রাজনীতির মাঠ কি আবার গরম হচ্ছে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

রাজনীতির মাঠ কি আবার গরম হচ্ছে?

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে৷ এই উত্তেজনা কী রাজনীতির মাঠ গরম হওয়ার আলামত?

প্রায় দেড় বছর ধরে করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে মানুষের সামাজিক জীবনে অনেক সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে৷ এ সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিও খুব একটা দেখা যায়নি৷ এদিকে, দুই বছর পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷

আগের সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে দেখা গেছে নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই বিরোধী দলগুলো দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে উপস্থিত থাকে৷ কিন্তু চলতি সরকারের মেয়াদে দেখা যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি মাঠে খুব একটা সরব নেই৷তবে হঠাৎ করেই দুই বড় দল ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে তা কি আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের নির্বাচন ঘিরে রাজনীতি সক্রিয় হচ্ছে সেটা এখনই বলা যাবে না৷আগস্ট মাসে প্রতি বছরই একটা উত্তেজনা তৈরি হয়, এবারও তেমনটাই হয়েছে বলে মত তাদের৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শান্তনু মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ বার্ষিকী এলে আওয়ামী লীগ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে৷ তারা মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত৷ অন্যদিকে বিএনপিও পাল্টা জবাব দেয়৷ এতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে তেমনটা বলা যাবে না৷ এটা এক ধরনের সাময়িক উত্তেজনা৷’’

অডিও শুনুন 02:11

‘আগস্ট মাস আসলে বিএনপি বেকায়দায় পড়ে’

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভুমিকা, চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি-নেই তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ৷ খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে৷ ওই বক্তব্যের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এগুলো নিয়ে কথা বলেছেন৷ অনেকে সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ারও দাবি তোলেছেন৷ সর্বশেষ শনিবারও এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেন হক বলেছেন, ‘‘জিয়ার কবরে আসলেই লাশ আছে কি-না জানার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক৷’’

বিএনপি নেতারাও আওয়ামী লীগের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিচ্ছেন৷ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ মানুষের দৃষ্টি ভিন্নদিকে নিতে এসব অমূলক অভিযোগ করছে৷ এই সরকার পদে পদে ব্যর্থ হয়েছে৷ এখন তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে৷’’

এই ঘটনার মধ্যদিয়ে কী বিএনপি মাঠে নামার চেষ্টা করছে? জবাবে জনাব প্রিন্স বলেন, ‘‘বিএনপি সব সময় মাঠেই ছিল৷ করোনার কারণে কিছুদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল৷ বিএনপি নির্বাচনমুখী দল, মানুষের সমর্থন নিয়ে দেশ চালাতে চায়৷ কিন্তু বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷’’

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ মনে করেন, বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আগস্টের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই বিএনপির সংশ্লিষ্টতা আছে৷ ১৫ আগস্টের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ২১ আগস্টের সঙ্গে বর্তমান নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত৷ ফলে আগস্ট মাস আসলে তারা বেকায়দায় পড়ে৷ তখন নিজেদের বাঁচাতে তারা উল্টোপাল্টা কথা বলে৷’’

অডিও শুনুন 03:26

‘এই সরকার পদে পদে ব্যর্থ হয়েছে’

আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিজেকে গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে কি-না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ রাজনীতিবিদ বলেন, ‘‘কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সংগঠন গুছিয়ে নেয়৷ করোনার কারণে কিছুদিন রাজনীতি সীমিত পরিসরে চলেছে৷ এই সময়টাতে আওয়ামী লীগ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ এখন পরিস্থিতি একটু ভালো হয়েছে, এই কারণে বিভিন্ন জায়গায় যেখানে সমস্যা আছে সেখানে কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি করা হচ্ছে৷’’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার আওয়ামী লীগের নোয়াখালি জেলা কমিটি ভেঙে আহবায়ক কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা৷ একই সঙ্গে যুবলীগের ঢাকা জেলা কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এখনো রাজনীতির মাঠ গরম হওয়ার মতো কোন পরিস্থিতি দেখছেন না৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘এখন যেটা দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাসহ কিছু বিষয়ে আওয়ামী লীগ অভিযোগ তোলছে, বিএনপি সেটার জবাব দিচ্ছে৷ কিন্তু রাজনীতির মাঠ তখনই গরম হবে, যখন জাতীয় কোনো কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি মাঠে নামবে৷ তাদের তো সে ধরনের কোন প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না৷''

সামনের নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রস্তুতি কী জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‘নির্বাচনতো এখনও বহুদূর৷ এক বছর আগে জাতীয় পার্টি নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করবে৷ এখন দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়