রাজনৈতিক দলের তহবিলে ‘কর্পোরেট ‌অনুদানের′ দরজা খুলে গেল | বিশ্ব | DW | 03.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

রাজনৈতিক দলের তহবিলে ‘কর্পোরেট ‌অনুদানের' দরজা খুলে গেল

সংসদে ক'‌দিন আগেই পাশ হয়েছে অর্থবিল-‌২০১৭৷ মোট ৪০টি ভারতীয় আইনে সংশোধন করা হয়েছে৷ অন্যতমটি হলো, এবার থেকে অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি ‘‌ইলেক্টোরাল বন্ডিং'‌-‌এর মাধ্যমে দলীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷

নতুন আইনে দলগুলোর ‘‌বেনামি তহবিল'‌ আরও মজবুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ ‘‌‘‌এ দেশে ভাষণ দেওয়া এবং সম্পাদকীয় লেখার কাজটা সহজ৷ কিন্তু, বিকল্প ভালো প্রস্তাব দেওয়াটা খুবই কঠিন'‌'‌ — দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে কথাগুলো যিনি বলছিলেন, তিনি ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ আসলে বিগত কিছুদিন ধরে দেশের প্রায় সমস্ত জাতীয় সংবাদপত্রে সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে চাঁদা দেওয়ার আইনি দরজা হাট করে খুলে দেওয়ার সমালোচনা করা হচ্ছিল৷

রাজনৈতিক দলের তহবিল মজবুত করতে ‘‌নির্বাচনী বন্ড'‌ পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা সরকারের৷ এই পদ্ধতিতে দলের তহবিলে মোটা টাকা ঢুকলেও কে বা কারা ওই টাকা দিয়েছে, তা জানাতে বাধ্য থাকবে না দলগুলি৷ একই অধিকার পাবে দাতা কর্পোরেট সংস্থাগুলিও৷ দেশের বহু সংবাদপত্রে সম্পাদকয়ীয় লিখে নিন্দা করা হয়েছে৷ সেই প্রসঙ্গেই দেশের অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য৷ উল্টে ভারতে ‌রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলে অনুদান দেওয়া নিয়ে ভারত সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তার ফলে রাজনীতিতে কালো টাকার প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হবে বলে দাবি করলেন জেটলি৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‌‘‌‌বন্ডের মাধ্যমে অনুদান নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বচ্ছতা আছে ঠিকই, কিন্তু এর থেকে ভালো কোনও প্রস্তাব তাঁর কাছে নেই৷'‌'‌

 অর্থমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ, ‌যদি কেউ গ্রহনযোগ্য কোনও প্রস্তাব দিতে পারেন, তাহলে তিনি অবশ্যই তা গ্রহণ করার কথা ভাববেন৷ আসলে এই প্রশ্নটা এসেছিল, অর্থ বিলের ওপর রাজ্যসভার করা পাঁচটি সংশোধনী নিয়ে৷ ৩০ মার্চ লোকসভায় সব সংশোধনী খারিজ হয়ে গেছে৷ অর্থবিলে এবার জনপ্রতিনিধি আইনের সংশোধনও করেছে মোদী সরকার৷ তাতে বলা হয়েছে, আগে কোনও কর্পোরেট তাদের লাভের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ রাজনৈতিক দলকে দিতে পারত৷

এখন আর কোনও উর্ধ্বসীমা থাকবে না৷ তাছাড়া বাজেটে প্রস্তাবিত বন্ড কিনে রাজনৈতিক দলগুলিকে কোনও কোম্পানি অর্থ সাহায্য করলে তাদের জানাতে হবে না যে, কোন দলকে তারা অর্থ দিয়েছে৷ এর ওপর রাজ্যসভার সংশোধনী ছিল, আগের ব্যবস্থা বহাল থাক৷ সাড়ে সাত শতাংশের বেশি লাভের টাকা রাজনৈতিক দলে দেওয়া যাবে না৷ আর কোন রাজনৈতিক দলকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে৷

