রাইসির ইরান কেমন হতে যাচ্ছে? | বিশ্ব | DW | 05.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

রাইসির ইরান কেমন হতে যাচ্ছে?

বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করছেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি৷ এমন এক সময়ে তিনি দেশটির ক্ষমতায় বসছেন যখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে ইরান৷

এতদিন দেশের প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করা এব্রাহিম রাইসি ইরানের নতুন সরকার প্রধান৷ গত ১৮ জুলাই মাত্র ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়া নির্বাচনে জয়ী হন ৬০ বছর বয়সি রাইসি৷ ঘরে-বাইরে তার  নীতি কেমন হবে সেটি বিশ্লেষণের জন্য বিচারক হিসেবে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা যেতে পারে৷ ১৯৭৯ সালের ইরানের বিপ্লবের সময় থেকেই দেশটির বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তিনি৷ সেসময়ে বিপুল রাজনৈতিক বন্দি ও ১৯৮০ এর দশকে বামপন্থিদের মৃত্যুদণ্ডে তিনি সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন৷ পরবর্তীতে সরকারবিরোধি আন্দোলনকারী, মানবাধিকার বা পরিবেশকর্মীদেরও কারাগারে পাঠানোতেও তার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে ৷ এসব ভূমিকার কারণে ২০১৯ সালেই যুক্তরাষ্ট্র রাইসিকে তাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে৷

তেহরান ভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভোটারদের বড় একটি অংশ রাইসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাননি৷ গত চার দশক ধরে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে তার ভূমিকার কথা তাদের ভালোই জানা রয়েছে৷'' নার্গিসের মতে রাইসি ও তার সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হতে যাচ্ছে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি৷

অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের পর থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান৷ তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে অর্থনীতি ছয় শতাংশ সংকুচিত হয়েছে৷ মহামারি সেই পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে৷ দেশটির বাজেট ঘাটতি ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷ বার্ষিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫০ ভাগ, ৭০ ভাগ বেড়েছে খাবারের দাম৷

অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ২০১৯ সালে দেশটির মানুষ রাস্তায় নেমে আসে৷ সেসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংস পদ্ধতিতে সেই আন্দোলন দমন করে৷ আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জন অসন্তোষ আরো বাড়ার আশঙ্কা থাকছে৷ এমন পরিস্থিতি নতুন সরকার কিভাবে সামলাবে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনেকের কাছে৷ দেশটির নাগরিক সমাজের উদ্বেগ আছে পরিবেশ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে৷ কিন্তু রাইসির অতীত অবস্থান থেকে সেখানেও উন্নতির চেয়ে বরং অবনতির আশঙ্কাই দেখেন বিশেষজ্ঞরা৷

নার্গিস মোহাম্মদি বলেন, ‘‘আমি মনে করি না রাইসি আমাদের নাগরিক অধিকার মেনে নিবে কিংবা সংবিধানে দেয়া শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা এনজিও গঠনের অধিকার দিবে৷ তার আশেপাশে যারা আছেন তারা মানবাধিকার বা নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টিই বোঝেন না৷''

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না বিরোধ?

এব্রাহিম রাইসি নির্বাচনী প্রচারে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়টিকে সামনে রাখেন৷ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলতে উদ্যোগী হতে হবে রাইসিকে, এমনটাই মনে করেন ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ  সিনা আজোদি৷ তার মতে, রাইসি সরকারকে একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুই দিকেরই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে৷

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কতটা উদ্যোগী হবেন রাইসি? সেটি নির্ভর করছে ইরানের পরমাণু চুক্তিতে ফেরার সম্ভাবনার উপরে৷  ২০১৮ সালে ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে ইরানের উপর৷ পরবর্তীতে ইরানও নিজেদের চুক্তি থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করে৷ বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর এই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে৷ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিও ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফেরার বিষয়ে ইরানের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন৷ তবে সরকারের পট পরিবর্তনে সেটি কতটা এগুবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অধীনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ৷ ২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো এবং জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করা জারিফই ইরানের পক্ষে পরমাণু আলোচনা এগিয়ে নিয়েছেন৷ সিনা আজাদি বলেন, ‘‘তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে ভালো জানেন৷ জারিফের মতো একজন পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ রাইসির সঙ্গে নেই৷ এটি একটি বড় সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি৷''

পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস রাইসি সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন উপ প্রধান বিচারক আকি বাঘেরি কানি৷ তিনি বরং ইরানের পরমাণু চুক্তির কড়া সমালোচক হিসেবেই পরিচিত৷ যে কারণে কূটনৈতিক সংকটগুলো মোকাবিলায় সামনে খুব একটা ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা৷

জার্মানি যেভাবে দেখছে

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও জার্মানিসহ বাকি রাষ্ট্রগুলো তা প্রত্যাহার করেনি ৷ পরমাণু চুক্তি বিষয়ক আলোচনাই গত আট বছরে জার্মানি-ইরান সম্পর্কের কেন্দ্রে ছিল বলে মনে করেন, জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো কর্নেলিউস আডেভার৷ তবে তার মতে দেশটির অভ্যন্তরীন রাজনীতি, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলোও আলোচনায় থাকা উচিত৷ তিনি বলেন, ‘‘এই ইস্যুগুলোতে জার্মানি তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি৷''

সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইরানের তুলনামূলক উদারপন্থি নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন৷ জার্মান-ইরানিয়ান রাজনীতি বিশেষজ্ঞ আলি ফাতোল্লাহ নেজাদ মনে করেন সেকারণে জার্মানি ও ইউরোপ তার সরকারের আমলে ইরানের অভ্যন্তরীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুগুলোতে চুপ ছিল৷ কিন্তু নতুন সরকারের ক্ষেত্রে এই অবস্থান বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হবে৷

রাইসির অতীত ইতিহাস টেনে জার্মানির সবুজ দলের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র অমিড নুরিপুর বলেন, ‘‘একজন বিচারক যার হাতে রক্তের দাগ রয়েছে তিনি যদি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে আমাদের উচিত হবে সবার আগে মানবাধিকারের ইস্যুকে সামনে রাখা৷'' তার মতে, রুহানি সরকারের আমলেও আন্দোলনকারীদের উপর সরকারের নিষ্ঠুর আচরণের কোন প্রতিবাদ করেনি জার্মানি৷ এই নীরবতার অবশ্যই অবসান হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

অন্যদিকে ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির (এফডিপি) পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র বিজান দিয়ার সারাই মনে করেন, ইরান বিষয়ক একটি নতুন কৌশলপত্র থাকা উচিত জার্মানির৷ সেটি শুধু পরমাণু চুক্তি রক্ষার জন্য চলমান আলোচনা ভিত্তিক যেন না হয় সেই পরামর্শ তার৷

এফএস/কেএম

সংশ্লিষ্ট বিষয়