রাজনীতির পাঠ শিখছেন টালিগঞ্জের তারকারা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

রাজনীতির পাঠ শিখছেন টালিগঞ্জের তারকারা

ভোটের ময়দানে তারকাদের ঝলক৷ তৃণমূল ও বিজেপি শামিল তারকা যুদ্ধে৷ এবার তাদের ভোটযুদ্ধে নামার পালা৷ তার প্রস্তুতিতে রাজ্যের শাসক দল তালিম দিচ্ছে টালিগঞ্জের শিল্পীদের৷

ভোটের ময়দানে তারকাদের ঝলক৷ তৃণমূল ও বিজেপি শামিল তারকা যুদ্ধে৷ এবার তাদের ভোটযুদ্ধে নামার পালা৷ তার প্রস্তুতিতে রাজ্যের শাসক দল তালিম দিচ্ছে টালিগঞ্জের শিল্পীদের৷

পশ্চিমবঙ্গে এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচন তারকাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা৷

রাজ্যের প্রধান দুই যুযুধান শিবির, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিতে একের পর এক তারকা যোগ দিচ্ছেন৷ ইতিমধ্যে শাসক দলে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সায়নী ঘোষ, রণিতা দাস, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়৷ অন্যদিকে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার, যশ দাশগুপ্ত প্রমুখ৷ এমনকি রবিবার ব্রিগেডে মোদির সভায় থাকতে পারেন তারকা মিঠুন চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত৷

অন্য মঞ্চে যারা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা কতটা সফল হবেন নতুন ভূমিকায়, এই প্রশ্ন থেকেই যায়৷ অতীতে দেখা গিয়েছে, অনেকেই রাজনীতিতে এসে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচন তারকাদের কাছে নিশ্চয়ই আরও কঠিন পরীক্ষা৷ এদের অনেকের নাম আছে প্রার্থী তালিকায়৷ তারা প্রচারে বেরোবেন৷ বিরোধী যুক্তির জবাব দিতে হবে৷ কিন্তু ঠিকঠাক তালিম না থাকায় অতীতে অনেকেই বেফাঁস মন্তব্য করেছেন৷ তাতে মুখ পুড়েছে সংশ্লিষ্ট দলের৷ সেই ঝুঁকি এড়াতে তৃণমূল কংগ্রেস তারকাদের নিয়ে ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করেছে৷ এই সপ্তাহে তৃণমূল ভবনে দলীয় সাংসদ ডেরেক ও-ব্রায়েন রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ দিয়েছেন রাজ-রণিতা-সুদেষ্ণাদের মতো নবাগত দশ-বারোজন শিল্পীকে৷ শিক্ষক হিসেবে ডেরেক ও-ব্রায়েন বলেন, ‘‘রাজনীতি একটা সিরিয়াস বিষয়৷ জনগনের সামনে পৌঁছতে হবে যাবতীয় তথ্য, পরিসংখ্যান দিয়ে৷ তবে তা অবশ্যই সঠিক হতে হবে৷’’

অডিও শুনুন 01:40

রাজনীতির জ্ঞান বা প্রজ্ঞা এক দুদিনের চর্চায় হয় না: বাদশা মৈত্র

তারকাদের কী শেখানো হয়েছে? তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে৷ বিরোধীদের যুক্তির জবাব দেওয়ার কৌশল শিখিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷ উন্নয়নের পরিসংখ্যান সম্বলিত পুস্তিকা দেওয়া হয়েছে৷ সুদেষ্ণা রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রাজনীতিতে আমরা নতুন৷ যদি রাজনীতিটা ঠিক করে করতে হয়, তাহলে রাজনীতিটা কী নিয়ে করব, রাজ্যের উন্নয়ন বা সমস্যার ছবিটা জানতে হবে৷’’ সুদেষ্ণার মতে, তিনি শুধু নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্যই এই দলে আসেননি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার জন্য তিনি এসেছেন৷ কাজেই ভোটের প্রচারে তিনি থাকবেন৷ তাই তিনি রাজনীতির পাঠ শিখে নিতে প্রস্তুত৷ তার বক্তব্য, ‘‘দশ বছরে রাজ্যে যা উন্নয়ন হয়েছে, সেটা মানুষকে জানাতে হবে৷ বিজেপি অনেক সময়ই যে মিথ্যাচার করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রের তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে৷’’

কিন্তু এতেই কি রাজনীতির মানোন্নয়ন ঘটবে? দীর্ঘদিনের বাম সমর্থক অভিনেতা বাদশা মৈত্র বলেন, ‘‘রাজনীতি করতে হলে বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সমাজের নানা বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে৷ ওয়ার্কশপে তো মিটিংয়ে কী বলবে, সেটা তোতাপাখির মতো পড়িয়ে দেওয়া হয়৷ রাজনীতি করতে গেলে নিজেকে প্রত্যেকদিনের চর্চার মধ্যে রাখতে হয়৷ রাজনীতির জ্ঞান বা প্রজ্ঞা এক দুদিনের চর্চায় হয় না৷’’

অডিও শুনুন 03:48

রাজ্যের উন্নয়ন বা সমস্যার ছবিটা জানতে হবে: সুদেষ্ণা রায়

অতীতে দেখা গিয়েছে, ফিল্ম থেকে উঠে আসা অনেক জনপ্রতিনিধি তাদের দায়িত্ব পালন করেননি৷ তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের লোকসভায় হাজিরার হার ১১ শতাংশ৷ এই দলের সাংসদ সন্ধ্যা রায় তাঁর মেয়াদে সংসদে একটিও প্রশ্ন উত্থাপন করেননি৷ সংসদে বলার মতো কোনও ভূমিকা নেননি মুনমুন সেন৷ এখনকার সাংসদ মিমি চক্রবর্তী ও নুসরত জাহান বিতর্কে অংশগ্রহণ ও প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে নজর কাড়লেও তাদের উপস্থিতির হারও সন্তোষজনক৷ নিজেদের পেশায় ব্যস্ত থাকেন বলেই এই তারকাদের পক্ষে পুরো সময় রাজনীতিতে দেওয়া সম্ভব হয় না৷ তাহলে কেন রাজনীতির মাঠে তাদের পা রাখা? রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক অমল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘একটা দলের রাজনীতি যখন সম্পূর্ণ বন্ধ্যা হয়ে যায়, তখনই অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ভোট চাওয়া হয়৷ একটা দলের নির্দিষ্ট মতাদর্শ, কর্মসূচি থাকলে এসবের দরকার পড়ে না৷’’ তার বক্তব্য, ‘‘সংসদীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী, শাসক দল তাঁদের কাজের পাঁচ বছরের তথ্যনিষ্ট বিবরণ দিয়ে ভোট চাইতে পারে৷ দুর্ভাগ্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল গণতান্ত্রিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বিনোদন জগতের মানুষদের রাজনীতিতে নিয়ে আসছে৷ বলুন তো, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী হয়ে কোন উন্নয়ন ঘটিয়েছেন?’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়