রাজনৈতিক উসকানি আর আধিপত্য থেকে পাহাড়ে খুনোখুনি | বিশ্ব | DW | 05.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

রাজনৈতিক উসকানি আর আধিপত্য থেকে পাহাড়ে খুনোখুনি

পার্বত্য চট্টগ্রামে খুনোখুনির আশঙ্কা আগেই ছিল৷ হঠাৎ করেই এই ঘটনাগুলো ঘটেনি৷ গত কয়েকমাস মাস ধরে অস্থিরতা ছিল পার্বত্য এলাকার পরিবেশে৷ তারই বিস্ফোরণ ঘটেছে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার৷

default

প্রতীকী ছবি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন৷ ফলে রাজনৈতিক আধিপত্য কাজ করছে৷ পাশাপাশি শান্তিচুক্তির মূল অংশগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া রাজনৈতিক উস্কানির সঙ্গে যোগ হয়েছে৷ এর বাইরে আধিপত্য বিস্তারতো আছেই৷ ওই এলাকায় একটা শ্রেণি নিজেদের বঞ্চিত মনে করে৷ তাদেরও ক্ষোভ আছে৷ সবকিছু মিলিয়ে এমন কিছু যে ঘটতে যাচ্ছে সেটা আঁচ করা যাচ্ছিল অনেকদিন ধরেই৷ প্রশাসন আগে থেকেই পদক্ষেপ নিলে এই খুনোখুনি বন্ধ করা যেত বলে মনে করেন পার্বত্য এলাকা নিয়ে কাজ করা গবেষকরা৷

অডিও শুনুন 02:01
এখন লাইভ
02:01 মিনিট

‘ওখানকার পরিস্থিতির বিস্তারিত বলা যাবে না’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ওখানকার পরিস্থিতির বিস্তারিত বলা যাবে না৷ আমি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় একটা প্রধান কারণ৷ চুক্তির মূল বিষয়গুলোই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি৷ যে কারণে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে৷'' 

তিনি বলেন, ‘‘পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়গুলো এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলো এসব ঘটনায় কাজ করেছে৷ অনেকদিন ধরেই ওখানে একটা গুমোট ভাব আমরা লক্ষ্য করছিলাম৷''

দুই দশক আগের শান্তিচুক্তি পাহাড়ে রক্তক্ষয় অবসানের প্রত্যাশা জাগালেও এরপর থেকে চলছে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর নিজেদের কোন্দল, যার পরিণতিতে গত চার মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন৷ এক সময়ের একক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ভেঙে এখন অন্তত চারটি দল সক্রিয় পাহাড়ে৷ তাদের কোন্দলের সর্বশেষ নজির গত দুই দিনে ছয়জনের মৃত্যু৷

এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা এবং এমন বেপরোয়া হত্যার ঘটনাকে সরকার গুরুত্বসহকারে নিয়েছে৷ ঘটনার পেছনের কারণ আমরা জানতে পেরেছি৷ তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি৷''

অডিও শুনুন 02:23
এখন লাইভ
02:23 মিনিট

‘অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য করছিলাম, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে’

আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর ঘটনায় জড়িত কাউকে কি গ্রেফতার করা গেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘না কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি৷ আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷''

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে সরকার এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তার বিরোধিতায় গড়ে ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)৷ সেই থেকে দুই দলের বিরোধে ২০১৬ পর্যন্ত সশস্ত্র সংঘাতে মারা গেছে প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী৷ ২০১৬ সালে দুই দলের মধ্যে অলিখিত ও অপ্রকাশ্য এক সমঝোতায় সশস্ত্র সংঘাত থামলে কিছুটা স্বস্তি আসে পাহাড়িদের মনে৷ কিন্তু এরই মধ্যে জেএসএস থেকে বেরিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল গড়ে ওঠে, যা সংঘাতে আনে নতুন মাত্রা৷ 

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তিতে এক আলোচনা সভায় জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পাহাড়ে আবার আগুন জ্বালাবে৷

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য করছিলাম, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে৷ আমরা যেহেতু বুঝতে পারছিলাম, আমার মনে হয় প্রশাসনও বুঝতে পেরেছে৷ অথচ তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি৷''

অডিও শুনুন 03:07
এখন লাইভ
03:07 মিনিট

‘হঠাৎ করেই এই খুনোখুনি হয়নি’

তিনি বলেন, ‘‘তারা যদি আগে থেকে ব্যবস্থা নিত তাহলে এই ধরনের খুনোখুনি থামানো যেতে বলেই আমি মনে করি৷ এখানে এখন চারটি গ্রুপ সক্রিয়৷ তারা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে৷ এর সঙ্গে সামনের নির্বাচনও একটা বড় কারণ৷ আর শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া তো আরো বড় কারণ৷ এখনই সমাধানের উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে৷''

এদিকে, পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷ অচিরেই পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি৷ শনিবার বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পাহাড়ে এখন অশান্তি বিরাজ করছে৷ এর আগেও দীর্ঘদিন পাহাড়ে অশান্তি ছিল৷ ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিচুক্তি হয়৷ সেই চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়িদের জন্য অনেকগুলো উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়৷ সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷'' 

এছাড়া, ঢাকায় অন্য এক অনুষ্ঠানে পাহাড়ে রক্তপাতের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সাংবাদিক সারোয়ার সুমন৷ চট্টগ্রামের এই সাংবাদিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হঠাৎ করেই এই খুনোখুনি হয়নি৷ ঘটনার পরম্পরা আমরা যদি দেখি, গত নভেম্বর থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এই এলাকায় বিরাজ করছিল৷ এই ধরনের একটা ঘটনা ওখানে অনিবার্য হয়ে পড়েছিল৷''

তিনি বলেন, ‘‘সর্বশেষ আমরা যেটা দেখলাম দুই দিনে ৬ জন মারা গেলেন৷ এখনই এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি৷ কারণ নির্বাচনের বছরে ওখানে রাজনৈতিক উসকানি যেমন আছে, আছে ক্ষোভ-বিক্ষোভও৷ আর আধিপত্যতো আছেই৷''

উল্লেখ্য, পাহাড়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সোম ও মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছে বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ৷ মাটিরাঙ্গায় অপহৃত তিন বাঙালির মুক্তি, শুক্রবার নানিয়ারচরের বেতছড়িতে হামলায় মাইক্রোবাস চালক সজীব হাওলাদারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে দুই দিনের এই হরতালের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন