‘রাজনৈতিক সংঘাত আরো বাড়বে’ | বিশ্ব | DW | 01.04.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘রাজনৈতিক সংঘাত আরো বাড়বে’

সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমবে না, বরং বাড়বে৷ বিএনপি এখন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যে কোনো পথ অবলম্বনে পিছ পা হচ্ছে না৷

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এর মধ্য দিয়েই হয়ত একটি সমাধান আসবে৷

মঙ্গলবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট৷ এই হরতাল আগে ডেকেছিল জামায়াতে ইসলামী শিবির সভাপতি দেলোয়ার হোসাইনের মু্ক্তির দাবিতে৷ কয়েক ঘণ্টা পর আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপিও একই দিন হরতাল ডাকে ১৮ দলের ব্যানারে৷

কিন্তু হরতালের আগেই দেশে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়৷ এই সব সহিংস ঘটনা ঘটে রবি ও সোমবারে৷ সোমবার রাজশাহীতে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে অস্ত্র কেড়ে নেয় শিবির কর্মীরা৷ ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়িসহ ৩টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়৷ দোয়েল চত্বর এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে আগুন দেয়া হয়৷ আগের দিন রবিবার ঢাকাসসহ সারাদেশে অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়৷ বোমার আঘাতে উড়ে যায় এক পুলিশ সদস্যের দুই হাতের কব্জি৷

Delwar Hossain Sayedee Kriegsverbrechen Todesurteil Bangladesch

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সহিংসতা বন্ধ হবে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা এবং সহিংসতা বন্ধ হবে না, আরো বাড়বে৷ তিনি বলেন, বিরোধী দল এখন যে কোনো উপায়ে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য বাধ্য করতে চাইছে৷ এজন্য তাদের হরতালসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি অনেক বেশি সহিংস৷ শুধু তাই নয়, তারা হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার জন্য তাদের কর্মসূচিতে সমর্থন দিচ্ছে৷ সেনাবাহিনীর মাধ্যমেও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা৷ তবে সরকার এখনো তার অনঢ় অবস্থান বজায় রাখায় সংঘাত অনিবার্য৷

ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, এই সংঘাত সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই হয়ত শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানে আসবে সরকার ও বিরোধী দল৷ কিন্তু যতদিন সমঝোতা না হবে ততদিন দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, প্রাণহানি বাড়তেই থাকবে৷ এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ৷ কিন্তু তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখানোর কোনো সংগঠিত জায়গা নেই৷ এটাই দুঃখের বিষয়৷

তিনি বলেন, রিরোধী দল শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে৷ তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের পরিস্থিতি তাদের মতো করে তুলে ধরছে৷ তারা চাইছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক৷ সব মিলিয়ে বিরোধী দল এখন এক সর্বাত্মক রাজনৈতিক যুদ্ধে নেমেছে৷

অন্যদিকে, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়৷ তবে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে তা গ্রহণযোগ্য নয়৷ তিনি মনে করেন, সংলাপের মাধ্যমেই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব৷ কিন্তু ততক্ষণে দেশের ও দেশের মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন