রাখাইন ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ, জাতিসংঘের উদ্বেগ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 29.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমার

রাখাইন ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ, জাতিসংঘের উদ্বেগ

বিদ্রোহ দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে আবারও ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী৷ বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ৷

যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণকে রক্ষায় ‘জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের’ আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ৷

মিয়ানমারের পশ্চিমের রাখাইন এবং চিন রাজ্যে আরো স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি এবং তাতমাদা গোষ্ঠীর সঙ্গে বহুদিন ধরেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে৷ যার বলি হতে হয়েছে বহু নিরীহ মানুষকে৷

গত বছর জানুয়ারি থেকে ওই সংঘাতের মাত্রা বাড়তে শুরু করে৷ সংঘাত থেকে বাঁচতে ওই এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে৷ দুই পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে হতাহত হয়েছে শত শত মানুষ৷

নিরীহ ওই মানুষদের মানবাধিকার রক্ষায় রোববার জাতিসংঘ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে ‘দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের' আহ্বান জানানো হয়৷ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়৷

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একটি প্রশাসন থেকে চিঠি দিয়ে ৪০টির বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানানো হয়৷ রয়টার্সের হাতে ওই চিঠির অনুলিপি আছে৷ চিঠির কথা ছড়িয়ে পড়ার পর হাজার হাজার গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে৷

যদিও মিয়ানমার সরকার গত শনিবার ওই চিঠি প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি করেছে৷ সরকারের এক মুখপাত্র জানান, সীমান্ত বিষয়ক কর্মকর্তারা একটি উচ্ছেদ আদেশ জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে৷

গ্রাম প্রধানদের সতর্ক করে গত বুধবার ওই চিঠি লেখা হয়েছিল৷ রাথেডাং পৌরসভার প্রশাসক অং মাইন্ট থেইনের স্বাক্ষরিত চিঠিটিতে গ্রাম প্রধানদের বলা হয়, পৌরসভার কায়ুকতান গ্রাম ও এর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এমন সন্দেহে সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তাকে (প্রশাসককে) অবহিত করা হয়েছে৷

তবে অভিযানের আদেশটি কোথা থেকে এসেছে চিঠিটিতে তার উল্লেখ নেই৷ মন্ত্রী মিন থান রয়টার্সের কাছে তার মন্ত্রণালয় থেকেই ওই নির্দেশটি জারি করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন৷

মিয়ানমার সরকারের যে তিনটি মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর হাতে আছে তার একটি ‘নিরাপত্তা ও সীমান্ত বিষয়ক' মন্ত্রণালয়৷

এর আগে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা অভিযান শুরু হলে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরতে রাজি হয়নি৷ বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পে তারা আশ্রয় নিয়ে আছে৷

এসএনএল/জেডএইচ (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন