রাজনীতির ‘উঁচু-নিচু′ মাঠ | আলাপ | DW | 03.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

রাজনীতির ‘উঁচু-নিচু' মাঠ

উঁচু নিচু মাঠে খেলা হয় না৷ সম্প্রতি এক রাজনীতিক বলেছেন এ কথা৷ প্রশ্ন হলো, দরজায় যখন নির্বাচন কড়া নাড়ছে, তখন কি নির্বাচন কমিশন উঁচু-নিচু মাঠ রোলার দিয়ে সমতল করতে পেরেছে?

গত ৯ নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন, ‘‘সংসদ ভেঙে দিন অথবা সংসদ সদস্যদের নিষ্ক্রিয় করুন৷ সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দিতে হবে, উঁচু-নিচু মাঠে খেলা হয় না৷''

পরবর্তীতে সাবেক এই বিএনপি নেতা তাঁর দল ও জোট নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন৷ সমঝোতা হবার পরও তিনি একই ধারণায় বিশ্বাস করেন কিনা তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে৷

সে যাই হোক, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রতিদিনেরই বিবেচ্য বিষয়৷ এই বিরাট দায়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের৷ বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর ভূমি সমতল করার কাজে নির্বাহী বিভাগ কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা দিতে বাধ্য৷

কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর গোড়াতেই কিছুটা গলদ দেখা গেল৷ দলের মনোয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সরকারি দল আওয়ামী লীগ যতটা শোডাউন করলো, ততটা করতে পারেনি বিএনপি৷ তারা দু-তিন দিন দেরিতে শুরু করার পর কমিশন পুলিশকে চিঠি দিয়ে তা আচরণবিধির মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করলো৷

অমনি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ল বিএনপির নেতাকর্মীরা৷ যার পরিণতি সহিংস রূপ নিলো৷ বিএনপির দাবি, পুলিশ তাদের কর্মীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়েছে৷ পুলিশ দাবি করেছে, রাস্তার একটি পাশ অন্তত খালি রাখার চেষ্টা করছিলো তারা৷

তবে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর বা আগুনে পোড়ানো বা লাঠিসোটা নিয়ে শোডাউন করা, মোটেই কাম্য ছিল না৷ যতই বিএনপি দাবি করুক যে বাইরে থেকে লোকজন এসে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে, দায় তাদেরই নিতে হবে৷ কিন্তু ঘটনার দায় নির্বাচন কমিশনকেও নিতে হবে৷ কারণ, যখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে পুলিশকে চিঠি পাঠালে তার আগেই পাঠানো উচিত ছিল৷

এমনিতেই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে৷ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ না নেয়ায় প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, দলীয় সরকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর এবারই প্রথম হচ্ছে৷

প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী বহাল থাকছেন স্বপদে৷ সংসদ বহাল থাকায় সরকারি অনেক প্রার্থী সংসদ সদস্য থেকেই নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে পারছেন৷ এ অবস্থায় বিরোধী শিবিরে আশঙ্কা আছে, বা থাকবে এটাই স্বাভাবিক৷

বিশেষ করে বিএনপি নেত্রী কারাগারে অন্তরীণ থাকায়, তাদের মধ্যে অবিশ্বাস বেশি৷ তারওপর বিরোধী দলের নেতাকর্মী অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা আছে৷ নতুন করে দেয়া হয়েছে৷

HA Asien | Zobaer Ahmed

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মামলাগুলোর তালিকায় দেয়া হলে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছিলেন সবাই৷ কিন্তু বিএনপি অভিযোগ করে বলেছে যে, এরপরও মামলা দেয়া থামেনি৷ তারা কমিশনে পরবর্তীতে মামলার তালিকাও জমা দিয়েছে৷ তাই মাঠ সমতল করার ক্ষেত্রে কমিশনকে অনেক বেশি তৎপর থাকতে হবে৷ আর সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও অনেক বেশি সহনশীল হতে হবে৷

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের৷ সরকারের নয়৷ এই কথাটিও সঠিক নয়৷ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং সরকারের৷ সরকার যদি কমিশনকে সহযোগিতা না করে, তাহলে সম্ভব নয়৷

এরই মধ্যে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে পুলিশের বাড়তি তৎপরতায় প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় গণমাধ্যমে৷ মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুষ্ঠুভাবে নির্ভয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে৷

একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে সরকারি দলের প্রচারে ব্যবহার করা ঠিক হবে না৷ সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে পারে আওয়ামী লীগ৷ কিন্তু তার অন্যান্য উপায় আছে৷ নির্বাচনের সময়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ব্যবহার করে তা করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির সঙ্গে আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক কি না তা বিবেচনা করে দেখা দরকার৷

যুবায়ের আহমেদের লেখা আপনাদের কেমন লাগলো লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

বিজ্ঞাপন