রাখাইনে সংঘর্ষ, বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা রোহিঙ্গাদের | বিশ্ব | DW | 26.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মিয়ানমার

রাখাইনে সংঘর্ষ, বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা রোহিঙ্গাদের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষের কারণে এক হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে প্রবেশ করার জন্য সীমান্তে জড়ো হয়েছেন৷ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ জনে৷

শনিবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছেন,‘‘রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনার কারণে নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এক হাজার রোহিঙ্গা৷ তাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গুলি ছুড়েছে৷'' এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মো. মুসা নামের এক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর মারা গেছেন৷

শনিবার দুপুরে এই গুলিবর্ষণের পর সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানিয়েছেন৷ রাখাইনে চলা সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৭৭ জন জঙ্গি (রোহিঙ্গা মুসলিম) এবং ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷


গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের হামলার পর সেনাবাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালায়৷ এই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে৷

মিয়ানমারের নিরপত্তাবাহিনী বলছে, শনিবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা৷ দেশটির নেত্রী অং সান সু চি শুক্রবারে জঙ্গি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন৷ দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, অস্ত্রধারী বিদ্রোহীরা ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট ও একটি সেনাঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালায়৷ এরপর সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানকার অধিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়৷ সরকার জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে তারা কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং রোহিঙ্গা নন এমন গ্রামবাসীদের সেনাঘাঁটি এবং থানাগুলোতে সরিয়ে নিয়ে গেছেন৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক সেনা জানিয়েছেন, ‘‘এঁদের মধ্যে অনেককে হেলিকপ্টারে, আবার অনেককে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷''

১৬ মাস আগে ক্ষমতা গ্রহণ করা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি ১১ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গার নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ অক্টোবরের হামলার পর সংখ্যালঘুদের পক্ষে সু চি কোনে কথা না বলায় নিন্দার মুখে পড়েছেন তিনি৷
শুক্রবারে সহিংসতা শুরু পর থেকে নাফ নদী দিয়ে এক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছেছে৷ কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী তাঁদের সেখানেই আটকে দিয়েছে৷ আগের রাতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক ১৪৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে মিয়ানমারে৷


কক্সবাজারের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘অনেক রোহিঙ্গা দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে চাচ্ছে৷ কিন্তু আমাদের উপর নির্দেশনা রয়েছে, যাতে কাউকেই প্রবেশের অনুমতি না দেয়া হয়৷''
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে এরই মধ্যে সংকটে রয়েছে৷ গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে৷ পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করবে এবং বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কা করছেন তাঁরা৷ জাতিসংঘে নিয়োজিত মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি টুইটারে লিখেছেন, ‘‘উত্তর রাখাইনে ২৫ আগস্টের হামলায় সচেতন হওয়া জরুরি৷ এবং রাখাইনে সহিংসতা এই মুহূর্তে বন্ধ করা উচিত৷''


অক্টোবর হামলায় জড়িত আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি (এআরএসএ) শুক্রবারের হামলারও দায় স্বীকার করেছে৷ এ ধরনের আরো হামলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র এ সংগঠনটি৷ স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, ‘‘দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না৷ চারদিকে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে৷ রাস্তাঘাট-দোকানপাট সবকিছু বন্ধ৷ রাস্তায় কোনে মানুষ চলাফেরা করছে না৷''


যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

মিয়ানমারে সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র হিথার নয়ার্ট বলেছেন, সেনাবাহিনী যেন সেখানকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং আইন ও মানবাধিকার রক্ষা করে কাজ করে৷ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন, গত কয়েক দশক ধরে৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন