‘রাজনীতির গতি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে নেই′ | বিশ্ব | DW | 03.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘রাজনীতির গতি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে নেই'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. একরাম উল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, এই মুহুর্তে শাসক দলকে ছাপিয়ে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করার শক্তি নেই বিএনপির৷

বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এখন কারাগারে৷ ইতিমধ্যে একটি মামলায় ৫ বছরের সাজাও হয়েছে৷ অপর একটি মামলার বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে৷ সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ৩৪টি মামলা৷

এর মধ্যে ৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও আছে৷ ফলে সহসাই খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে এমনটি মনে হচ্ছে না৷ কোনো কোনো রাজনীতি বিশ্লেষক মনে করেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে মাঠে পরাজিত করার শক্তি বিএনপির নেই৷ ফলে কিছু বিশৃঙ্খলা হলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল যেভাবে চাইবে সেভাবেই নিয়ন্ত্রিত হবে সামনের সময়ে রাজনীতির গতি প্রকৃতি৷

অডিও শুনুন 03:01
এখন লাইভ
03:01 মিনিট

‘এই মুহুর্তে শাসক দলকে বিট করে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করার শক্তিও নেই’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. একরাম উল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সামনে দিনে রাজনীতির গতি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ এখন আর বিএনপির হাতে নেই৷ খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে৷ তিনি খানিকটা স্বৈরতান্ত্রিক৷ ফলে অনেক সিনিয়র নেতা সরাসরি কিছু না বললেও তার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হবেন৷ তবে এই মুহুর্তে শাসক দলকে বিট করে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করার শক্তিও তাদের নেই৷ সাধারণ মানুষের মধ্যে হয়ত কিছু ক্ষোভ আছে, কিন্তু সেটা রাজপথে নামার মতো নয়৷ আবার বিএনপি যেভাবে কর্মসূচী নিয়ে এগুচ্ছে তাতে জনগন উদ্বুর্দ্ধ হয়ে রাজপথে নামবে সেটাও মনে হচ্ছে না৷ ফলে শাসক দলের উপর চাপ সৃষ্টি করার মতো কোন অবস্থা এখন নেই৷ শাসক দল যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই তারা সামনের দিকে এগুচ্ছে৷ ফলে সামনে নতুন কিছু মিলবে তা মনে হয় না৷''

উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এ্যাডভোকেট সগির আহমেদ লিয়ন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৪টি মামলা বিচারাধীন৷'' এখন যে মামলায় তিনি কারাগারে আছেন সেই মামলাটির নিম্ন আদালতের নথির অপেক্ষায় আছেন তারা৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, আগামী দু'একদিনের মধ্যেই নিম্ন আদালতের রায়ের কপি উচ্চ আদালতে পৌঁছে যাবে।''

নথি আসার পরই আমরা রায় পাব বলে আশাবাদী৷ তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেল সবগুলো মামলা নিয়েই কাজ করছে৷ যে ৫টি মামলায় এখনো তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, সেগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি৷''

অডিও শুনুন 01:42
এখন লাইভ
01:42 মিনিট

‘যে পাঁচ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, সেগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি’

এদিকে বিভিন্ন স্থানে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যেভাবে ভোট চাইছেন, তা আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ৷

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের দিন শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই দাবি করে তিন বলেন, ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও রাজশাহী সফরের সময় জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছিল বিএনপি৷ তবে ইসি বলছে, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের করার কিছু নেই৷

মওদুদ বলেন যে, যেহেতু তারা জানেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিতে আছে, তফসিল ঘোষণার পরে উন্নয়নের কোনো ওয়াদা করতে পারবেন না, সেজন্য তারা এই সময়ে সেই সুযোগ নিচ্ছেন৷ এটা অনৈতিক এবং বেআইনি৷

বিপরীতে বিএনপিকে সমাবেশই করতে না দেওয়ার অভিযোগও করেন মওদুদ৷ তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দলকে তালাবদ্ধ করে রাখা, গৃহবন্দি করে রাখা, জেলখানায় রাখা, কোনো সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া এমনকি ঘরোয়া বৈঠক করতেও না দেওয়া- এটা চলতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে৷''

ইসির ‘নিষ্ক্রিয়' ভুমিকার সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন বলছে, তাদের কিছু করার নেই। তাদের (ইসি) তো শক্তি নাই, সাহস নাই৷ তারা তো নিরপেক্ষ না৷ তাহলে তো তারা সরকারের একটি তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠান৷ সেজন্য তারা এই কথা বলেন৷ আজকে যদি ভারতে হত, তাহলে ভারতের চিফ ইলেকশন কমিশনার ব্যবস্থা নিতেন৷ ইসিকে বলব, হয় তাদেরকে বন্ধ করেন, না হয় আমাদেরও অনুমতি দেন, যাতে আমরাও ধানের শীষে ভোট চাইতে পারি৷''

ড. একরাম উল্লাহ’র সঙ্গে আপনি কি একমত? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন