ছে৷ সাধারণ নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ঠিক করতে একাধিক দলের মধ্যে মাসের পর মাস দর কষাকষি চলছে৷

ইরাকের ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সাইরুন৷ শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সাদরের রাজনৈতিক সহযোগী সাইরুন অন্যদের তুলনায় বেশি আসনে জিতেছে৷ যদিও নির্দিষ্ট কোনও দল নির্বাচনে জয়ী হয়নি৷ ৩২৯টির মধ্যে ৭৩টি আসন পেয়েছে তারা৷

অন্যদিকে ফাতাহ ও তার শরিকেরা পরাজিত হয়েছেন৷ এটি শিয়া মুসলিম দল হলেও ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) সঙ্গে যুক্ত৷ মাত্র ১৭টি আসন পেয়েছে ফাতাহ৷ যেখানে আগের বার ৪৮টি আসন পেয়েছিল এই দল৷ প্রথমদিকে পিএমএফ সাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও পরে তা হারিয়ে ফেলে৷

নিজের দেশের বদলে ইরানের দিকে বেশি ঝুঁকেছিল পিএমএফের একাংশ৷ কারণ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান সবরকম সাহায্য করেছিল৷ কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল এই সব কারণে ফাতাহ ও তার শরিকদের সাধারণ মানুষ পছন্দ করেননি৷

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরাক-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ফানার হাদাদ ডয়চে ভেলেকে জানান, এই গোষ্ঠীর মধ্যে রেষারেষি শিয়া-অধ্যুষিত, জাতিগত-সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম আশঙ্কার কারণ৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবেদন এবং 'আইডেন্টিটি পলিটিক্স'-এর মাধ্যমে আর ইরাকবাসীকে ভোলানো যাবে না৷ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হচ্ছে৷

সাইরুনের সহযোগী আল সাদর বারবার বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ইরানপন্থী পিএমএফের সঙ্গে যুক্ত শিয়া গোষ্ঠীর থেকে দূরে থাকবেন তারা৷ টুইটারে আল-সাদর লেখেন, একটি জাতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠিত হবে৷

পিএমএফ নেতাদের উপর আক্রমণ, পাশাপাশি সুন্নি এবং কুর্দি রাজনীতিবিদ, দল এবং ব্যাংক-এসবই, পরবর্তী সরকার থেকে ফাতাহের বাদ পড়ার সম্ভাবনা এবং ক্ষোভের ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে৷ সুন্নি মুসলিম রাজনীতিবিদকে চিঠিতে আল-সাদরের সঙ্গে সমঝোতা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ তার বাগদাদের অফিসে গ্রেনেড হামলা হয়েছে৷

একটি নতুন নির্বাচনী আইনের অর্থ এই যে প্রথমবার ইরাকের সংসদে একটি প্রকৃত, স্বাধীন বিরোধী দল থাকতে পারে৷ এখন প্রশ্ন হলো ইরান কোন দিকে যাবে? আরও সহিংসতা এবং সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের দিকে, নাকি প্রকৃত গণতন্ত্রের দিকে?

রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ফানার হাদাদের মত, রাজনৈতিক হিংসা অব্যাহত থাকবে৷ তবে গৃহযুদ্ধে নামার চেয়ে একটি চুক্তির সম্ভাবনা বেশি৷ পরবর্তী সরকার থেকে প্রধান হোতাদের বাদ দেওয়া খুব মুশকিল৷ তবে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য  অনেক কিছু হারাতে হতে পারে৷

হাদাদ ডয়চে ভেলেকে জানান, সাইরুন কুর্দি এবং সুন্নি দলগুলির সঙ্গে জোট করলে তাদের এমপিদের সংখ্যা কুর্দি এবং সুন্নি এমপিদের চেয়ে বেশি হবে৷ শিয়া অংশীদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত কি নেবে তারা?

ক্যাথরিন শ্যের/আরকেসি