লোকসভায় কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল, বিজেডি ছাড়া সরকারের শরিক দল শিবসেনাও এই সংশোধনকে সমর্থন করে৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সরকার তা মানেনি৷ এই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে জেটলির যুক্তি হলো, ‘‌‘‌নাম প্রকাশ করার বিষয়টি থাকলে কর্পোরেটগুলি পিছিয়ে যাবে, কারণ, তাদের একটা আশঙ্কা থাকে সরকার বদল হলে তাদের হেনস্থার মুখে পড়তে হতে পারে৷ এই আশঙ্কার জন্যই আগের ব্যবস্থা সফল হয়নি৷ সে জন্যই এবার নাম জানানোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি৷ এতে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে কালো টাকা আসবে না৷ তবে এতেও পুরো স্বচ্ছতা আসবে না৷'‌'‌

‌অর্থমন্ত্রী জেটলি বলেন, ‘‌‘‌কংগ্রেসের যদি এতে আপত্তি থাকে তো তারা কর্পোরেটের কাছ থেকে শুধু চেক -এ টাকা নি‌ক৷'‌'‌ কংগ্রেসের দীপেন্দর হুডা, বিজেডি-র ভর্তৃহরি মহাতব, তৃণমূলের সৌগত রায়, শিবসেনার আনন্দরাও আদসুল অবশ্য মনে করেন, ‘‌‘‌এতে রাজনৈতিক অনুদানে অস্বচ্ছতা আরও বাড়বে৷'‌'‌

তৃণমূলের বোলপুরের সাংসদ ড.‌ অনুপম হাজরা মনে করছেন, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে বিপুল জয়ের পর ‘‌ধরাকে সরা জ্ঞান'‌ করছে বিজেপি৷ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধীদের যাবতীয় আপত্তিকে উপেক্ষা করে ‘‌অর্থ বিল'‌-‌এর মাধ্যমে একসঙ্গে ৪০টি আইনে সংশোধনী পাশ করিয়ে নেয় কেন্দ্র সরকার৷ এর মধ্যে যেমন রাজনৈতিক দলের অনুদানের বিষয়টি রয়েছে, তেমনি রয়েছে আয়কর আধিকারিকদের অভিযান চালানোর বিষয়টিও৷ তাঁর আশঙ্কা, ‘‌‘‌এতদিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-‌কে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের হেনস্থা করা হয়ে এসেছে৷ অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার আগেই সিবিআই হেফাজতে রেখে মান-‌সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির প্রাথমিক অভিযোগ নেই, তাঁদের জব্দ করতে আয়কর বিভাগের এই নতুন আইনকে হাতিয়ার করবে মোদী সরকার৷'‌'‌

আয়কর দপ্তরের অভিযান-‌সংক্রান্ত নতুন কিছু প্রস্তাব আইনে রূপান্তরিত হয়েছে৷ যেমন, আয়কর দপ্তরের বিবেচনায় যদি কোনও ব্যক্তির বাড়ি অথবা দপ্তরে তল্লাশি চালানো প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে কিছু না জানিয়েই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হতে পারে৷ হিসেব বহির্ভুত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে এবং তাকে আটক করা হতে পারে৷ পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে আয়কর দপ্তরের বিবেচনার ওপর৷

অডিও শুনুন 06:49
এখন লাইভ
06:49 মিনিট

‘আয়কর বিভাগের এই নতুন আইনকে হাতিয়ার করবে মোদী সরকার’

তবে, অর্থমন্ত্রী জেটলি বলেছেন, ‘‌‘‌আয়কর হানা নিয়ে বিরোধীদের আশঙ্কা ঠিক নয়৷'‌'‌ বিরোধীরা বলেছিলেন, ‌সরকার এখন নিয়ম বদল করে এমন ব্যবস্থা করেছে, যাতে আয়কর অফিসাররা ইচ্ছে করলেই যে কোনও লোকের বাড়িতে হানা দিতে পারে এবং তল্লাশি চালাতে পারে৷ জেটলি জানান, ‘‌‘‌এটা একেবারেই ভুল ধারণা৷ আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে৷ কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বাপারে কোনও সন্দেহ হলে বা খবর এলে, প্রথমে রিপোর্ট তৈরি হয়৷ তারপর উঁচু পদে থাকা অফিসারের অনুমতিক্রমে হানা হয়৷ আগেও এই ব্যবস্থা ছিল৷ এখনও তাই থাকবে৷ আদালতের একটা রায়ের পর বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল, সেটা কাটাতেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷'‌'‌

অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘‌‘‌এর আগে একাধিকবার এই বিষয়ে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা হয়েছে৷ কিন্তু, তা সত্ত্বেও দেশে কোথাও কোনও স্বচ্ছতা নেই, স্বচ্ছ টাকাও নেই৷ নির্বাচনে প্রার্থীরা কেউই জানান না তিনি কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন৷ ২০০১ সালে বিজেপি সরকার এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল৷ তখন কংগ্রেস সমর্থন করেছিল৷ ২০১১-তে কংগ্রেস নিয়ম এনেছিল৷ তখন বিজেপি সমর্থন করেছিল৷'‌'‌

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এই অর্থবিলে মোট ৫টি সংশোধনী এনেছিল রাজ্যসভা৷ সেখানে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ লোকসভায় বিল পাশ হওয়ার আগে রাজ্যসভার সঙ্গে সহমত পোষন করে বিশেষত দুটি বিষয়ে ঘোরতর আপত্তি তুলেছিল বিরোধধীরা৷ প্রথমটি হলো, আয়কর আইনে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, এবার থেকে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা যখনতখন সন্দেহভাজন কারও বাড়ি অথবা অফিসে অভিযান চালাতে পারবেন৷

অভিযানকারীরা প্রয়োজন মনে করলেই সেই ব্যক্তিকে আটক করতে পারবেন এবং হিসাব বহির্ভুত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন৷ রাজ্যসভায় বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংশোধনী হিসেবে বিলের এই অংশটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব গৃহিত হয় সেখানে৷ দ্বিতীয়টি হলো, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি এবার থেকে দলীয় চাঁদা হিসেবে ব্যাঙ্কচেক, নগদ, অনলাইন এবং নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে৷ সেক্ষেত্রে ওই রাজনৈতিক দল অথবা সংস্থা কেউই এই লেনদেনের বিবরণ প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য নয়৷

 

এতদিন কর্পোরেট সংস্থাগুলি তাদের বার্ষিক লভ্যাংশের ৭‌.‌৫ শতাংশ কোনও রাজনৈতিক দলকে চাঁদা হিসেবে দিতে পারত এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আয়-‌ব্যায়ের হিসেবের মধ্যে কোন রাজনৈতিক দলকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ থাকত৷ ফিনান্স বিলে কর্পোরেট সংস্থার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার উর্ধ্বসীমা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি কর্পোরেট ও রাজনৈতিক দল উভয়কেই বিষয়টি গোপন রাখার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ এখানেই আপত্তি তুলেছিল রাজ্যসভা৷‌‌ লোকসভায় শাসক দল বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় বিরোধীদের সংশোধনীগুলির সবকটিই খারিজ হয়ে যায়৷

‘‌‘‌‌রাজ্যসভার একটিও সংশোধনী মানা সম্ভব নয়'‌'‌-‌ এই মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ‘‌‘‌ভারতে রাজনৈতিক দল চালাতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন, তা নিয়ে কারও মনে সংশয় নেই৷ তাহলে যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা রেখে টাকা লেনদেন করা উচিত৷ কিন্তু, কোন বানিজ্যিক সংস্থা কোন রাজনৈতিক দলকে কত টাকা দিচ্ছে, তা জনসমক্ষে আসার ফলে একদিকে যেমন সেই সংস্থাকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, ঠিক তেমনি রাজৈতিক দলকেও বিপদে পড়তে হচ্ছে৷ তাই টাকা নেওয়ার ৪টি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে৷ ব্যাঙ্কচেক, নগদ (‌সর্বোচ্চ দু-‌হাজার)‌, অনলাইল এবং বন্ড৷ বিরোধীদের কোনও দল যদি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়, তাহলে এরমধ্যে যেকোনও একটি বেছে নিতেই পারে৷ চেকে টাকা নিলে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছতা বজায় থাকে৷ বন্ডের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হলে যে সংস্থা টাকা দিচ্ছে তারা তাদের বার্ষিক আয়-‌ব্যায়ের হিসেবে শুধুমাত্র ‘‌নির্বাচনী বন্ড'‌ বাবদ কত টাকা খরচ করেছে তার হিসেব দেবে৷'‌'‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়